স্বরধ্বনির সঙ্গে স্বরধ্বনির মিলনে যে সন্ধি হয়, তাকে স্বরসন্ধি বলে। যেমন বিদ্যা + আলয় = বিদ্যালয়, এখানে আ ও আ মিলে আ হয়েছে।
বাংলা · বাংলা ব্যাকরণ
স্বরসন্ধি — নিয়ম ও উদাহরণসহ সন্ধি বিচ্ছেদ
স্বরসন্ধির সব নিয়ম, উদাহরণ ও সন্ধি বিচ্ছেদ — বিদ্যালয়, শুভেচ্ছা, সূর্যোদয় প্রভৃতিসহ।
সংজ্ঞা
স্বরধ্বনির সঙ্গে স্বরধ্বনির মিলনে যে সন্ধি হয়, তাকে স্বরসন্ধি বলে। দুই পাশের দুটি স্বর মিলে একটি স্বরে পরিণত হয়, এবং সেই নতুন স্বরটিই মিলিত শব্দে বসে।
বিস্তারিত আলোচনা
স্বরসন্ধির প্রথম ও সবচেয়ে প্রচলিত নিয়ম হলো সমবর্ণের মিলন। অ বা আ-এর পরে অ বা আ থাকলে দুটি মিলে আ হয়। যেমন হিম + আলয় = হিমালয়, বিদ্যা + আলয় = বিদ্যালয়। একইভাবে ই বা ঈ-এর পরে ই বা ঈ থাকলে হয় ঈ — অতি + ইব = অতীব, পরি + ঈক্ষা = পরীক্ষা। উ বা ঊ-এর ক্ষেত্রেও একই নিয়ম — সু + উক্তি = সূক্তি।
দ্বিতীয় নিয়ম বিপরীত বর্ণের মিলন নিয়ে। অ বা আ-এর পরে ই বা ঈ থাকলে দুটি মিলে হয় এ — যেমন শুভ + ইচ্ছা = শুভেচ্ছা, নর + ইন্দ্র = নরেন্দ্র। অ বা আ-এর পরে উ বা ঊ থাকলে হয় ও — যেমন সূর্য + উদয় = সূর্যোদয়, নীল + উৎপল = নীলোৎপল। আর অ বা আ-এর পরে ঋ থাকলে হয় অর্ — দেব + ঋষি = দেবর্ষি।
তৃতীয় নিয়মে এ, ঐ, ও, ঔ-এর পরে অন্য স্বর এলে সেগুলো যথাক্রমে অয্, আয্, অব্, আব্ হয়ে যায়। যেমন নে + অন = নয়ন, গৈ + অক = গায়ক, পো + অন = পবন, পৌ + অক = পাবক। এই নিয়মটি পরীক্ষায় বারবার আসে, অথচ শিক্ষার্থীরা প্রায়ই এটি বাদ দিয়ে পড়ে।
মনে রাখার কথা
স্বরসন্ধিতে দুই পাশে দুটোই স্বর থাকবে — এটি নিশ্চিত করে নিলে প্রকারভেদে আর ভুল হয় না।
উপযোগী শ্রেণি: নবম, দশম, একাদশ, দ্বাদশ শ্রেণি।
সচরাচর জিজ্ঞাসা
শুভ + ইচ্ছা = শুভেচ্ছা। নিয়ম হলো অ বা আ-এর পরে ই বা ঈ থাকলে দুটি মিলে এ হয়, যেমন নর + ইন্দ্র = নরেন্দ্র।
সূর্য + উদয় = সূর্যোদয়। অ বা আ-এর পরে উ বা ঊ থাকলে দুটি মিলে ও হয় — এটিই স্বরসন্ধির অন্যতম প্রধান নিয়ম।
আরও বাংলা ব্যাকরণ পড়ো
বাংলা ব্যাকরণ-এর পূর্ণ তালিকা ও বাংলা লেখার অন্যান্য অংশ এক জায়গায়।
আমাদের সাথে যুক্ত থাকো
পড়াশোনার আপডেট, সাজেশন ও প্রশ্নোত্তর সবার আগে পেতে আমাদের ফেসবুক পেজ ও গ্রুপে যুক্ত হও।






















