লোকসমাজের দীর্ঘ অভিজ্ঞতা থেকে জন্ম নেওয়া সংক্ষিপ্ত ও অর্থবহ প্রচলিত বাক্যকে প্রবাদ বা প্রবচন বলে — যেমন "অতি লোভে তাঁতি নষ্ট"।
বাংলা · বাংলা ব্যাকরণ
প্রবাদ-প্রবচন — অর্থ, বৈশিষ্ট্য ও বাগধারার সঙ্গে পার্থক্য
প্রবাদ-প্রবচনের সংজ্ঞা ও বৈশিষ্ট্য এবং বাগধারার সঙ্গে পার্থক্য উদাহরণসহ ব্যাখ্যা।
সংজ্ঞা
লোকসমাজের দীর্ঘ অভিজ্ঞতা থেকে জন্ম নেওয়া, সংক্ষিপ্ত ও অর্থবহ যেসব বাক্য যুগ যুগ ধরে প্রচলিত আছে, তাদের প্রবাদ বা প্রবচন বলে।
বিস্তারিত আলোচনা
"অতি লোভে তাঁতি নষ্ট", "নাচতে না জানলে উঠান বাঁকা", "চোরের মায়ের বড় গলা" — এগুলো প্রবাদ। প্রতিটি একটি সম্পূর্ণ বাক্য এবং প্রতিটির পেছনে একটি সাধারণ জীবনসত্য বা উপদেশ আছে। প্রবাদের রচয়িতা কেউ নন; দীর্ঘকালের লোকমুখে চলতে চলতে এগুলো ভাষার সম্পদ হয়ে উঠেছে।
প্রবাদ ও বাগধারার পার্থক্য পরীক্ষায় প্রায়ই জিজ্ঞাসা করা হয়। বাগধারা একটি শব্দগুচ্ছ, যেমন "চোখের বালি"; সেটি নিজে সম্পূর্ণ বাক্য নয় এবং বাক্যের ভেতরে বসিয়ে ব্যবহার করতে হয়। প্রবাদ নিজেই একটি পূর্ণ বাক্য এবং স্বাধীনভাবে ব্যবহারযোগ্য। প্রবাদ উপদেশ বা অভিজ্ঞতা জানায়, বাগধারা কেবল একটি বিশিষ্ট অর্থ বহন করে।
প্রবাদের ভাষা সাধারণত চলিত ও গ্রামীণ, উপমাগুলোও কৃষি ও পারিবারিক জীবন থেকে নেওয়া। এ কারণে প্রবাদ পড়লে সমাজের চিন্তা ও মূল্যবোধের ছবি পাওয়া যায়। রচনা বা ভাব সম্প্রসারণে একটি উপযুক্ত প্রবাদ বসাতে পারলে লেখা জোরালো হয়, তবে প্রসঙ্গের সঙ্গে না মিললে সেটি বেমানান লাগে।
মনে রাখার কথা
প্রবাদ একটি পূর্ণ বাক্য আর বাগধারা কেবল একটি শব্দগুচ্ছ — পার্থক্যটি এখানেই সবচেয়ে স্পষ্ট।
উপযোগী শ্রেণি: নবম, দশম, একাদশ, দ্বাদশ শ্রেণি।
সচরাচর জিজ্ঞাসা
প্রবাদ নিজেই একটি পূর্ণ বাক্য ও স্বাধীনভাবে ব্যবহারযোগ্য; বাগধারা একটি শব্দগুচ্ছ, যা বাক্যের ভেতরে বসিয়ে ব্যবহার করতে হয়।
প্রবাদের কোনো নির্দিষ্ট রচয়িতা নেই। দীর্ঘকাল লোকমুখে প্রচলিত থেকে এগুলো ভাষার সাধারণ সম্পদে পরিণত হয়েছে।
আরও বাংলা ব্যাকরণ পড়ো
বাংলা ব্যাকরণ-এর পূর্ণ তালিকা ও বাংলা লেখার অন্যান্য অংশ এক জায়গায়।
আমাদের সাথে যুক্ত থাকো
পড়াশোনার আপডেট, সাজেশন ও প্রশ্নোত্তর সবার আগে পেতে আমাদের ফেসবুক পেজ ও গ্রুপে যুক্ত হও।






















