শব্দ বা ধাতুর সঙ্গে যুক্ত হয়ে যে বর্ণ বা বর্ণসমষ্টি পদ গঠন করে, তাকে বিভক্তি বলে। এটি দুই প্রকার — শব্দবিভক্তি ও ক্রিয়াবিভক্তি।
বাংলা · বাংলা ব্যাকরণ
বিভক্তি — শব্দবিভক্তি ও ক্রিয়াবিভক্তি
বিভক্তির সংজ্ঞা, সাতটি শব্দবিভক্তির তালিকা এবং বিভক্তি ও অনুসর্গের পার্থক্য।
সংজ্ঞা
শব্দ বা ধাতুর সঙ্গে যুক্ত হয়ে যে বর্ণ বা বর্ণসমষ্টি পদ গঠন করে, তাকে বিভক্তি বলে। বিভক্তি দুই প্রকার — শব্দবিভক্তি ও ক্রিয়াবিভক্তি।
বিস্তারিত আলোচনা
শব্দের সঙ্গে যে বিভক্তি যুক্ত হয়ে বিশেষ্য বা সর্বনাম পদ গঠন করে, তাকে শব্দবিভক্তি বা নামবিভক্তি বলে। আর ধাতুর সঙ্গে যুক্ত হয়ে যে বিভক্তি ক্রিয়াপদ গঠন করে, তাকে ক্রিয়াবিভক্তি বলে। "ছেলেটিকে" শব্দে "কে" শব্দবিভক্তি, আর "পড়ছে" শব্দে "ছে" ক্রিয়াবিভক্তি।
বাংলা শব্দবিভক্তি সাতটি ভাগে সাজানো হয়। প্রথমা বা শূন্য বিভক্তিতে কোনো চিহ্ন থাকে না — "ছেলে যায়"। দ্বিতীয়ায় বসে কে, রে — "ছেলেকে ডাকো"। তৃতীয়ায় বসে দ্বারা, দিয়ে, কর্তৃক। চতুর্থীতে কে, জন্য, নিমিত্ত। পঞ্চমীতে হতে, থেকে, চেয়ে। ষষ্ঠীতে র, এর। আর সপ্তমীতে এ, য়, তে।
বিভক্তি ও অনুসর্গের পার্থক্য মনে রাখা দরকার। বিভক্তি শব্দের সঙ্গে জুড়ে বসে, আলাদা করে লেখা যায় না — "ছেলেটিকে"। অনুসর্গ আলাদা শব্দ হিসেবে পাশে বসে — "ছেলেটির জন্য"। কারক নির্ণয়ের প্রশ্নে বিভক্তি চিহ্নিত করতে বলা হয় বলে এই তালিকাটি ভালোভাবে মুখস্থ রাখা কাজে দেয়।
মনে রাখার কথা
বিভক্তি শব্দের সঙ্গে জুড়ে বসে, আর অনুসর্গ আলাদা শব্দ হয়ে পাশে বসে — এটিই মূল পার্থক্য।
উপযোগী শ্রেণি: নবম, দশম, একাদশ, দ্বাদশ শ্রেণি।
সচরাচর জিজ্ঞাসা
যেখানে শব্দের সঙ্গে কোনো দৃশ্যমান বিভক্তিচিহ্ন যুক্ত হয় না, তাকে শূন্য বা প্রথমা বিভক্তি বলে — যেমন "ছেলে যায়" বাক্যে "ছেলে"।
বিভক্তি শব্দের সঙ্গে জুড়ে বসে এবং আলাদা করে লেখা যায় না; অনুসর্গ স্বতন্ত্র শব্দ হিসেবে পদের পাশে বসে — যেমন "ছেলেটির জন্য"।
আরও বাংলা ব্যাকরণ পড়ো
বাংলা ব্যাকরণ-এর পূর্ণ তালিকা ও বাংলা লেখার অন্যান্য অংশ এক জায়গায়।
আমাদের সাথে যুক্ত থাকো
পড়াশোনার আপডেট, সাজেশন ও প্রশ্নোত্তর সবার আগে পেতে আমাদের ফেসবুক পেজ ও গ্রুপে যুক্ত হও।






















