একই শব্দ বা শব্দাংশ দুবার ব্যবহৃত হয়ে নতুন অর্থ প্রকাশ করলে তাকে দ্বিরুক্ত শব্দ বলে — যেমন ভালো ভালো, ঘরে ঘরে, কলকল।
বাংলা · বাংলা ব্যাকরণ
দ্বিরুক্ত শব্দ — প্রকারভেদ ও উদাহরণ
শব্দ, পদ ও ধ্বন্যাত্মক দ্বিরুক্তির পার্থক্য এবং প্রতিটির উদাহরণ ও অর্থগত ব্যবহার।
সংজ্ঞা
একই শব্দ বা শব্দাংশ দুবার ব্যবহৃত হয়ে যখন নতুন অর্থ প্রকাশ করে, তাকে দ্বিরুক্ত শব্দ বলে। বাংলায় এই প্রয়োগ খুব সাধারণ এবং অর্থে বৈচিত্র্য আনে।
বিস্তারিত আলোচনা
দ্বিরুক্ত শব্দ তিন প্রকার। শব্দের দ্বিরুক্তিতে গোটা শব্দ দুবার বসে — ভালো ভালো, ছোট ছোট, ধীরে ধীরে, বার বার। পদের দ্বিরুক্তিতে বিভক্তিযুক্ত পদ দুবার বসে — হাতে হাতে, ঘরে ঘরে, দেশে দেশে। আর ধ্বন্যাত্মক দ্বিরুক্তিতে অর্থহীন ধ্বনি দুবার বসে অনুকার শব্দ তৈরি করে — কলকল, ঝরঝর, টুপটাপ, মিটমিট।
দ্বিরুক্ত শব্দ নানা অর্থে ব্যবহৃত হয়। আধিক্য বোঝাতে — রাশি রাশি, ধামা ধামা। ধারাবাহিকতা বোঝাতে — ক্রমে ক্রমে, ধীরে ধীরে। সামান্যতা বোঝাতে — জ্বর জ্বর, ভয় ভয়। বিরক্তি বা তুচ্ছার্থে — খাওয়া-দাওয়া, লেখা-পড়া। আবার সমার্থক শব্দ পাশাপাশি বসিয়েও দ্বিরুক্তি হয় — ধন-দৌলত, কাগজ-পত্র, ঘর-বাড়ি।
অনুকার বা ধ্বন্যাত্মক শব্দ বাংলার একটি বিশেষ সম্পদ। প্রাণীর ডাক (ঘেউ ঘেউ, কা কা), প্রাকৃতিক শব্দ (গুড় গুড়, ঝম ঝম), কিংবা বস্তুর শব্দ (ঠক ঠক, খট খট) — সবই এই শ্রেণিতে পড়ে। এদের অংশগুলো আলাদাভাবে অর্থহীন, কিন্তু একসঙ্গে বসলে স্পষ্ট অর্থ তৈরি হয়।
মনে রাখার কথা
দ্বিরুক্ত শব্দ চেনা সহজ, কিন্তু কোন প্রকারের তা বলা কঠিন — শব্দ, পদ না ধ্বনি দুবার হয়েছে, সেটিই দেখো।
উপযোগী শ্রেণি: নবম, দশম, একাদশ, দ্বাদশ শ্রেণি।
সচরাচর জিজ্ঞাসা
তিন প্রকার — শব্দের দ্বিরুক্তি (ভালো ভালো), পদের দ্বিরুক্তি (হাতে হাতে) এবং ধ্বন্যাত্মক বা অনুকার দ্বিরুক্তি (ঝরঝর, টুপটাপ)।
যেখানে অর্থহীন ধ্বনি দুবার বসে অনুকার শব্দ তৈরি করে — যেমন কলকল, ঝম ঝম, ঘেউ ঘেউ। অংশগুলো একা অর্থহীন, একসঙ্গে অর্থবহ।
আরও বাংলা ব্যাকরণ পড়ো
বাংলা ব্যাকরণ-এর পূর্ণ তালিকা ও বাংলা লেখার অন্যান্য অংশ এক জায়গায়।
আমাদের সাথে যুক্ত থাকো
পড়াশোনার আপডেট, সাজেশন ও প্রশ্নোত্তর সবার আগে পেতে আমাদের ফেসবুক পেজ ও গ্রুপে যুক্ত হও।






















