যে শব্দ অন্য একটি শব্দের সম্পূর্ণ বিপরীত অর্থ প্রকাশ করে, তাকে বিপরীতার্থক শব্দ বলে — যেমন আলো-অন্ধকার, সৃষ্টি-ধ্বংস।
বাংলা · বাংলা ব্যাকরণ
বিপরীতার্থক শব্দ — গঠনের নিয়ম ও উদাহরণ
বিপরীত শব্দের সংজ্ঞা, তিন পদ্ধতিতে গঠন এবং প্রসঙ্গভেদে একাধিক বিপরীত শব্দের ব্যাখ্যা।
সংজ্ঞা
যে শব্দ অন্য একটি শব্দের সম্পূর্ণ বিপরীত অর্থ প্রকাশ করে, তাকে বিপরীতার্থক শব্দ বা বিপরীত শব্দ বলে।
বিস্তারিত আলোচনা
আলো-অন্ধকার, উত্থান-পতন, সৃষ্টি-ধ্বংস, আদি-অন্ত — এই জোড়াগুলোর প্রতিটিতে দ্বিতীয় শব্দটি প্রথমটির উল্টো অর্থ বহন করে। ভাষায় বৈপরীত্য প্রকাশের জন্য এই জোড়াগুলো অপরিহার্য, এবং তুলনা বা বিতর্কমূলক লেখায় এদের ব্যবহার সবচেয়ে বেশি।
বিপরীত শব্দ তৈরির কয়েকটি চেনা পদ্ধতি আছে। নঞর্থক উপসর্গ যোগ করে — সৎ থেকে অসৎ, সম্ভব থেকে অসম্ভব, সাধারণ থেকে অসাধারণ। বিপরীত অর্থের উপসর্গ বদলে — উত্থান থেকে পতন, আগমন থেকে নির্গমন। আবার সম্পূর্ণ ভিন্ন শব্দ দিয়ে — জন্ম থেকে মৃত্যু, দিন থেকে রাত, শত্রু থেকে মিত্র।
সাবধান থাকতে হয় দুটি জায়গায়। প্রথমত, উপসর্গ যোগ করলেই সবসময় শুদ্ধ বিপরীত শব্দ পাওয়া যায় না — "উন্নতি"র বিপরীত "অবনতি", "অউন্নতি" নয়। দ্বিতীয়ত, অনেক শব্দের একাধিক বিপরীত হতে পারে প্রসঙ্গভেদে — "কাঁচা"র বিপরীত ফলের ক্ষেত্রে "পাকা", কিন্তু রাস্তার ক্ষেত্রেও "পাকা", আবার কাজের ক্ষেত্রে "দক্ষ"।
মনে রাখার কথা
উপসর্গ জুড়ে দিলেই বিপরীত শব্দ হয় না — প্রচলিত শুদ্ধ জোড়াটিই লিখতে হয়।
উপযোগী শ্রেণি: নবম, দশম, একাদশ, দ্বাদশ শ্রেণি।
সচরাচর জিজ্ঞাসা
নঞর্থক উপসর্গ যোগে (সৎ-অসৎ), বিপরীত অর্থের উপসর্গ বদলে (উত্থান-পতন), অথবা সম্পূর্ণ ভিন্ন শব্দ দিয়ে (জন্ম-মৃত্যু)।
অবনতি। এখানে কেবল নঞ উপসর্গ যোগ করে "অউন্নতি" লেখা ভুল হবে, কারণ প্রচলিত ও শুদ্ধ জোড়াটি হলো উন্নতি-অবনতি।
আরও বাংলা ব্যাকরণ পড়ো
বাংলা ব্যাকরণ-এর পূর্ণ তালিকা ও বাংলা লেখার অন্যান্য অংশ এক জায়গায়।
আমাদের সাথে যুক্ত থাকো
পড়াশোনার আপডেট, সাজেশন ও প্রশ্নোত্তর সবার আগে পেতে আমাদের ফেসবুক পেজ ও গ্রুপে যুক্ত হও।






















