ক্রিয়াপদের যে মূল অংশ থেকে বিভিন্ন কালে ও পুরুষে ক্রিয়ার রূপ গঠিত হয়, তাকে ধাতু বা ক্রিয়ামূল বলে — যেমন করি, করছি, করব-এর মূল √কর্।
বাংলা · বাংলা ব্যাকরণ
ধাতু — প্রকারভেদ ও প্রযোজক ধাতু
ধাতুর সংজ্ঞা, মৌলিক, সাধিত ও সংযোগমূলক ধাতু এবং প্রযোজক ধাতুর ব্যাখ্যা।
সংজ্ঞা
ক্রিয়াপদের যে মূল অংশ থেকে বিভিন্ন কালে ও পুরুষে ক্রিয়ার রূপ গঠিত হয়, তাকে ধাতু বলে। ধাতুর আগে √ চিহ্ন দিয়ে তাকে চিহ্নিত করা হয়।
বিস্তারিত আলোচনা
"করি", "করছি", "করব", "করেছিলাম" — এই সব রূপের মধ্যে যে অংশটি অপরিবর্তিত থাকে, সেই √কর্ হলো ধাতু। ধাতুকে ক্রিয়ামূলও বলা হয়। ধাতুর সঙ্গে কালবাচক ও পুরুষবাচক বিভক্তি যুক্ত হয়েই সম্পূর্ণ ক্রিয়াপদ তৈরি হয়।
ধাতু প্রধানত তিন প্রকার। মৌলিক ধাতু বা সিদ্ধ ধাতুকে ভাঙা যায় না — √কর্, √পড়, √খা, √যা। সাধিত ধাতু গঠিত হয় শব্দ বা ধাতুর সঙ্গে প্রত্যয় যোগে — √দেখা থেকে √দেখা-ন (দেখানো), √ঘুম থেকে √ঘুমা। আর সংযোগমূলক ধাতু গঠিত হয় বিশেষ্য বা বিশেষণের সঙ্গে কর, দে, পা প্রভৃতি ধাতু যোগে — যেমন যোগ + কর = যোগ করা, ভয় + পা = ভয় পাওয়া।
সাধিত ধাতুর মধ্যে প্রযোজক ধাতু আলাদাভাবে উল্লেখযোগ্য। এতে কর্তা নিজে কাজ না করে অন্যকে দিয়ে করায় — √পড় থেকে √পড়া (পড়ানো), √খা থেকে √খাওয়া (খাওয়ানো)। বাক্যে এর ফলে দুজন কর্তা আসে: প্রযোজক কর্তা ও প্রযোজ্য কর্তা, যেমন "শিক্ষক ছাত্রকে পড়ান" বাক্যে শিক্ষক প্রযোজক ও ছাত্র প্রযোজ্য কর্তা।
মনে রাখার কথা
ক্রিয়ার সব রূপে যে অংশটি অপরিবর্তিত থাকে, সেটিই ধাতু — এটি বের করাই ধাতু নির্ণয়ের কৌশল।
উপযোগী শ্রেণি: নবম, দশম, একাদশ, দ্বাদশ শ্রেণি।
সচরাচর জিজ্ঞাসা
তিন প্রকার — মৌলিক বা সিদ্ধ ধাতু (√কর্, √পড়), সাধিত ধাতু (√দেখা-ন) এবং সংযোগমূলক ধাতু (যোগ করা, ভয় পাওয়া)।
যে ধাতুতে কর্তা নিজে কাজ না করে অন্যকে দিয়ে করায় — যেমন √পড় থেকে পড়ানো, √খা থেকে খাওয়ানো। এতে বাক্যে প্রযোজক ও প্রযোজ্য দুই কর্তা আসে।
আরও বাংলা ব্যাকরণ পড়ো
বাংলা ব্যাকরণ-এর পূর্ণ তালিকা ও বাংলা লেখার অন্যান্য অংশ এক জায়গায়।
আমাদের সাথে যুক্ত থাকো
পড়াশোনার আপডেট, সাজেশন ও প্রশ্নোত্তর সবার আগে পেতে আমাদের ফেসবুক পেজ ও গ্রুপে যুক্ত হও।






















