সংখ্যাবাচক শব্দ পূর্বপদ হয়ে যে সমাসে সমাহার বা সমষ্টি বোঝায়, তাকে দ্বিগু সমাস বলে — যেমন সপ্তাহ, চৌরাস্তা, ত্রিভুজ।
বাংলা · বাংলা ব্যাকরণ
দ্বিগু সমাস — সমাহার অর্থে সংখ্যাবাচক সমাস
দ্বিগু সমাসের সংজ্ঞা ও উদাহরণ, এবং দ্বিগু ও বহুব্রীহির পার্থক্য কীভাবে ধরবে।
সংজ্ঞা
সংখ্যাবাচক শব্দ পূর্বপদ হয়ে যে সমাসে সমাহার বা সমষ্টি বোঝায়, তাকে দ্বিগু সমাস বলে। সমস্তপদটি সাধারণত একটি সমষ্টিবাচক বিশেষ্য হয়।
বিস্তারিত আলোচনা
দ্বিগু সমাসে পূর্বপদ অবশ্যই সংখ্যাবাচক হতে হবে এবং সমস্তপদে একটি সমাহার বোঝাতে হবে। যেমন তিন (নদীর) সমাহার = ত্রিনদী, সপ্ত (অহের) সমাহার = সপ্তাহ, চৌ (রাস্তার) সমাহার = চৌরাস্তা, পঞ্চ (বটের) সমাহার = পঞ্চবটী, ত্রি (ভুজের) সমাহার = ত্রিভুজ।
দ্বিগু সমাসকে অনেক সময় কর্মধারয়ের একটি উপবিভাগ ধরা হয়, কারণ এখানেও পূর্বপদ বিশেষণের কাজ করে। পার্থক্য হলো দ্বিগুতে সেই বিশেষণটি অবশ্যই সংখ্যাবাচক, এবং সমস্তপদে সমাহার বা সমষ্টির ভাব থাকে। এই দুটি শর্ত একসঙ্গে না মিললে সেটি দ্বিগু নয়।
সতর্ক থাকতে হবে যে সব সংখ্যাবাচক পূর্বপদই দ্বিগু নয়। "দশানন" শব্দে দশ সংখ্যাবাচক, কিন্তু সেখানে সমাহার নয়, তৃতীয় অর্থ প্রধান — তাই সেটি বহুব্রীহি। আবার "একগুঁয়ে" শব্দেও সংখ্যা আছে কিন্তু সমাহার নেই, তাই সেটিও দ্বিগু নয়। এ কারণেই কেবল সংখ্যা দেখে দ্বিগু ভেবে নেওয়া পরীক্ষার খাতায় সবচেয়ে সাধারণ ভুলগুলোর একটি; আগে ব্যাসবাক্য লিখে সমাহারের ভাব আছে কি না যাচাই করে নাও।
মনে রাখার কথা
সংখ্যা + সমাহার — দুটি শর্তই একসঙ্গে মিললে তবেই দ্বিগু সমাস।
উপযোগী শ্রেণি: নবম, দশম, একাদশ, দ্বাদশ শ্রেণি।
সচরাচর জিজ্ঞাসা
না, এটি বহুব্রীহি সমাস। যদিও দশ একটি সংখ্যাবাচক শব্দ, এখানে সমাহার বোঝাচ্ছে না — বরং "দশ আনন যার" অর্থাৎ রাবণকে বোঝাচ্ছে।
দ্বিগুকে অনেক সময় কর্মধারয়ের উপবিভাগ ধরা হয়, কারণ এখানেও পূর্বপদ বিশেষণের কাজ করে। পার্থক্য হলো দ্বিগুতে বিশেষণটি সংখ্যাবাচক ও সমাহার বোঝায়।
আরও বাংলা ব্যাকরণ পড়ো
বাংলা ব্যাকরণ-এর পূর্ণ তালিকা ও বাংলা লেখার অন্যান্য অংশ এক জায়গায়।
আমাদের সাথে যুক্ত থাকো
পড়াশোনার আপডেট, সাজেশন ও প্রশ্নোত্তর সবার আগে পেতে আমাদের ফেসবুক পেজ ও গ্রুপে যুক্ত হও।






















