একাদশ শ্রেণিতে ভর্তি ২০২৬-২৭ — সময়সূচি ও সর্বশেষ তথ্য
To read this in English, visit: Class XI Admission 2026-27 — Schedule and the Latest
এসএসসি ২০২৬-এর ফল প্রকাশিত হয়েছে ১০ আগস্ট ২০২৬, আর তার পরপরই শুরু হয় একাদশ শ্রেণিতে ভর্তির মৌসুম। এই পাতায় ২০২৬-২৭ শিক্ষাবর্ষের ভর্তি নিয়ে যা যা নিশ্চিতভাবে জানা গেছে তা এক জায়গায় রাখা হয়েছে — আর যা এখনো জানা যায়নি, সেটাও স্পষ্ট করে বলা হয়েছে।
এই দ্বিতীয় অংশটি গুরুত্বপূর্ণ। এই মুহূর্তে বহু ওয়েবসাইট নির্দিষ্ট তারিখ দিয়ে "ভর্তি বিজ্ঞপ্তি ২০২৬" প্রকাশ করছে, অথচ সেগুলো গত শিক্ষাবর্ষের সময়সূচি — সাল বদলে দেওয়া। ভুল তারিখ ধরে অপেক্ষা করলে আসল আবেদনের সময় হাতছাড়া হতে পারে।
একাদশ ভর্তি ২০২৬-২৭ — এখন পর্যন্ত যা নিশ্চিত
| বিষয় | তথ্য |
|---|---|
| এসএসসি ২০২৬ ফল প্রকাশ | ১০ আগস্ট ২০২৬ |
| ভর্তি যার ভিত্তিতে | এসএসসি ও সমমান পরীক্ষার ফলাফল |
| ভর্তি পরীক্ষা | কেন্দ্রীয় পদ্ধতিতে নেই |
| ভর্তি শেষ করতে হবে | ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬ |
| আবেদনের ঠিকানা | xiclassadmission.gov.bd |
| চূড়ান্ত নীতিমালা | এখনো প্রকাশিত হয়নি |
সতর্ক থেকো: অনেক ওয়েবসাইট গত বছরের (২০২৫-২৬) সময়সূচি শুধু সাল বদলে "২০২৬-২৭" বলে প্রকাশ করছে। সেটি হতে পারে না — এসএসসি ২০২৬-এর ফলই প্রকাশিত হয়েছে ১০ আগস্ট ২০২৬, তাই তার আগে আবেদন শুরু হওয়া অসম্ভব।
এখন তোমার কী করা উচিত
নীতিমালা প্রকাশের অপেক্ষায় বসে না থেকে যে কাজগুলো এখনই করে রাখা যায়, সেগুলো সেরে ফেলো। আবেদনের সময় হাতে থাকে মাত্র কয়েক দিন, আর তখন তাড়াহুড়োয় ভুল হয়।
- এসএসসির মার্কশিট, রেজিস্ট্রেশন কার্ড ও প্রশংসাপত্র হাতের কাছে রাখো, আর রোল-রেজিস্ট্রেশন নম্বর আলাদা করে লিখে রাখো।
- ফল নিয়ে সন্দেহ থাকলে পুনর্নিরীক্ষণের সময়সীমা মিস কোরো না — ভর্তির আবেদনের আগেই এই ধাপটি সেরে ফেলা ভালো।
- গ্রুপ ঠিক করো। বিজ্ঞান থেকে মানবিক বা ব্যবসায় শিক্ষায় যাওয়া যায়, কিন্তু উল্টোটা যায় না — তাই এই সিদ্ধান্তটি আবেদনের আগেই নিতে হবে।
- ১০টি কলেজের একটি খসড়া তালিকা বানিয়ে রাখো, আর প্রত্যেকটির শিফট ও ভার্সন মিলিয়ে নাও।
- একটি সচল মোবাইল নম্বর ঠিক করে রাখো, যেটি পুরো ভর্তি প্রক্রিয়া জুড়ে খোলা থাকবে।
আবেদন করার ধাপগুলো
পুরো প্রক্রিয়াটি অনলাইনে, একটিই আবেদনে। xiclassadmission.gov.bd-এ ঢুকে এসএসসির তথ্য দিয়ে নিজেকে শনাক্ত করতে হয়, তারপর পছন্দের কলেজগুলো ক্রম অনুযায়ী সাজিয়ে ফি দিতে হয়। কোনো কাগজ জমা দিতে হয় না, কোনো কলেজে সশরীরে যেতে হয় না।
- xiclassadmission.gov.bd-এ গিয়ে এসএসসির রোল নম্বর, বোর্ড, পাসের সাল ও রেজিস্ট্রেশন নম্বর দিয়ে শুরু করো। তথ্য মিলে গেলে তোমার ফল ও ছবি স্বয়ংক্রিয়ভাবে চলে আসবে।
- একটি সচল মোবাইল নম্বর দাও — ফল ও নিশ্চায়নের সব এসএমএস এই নম্বরেই আসবে, তাই নিজের বা অভিভাবকের এমন নম্বর দাও যেটি পুরো প্রক্রিয়ায় খোলা থাকবে।
- কলেজ খুঁজে পছন্দক্রমে যোগ করো। মনে রেখো, শিফট, ভার্সন ও গ্রুপ আলাদা আলাদা পছন্দ হিসেবে গোনা হয় — একই কলেজের দুই শিফট মানে দুটি পছন্দ।
- ক্রমটি ভালো করে দেখে নাও। নির্বাচন হয় উপর থেকে নিচে — যে কলেজে তুমি যোগ্য, তালিকায় সেটির সবচেয়ে উপরের নামটিতেই তোমাকে ফেলা হবে।
- মোবাইল ব্যাংকিংয়ে আবেদন ফি পরিশোধ করে আবেদন চূড়ান্ত করো, আর নিশ্চিতকরণের এসএমএস বা পিডিএফটি সংরক্ষণ করো।
- ফল প্রকাশের পর নির্ধারিত সময়ের মধ্যে নিশ্চায়ন করো। এই ধাপটি বাদ পড়লে নির্বাচন বাতিল হয়ে যায় এবং পরের ধাপে নতুন করে আবেদন করতে হয়।
২০২৬-২৭ শিক্ষাবর্ষের চূড়ান্ত ভর্তি নীতিমালা প্রকাশের পর সংখ্যা ও তারিখ বদলাতে পারে। আবেদনের আগে xiclassadmission.gov.bd-এ প্রকাশিত সর্বশেষ বিজ্ঞপ্তি মিলিয়ে নাও। এই পাতার তথ্য সর্বশেষ যাচাই করা হয়েছে ১৩ আগস্ট ২০২৬।
ধাপগুলো কীভাবে কাজ করে
ভর্তি এক ধাপে শেষ হয় না। প্রথম ধাপের ফলে যারা নির্বাচিত হয় না, বা নির্বাচিত হয়েও নিশ্চায়ন করে না, তাদের আসন ছেড়ে দেওয়া হয় — আর সেই আসনগুলো নিয়ে পরের ধাপ শুরু হয়। সাধারণত তিনটি ধাপ থাকে।
মাইগ্রেশন আলাদা জিনিস। নিশ্চায়ন করার পরেও যদি তোমার পছন্দক্রমের উপরের দিকের কোনো কলেজে আসন খালি হয়, ব্যবস্থাটি তোমাকে সেখানে সরিয়ে নেয়। মাইগ্রেশন সবসময় উপরের দিকে হয় — নিচের দিকে কখনো নয়, আর এতে আগের আসনটি হারানোর ঝুঁকি নেই।
- নির্বাচিত হয়েছ + নিশ্চায়ন করেছ → আসন তোমার, আর মাইগ্রেশনে উপরে ওঠার সুযোগ খোলা থাকে।
- নির্বাচিত হয়েছ + নিশ্চায়ন করোনি → নির্বাচন বাতিল, পরের ধাপে নতুন করে আবেদন করতে হবে।
- নির্বাচিত হওনি → পরের ধাপে আবেদন করো, এবার পছন্দক্রমে বাস্তবসম্মত কলেজ বেশি রাখো।
২০২৬-২৭ শিক্ষাবর্ষের চূড়ান্ত ভর্তি নীতিমালা প্রকাশের পর সংখ্যা ও তারিখ বদলাতে পারে। আবেদনের আগে xiclassadmission.gov.bd-এ প্রকাশিত সর্বশেষ বিজ্ঞপ্তি মিলিয়ে নাও। এই পাতার তথ্য সর্বশেষ যাচাই করা হয়েছে ১৩ আগস্ট ২০২৬।
গত বছর ধাপগুলো যেভাবে চলেছিল
নতুন বিজ্ঞপ্তি না আসা পর্যন্ত গত শিক্ষাবর্ষের (২০২৫-২৬) সময়সূচিই সবচেয়ে ভালো ধারণা দেয়। ধাপের সংখ্যা, নিশ্চায়ন ও মাইগ্রেশনের নিয়ম বছরের পর বছর প্রায় একই থাকে; বদলায় মূলত তারিখ আর আবেদন ফি।
| ধাপ | ২০২৫-২৬ শিক্ষাবর্ষে |
|---|---|
| আবেদন শুরু | ৩০ জুলাই ২০২৫ |
| আবেদন শেষ | ১১ আগস্ট ২০২৫ |
| ১ম পর্যায়ের ফল | ২০ আগস্ট ২০২৫ |
| কলেজে ভর্তি | ৭–১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৫ |
| ক্লাস শুরু | ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৫ |
| আবেদন ফি | ২২০ টাকা |
| পছন্দক্রম | সর্বনিম্ন ৫টি, সর্বোচ্চ ১০টি |
২০২৬-২৭ শিক্ষাবর্ষের চূড়ান্ত ভর্তি নীতিমালা প্রকাশের পর সংখ্যা ও তারিখ বদলাতে পারে। আবেদনের আগে xiclassadmission.gov.bd-এ প্রকাশিত সর্বশেষ বিজ্ঞপ্তি মিলিয়ে নাও। এই পাতার তথ্য সর্বশেষ যাচাই করা হয়েছে ১৩ আগস্ট ২০২৬।
আরও পড়ো
- একাদশ শ্রেণিতে ভর্তি — মূল পাতা
- xiclassadmission.gov.bd ব্যবহারের গাইড
- শহরভিত্তিক সেরা কলেজ
- ঢাকার সেরা কলেজের তালিকা
- সব কলেজের ভর্তি বিজ্ঞপ্তি
- নটর ডেম কলেজ — আসন, জিপিএ ও ভর্তি পরীক্ষা
- হলি ক্রস কলেজ — ছাত্রীদের নিজস্ব পরীক্ষার কলেজ
- সেন্ট জোসেফ — ১০০ নম্বরের লিখিত পরীক্ষা
- এসএসসি ফলাফল ও পুনর্নিরীক্ষণ
- একাদশে কোন গ্রুপ নেবে
সাধারণ জিজ্ঞাসা
১৩ আগস্ট ২০২৬ পর্যন্ত তারিখ ঘোষণা করা হয়নি, কারণ ভর্তি নীতিমালাই প্রকাশিত হয়নি। যে ওয়েবসাইটগুলো এখনই নির্দিষ্ট তারিখ দেখাচ্ছে সেগুলো গত বছরের সময়সূচি দেখাচ্ছে। ঘোষণা আসবে xiclassadmission.gov.bd ও শিক্ষা বোর্ডের বিজ্ঞপ্তিতে।
গত শিক্ষাবর্ষে ফি ছিল ২২০ টাকা, তার আগের বছর ছিল ১৫০ টাকা — অর্থাৎ এটি বছরভেদে বদলায়। ২০২৬-২৭-এর ফি নীতিমালা প্রকাশের পর জানা যাবে।
সাধারণত সর্বশেষ তিন বছরের পাস করা শিক্ষার্থীরা আবেদন করতে পারে — গত শিক্ষাবর্ষে যেমন ২০২৩, ২০২৪ ও ২০২৫ সালের পাস করা শিক্ষার্থীরা যোগ্য ছিল। এবারের নীতিমালায় সালগুলো নিশ্চিত করা হবে।
শিক্ষা বোর্ডের ঘোষণা অনুযায়ী দেশের সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে একাদশ শ্রেণির ভর্তি ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬-এর মধ্যে শেষ করতে হবে। এটিই এখন পর্যন্ত ঘোষিত একমাত্র নির্দিষ্ট তারিখ।
আমাদের সাথে যুক্ত থাকো
পড়াশোনার আপডেট, সাজেশন ও প্রশ্নোত্তর সবার আগে পেতে আমাদের ফেসবুক পেজ ও গ্রুপে যুক্ত হও।






















