দুই বা তার বেশি ব্যঞ্জনবর্ণ পাশাপাশি বসে একটি সংযুক্ত রূপ নিলে তাকে যুক্তবর্ণ বা যুক্তাক্ষর বলে — যেমন ক্ত, স্থ, ক্ষ।
বাংলা · বাংলা ব্যাকরণ
যুক্তবর্ণ — গঠন, ভাঙা ও উদাহরণ
যুক্তবর্ণের সংজ্ঞা, গঠনের ধরন এবং ক্ষ, জ্ঞ, হ্ম, ঞ্চ ভেঙে দেখানোর নিয়ম।
সংজ্ঞা
দুই বা তার বেশি ব্যঞ্জনবর্ণ পাশাপাশি বসে যখন একটি সংযুক্ত রূপ নেয়, তখন সেই রূপকে যুক্তবর্ণ বা যুক্তাক্ষর বলে।
বিস্তারিত আলোচনা
বাংলায় দুটি ব্যঞ্জনধ্বনি পরপর উচ্চারিত হলে মাঝখানে কোনো স্বরধ্বনি থাকে না, আর লেখায় সেই অবস্থাটি বোঝাতে বর্ণ দুটিকে জুড়ে দেওয়া হয়। "ক" ও "ত" জুড়ে হয় "ক্ত" — যেমন ভক্ত, শক্ত। "স" ও "থ" জুড়ে হয় "স্থ" — যেমন স্থান, অবস্থা। এভাবে বাংলায় শত শত যুক্তবর্ণ তৈরি হয়েছে।
যুক্তবর্ণ গঠনের কয়েকটি ধরন আছে। কিছু ক্ষেত্রে দুটি বর্ণের চেহারা প্রায় অক্ষুণ্ন থাকে — ক্ত, স্থ, ন্ত, ল্প। কিছু ক্ষেত্রে একটি বর্ণ সংক্ষিপ্ত রূপ নেয় — র-ফলা (ক্র, প্র), য-ফলা (ক্য, ব্য), ম-ফলা (ক্ম, স্ম), ব-ফলা (ত্ব, দ্ব)। আবার রেফ (র্ক, র্ম) হলো আগে বসা "র"-এর সংক্ষিপ্ত রূপ। কিছু যুক্তবর্ণের চেহারা মূল বর্ণ দুটি থেকে একেবারেই আলাদা — ক্ষ, জ্ঞ, ঞ্জ, হ্ম।
পরীক্ষায় সাধারণত যুক্তবর্ণ ভেঙে দেখাতে বলা হয় — ক্ষ ভাঙলে হয় ক + ষ, জ্ঞ ভাঙলে হয় জ + ঞ, হ্ম ভাঙলে হয় হ + ম, ঞ্চ ভাঙলে হয় ঞ + চ। এই চারটি সবচেয়ে বেশি জিজ্ঞাসিত, কারণ এদের চেহারা দেখে মূল বর্ণ অনুমান করা যায় না। বাকি যুক্তবর্ণগুলো চেহারা দেখেই ভেঙে ফেলা যায়।
মনে রাখার কথা
ক্ষ, জ্ঞ, হ্ম ও ঞ্চ — চেহারা দেখে চেনা যায় না বলে এই চারটি আলাদা করে মনে রাখতে হয়।
উপযোগী শ্রেণি: নবম, দশম, একাদশ, দ্বাদশ শ্রেণি।
সচরাচর জিজ্ঞাসা
ক এবং ষ। একইভাবে জ্ঞ ভাঙলে জ ও ঞ, হ্ম ভাঙলে হ ও ম, আর ঞ্চ ভাঙলে ঞ ও চ পাওয়া যায়।
রেফ হলো আগে বসা "র"-এর সংক্ষিপ্ত রূপ (কর্ম, ধর্ম), আর র-ফলা হলো পরে বসা "র"-এর সংক্ষিপ্ত রূপ (ক্রম, প্রথম)।
আরও বাংলা ব্যাকরণ পড়ো
বাংলা ব্যাকরণ-এর পূর্ণ তালিকা ও বাংলা লেখার অন্যান্য অংশ এক জায়গায়।
আমাদের সাথে যুক্ত থাকো
পড়াশোনার আপডেট, সাজেশন ও প্রশ্নোত্তর সবার আগে পেতে আমাদের ফেসবুক পেজ ও গ্রুপে যুক্ত হও।






















