অর্থ নিজে নিরপেক্ষ; দোষ অর্থের প্রতি অসংযত লোভের। ভাবসম্প্রসারণে এই পার্থক্যটি স্পষ্ট করলে উত্তরটি পরিণত ও ভারসাম্যপূর্ণ হয়।
বাংলা · ভাবসম্প্রসারণ
অর্থই অনর্থের মূল
অর্থই অনর্থের মূল — ভাবসম্প্রসারণ মূলভাব, সম্প্রসারিত ভাব ও মন্তব্যসহ।
মূলভাব
অর্থ নিজে দোষী নয়, কিন্তু অর্থের প্রতি অসংযত লোভই বহু অনর্থের জন্ম দেয়। সীমা ছাড়িয়ে গেলে অর্থ মানুষের শান্তি, সম্পর্ক ও নৈতিকতা কেড়ে নেয়।
সম্প্রসারিত ভাব
জীবনযাপনের জন্য অর্থ অপরিহার্য — খাদ্য, বস্ত্র, বাসস্থান, চিকিৎসা ও শিক্ষা সবই অর্থনির্ভর। এ পর্যন্ত অর্থ কল্যাণকর। সমস্যা শুরু হয় তখনই, যখন অর্থ উপায় থেকে লক্ষ্যে পরিণত হয় এবং যেকোনো মূল্যে তা বাড়ানোই একমাত্র উদ্দেশ্য হয়ে দাঁড়ায়।
অতিরিক্ত অর্থলিপ্সা থেকেই জন্ম নেয় দুর্নীতি, ভেজাল, প্রতারণা ও সহিংসতা। সম্পত্তির ভাগ নিয়ে আত্মীয়ে আত্মীয়ে বিরোধ, ব্যবসায় অসাধু প্রতিযোগিতা, এমনকি রাষ্ট্রে রাষ্ট্রে যুদ্ধ — অনেকেরই মূলে থাকে সম্পদের লোভ। অর্থ তখন সুখ আনে না, বরং নিরাপত্তাহীনতা বাড়ায়।
অন্যদিকে সৎপথে উপার্জিত ও সংযতভাবে ব্যয়িত অর্থ সমাজের উপকার করে। যে ব্যক্তি অর্থকে দায়িত্ব হিসেবে দেখেন, তিনি শিক্ষা, চিকিৎসা ও দুর্গতের সাহায্যে তা কাজে লাগান।
সমাজে অর্থ বণ্টনের রীতিগুলোও একই শিক্ষা দেয়। দান, জাকাত কিংবা কল্যাণ তহবিলের মতো ব্যবস্থাগুলো তৈরিই হয়েছে যাতে সম্পদ কেবল কয়েকজনের হাতে জমে না থাকে। যেখানে অর্থ চলাচল করে, সেখানে তা কর্মসংস্থান ও সেবা তৈরি করে; যেখানে তা কুক্ষিগত হয়, সেখানেই বৈষম্য ও বিরোধ মাথাচাড়া দেয়।
মন্তব্য
তাই অর্থকে জীবনের উপায় ভাবা উচিত, উদ্দেশ্য নয়। সংযম ও সততা থাকলে অর্থ অনর্থ নয়, কল্যাণের হাতিয়ার হয়ে ওঠে।
উপযোগী শ্রেণি: অষ্টম, নবম-দশম শ্রেণি।
সচরাচর জিজ্ঞাসা
ভেজাল ও দুর্নীতি, সম্পত্তি নিয়ে পারিবারিক বিরোধ, অসাধু ব্যবসায়িক প্রতিযোগিতা — এ ধরনের চেনা উদাহরণ ব্যবহার করলে যুক্তি বিশ্বাসযোগ্য হয়।
আরও ভাবসম্প্রসারণ পড়ো
ভাবসম্প্রসারণ-এর পূর্ণ তালিকা ও বাংলা লেখার অন্যান্য অংশ এক জায়গায়।
আমাদের সাথে যুক্ত থাকো
পড়াশোনার আপডেট, সাজেশন ও প্রশ্নোত্তর সবার আগে পেতে আমাদের ফেসবুক পেজ ও গ্রুপে যুক্ত হও।






















