কীর্তি বলতে এমন কাজ বোঝানো হয়েছে যা কর্তার অনুপস্থিতিতেও মানুষের উপকারে আসতে থাকে — প্রতিষ্ঠান, আবিষ্কার, রচনা বা সমাজ বদলে দেওয়া উদ্যোগ।
বাংলা · ভাবসম্প্রসারণ
কীর্তিমানের মৃত্যু নাই
কীর্তিমানের মৃত্যু নাই — ভাবসম্প্রসারণ মূলভাব, সম্প্রসারিত ভাব ও মন্তব্যসহ।
মূলভাব
দেহের মৃত্যু হলেও কীর্তিমান মানুষ তাঁর কাজের মধ্য দিয়ে বেঁচে থাকেন। মহৎ কীর্তি সময়ের সীমা মানে না।
সম্প্রসারিত ভাব
পৃথিবীতে প্রতিদিন অসংখ্য মানুষ জন্মায় ও মারা যায়, কিন্তু ইতিহাস সবাইকে মনে রাখে না। মনে রাখে তাঁদেরই, যাঁরা এমন কিছু রেখে গেছেন যা পরবর্তী প্রজন্মের কাজে লাগে — একটি আবিষ্কার, একটি প্রতিষ্ঠান, একটি আন্দোলন কিংবা একটি বই।
কীর্তির বৈশিষ্ট্য হলো, তা মানুষের অনুপস্থিতিতেও কাজ করতে থাকে। যিনি বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা করেছেন, তাঁর মৃত্যুর পরও সেখানে শিক্ষার্থী পড়ে; যিনি চিকিৎসা পদ্ধতি উদ্ভাবন করেছেন, তাঁর অবর্তমানেও রোগী সুস্থ হয়।
কীর্তি মানেই বিশ্বখ্যাতি নয়। একজন শিক্ষক যদি প্রজন্মের পর প্রজন্ম শিক্ষার্থীর মনে দাগ কাটেন, একজন কৃষক যদি নতুন কৌশল শিখিয়ে যান — সেগুলোও কীর্তি, ছোট পরিসরে হলেও স্থায়ী।
বিপরীত দিকটিও ভাবা দরকার। যে কেবল নিজের ভোগ নিয়ে ব্যস্ত থাকে, সে মৃত্যুর সঙ্গে সঙ্গেই বিস্মৃত হয়। ভোগ ফুরিয়ে যায়, কীর্তি থেকে যায়।
মন্তব্য
তাই আয়ু বাড়ানোর চিন্তার চেয়ে কীর্তি গড়ার চেষ্টাই মূল্যবান। কীর্তিমানের মৃত্যু কেবল দেহের, নামের নয়।
উপযোগী শ্রেণি: নবম-দশম, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি।
সচরাচর জিজ্ঞাসা
যায়। খ্যাতি নয়, স্থায়িত্বই কীর্তির শর্ত। ছোট পরিসরে করা কাজও যদি পরবর্তী প্রজন্মের উপকারে লাগে, তবে তা কীর্তি হিসেবেই গণ্য।
আরও ভাবসম্প্রসারণ পড়ো
ভাবসম্প্রসারণ-এর পূর্ণ তালিকা ও বাংলা লেখার অন্যান্য অংশ এক জায়গায়।
আমাদের সাথে যুক্ত থাকো
পড়াশোনার আপডেট, সাজেশন ও প্রশ্নোত্তর সবার আগে পেতে আমাদের ফেসবুক পেজ ও গ্রুপে যুক্ত হও।






















