উপহার স্বেচ্ছায় দেওয়া হয় এবং তাতে কোনো শর্ত থাকে না; যৌতুক হলো বিয়ের শর্ত হিসেবে দাবি করা অর্থ বা সম্পদ। দাবি করা মাত্রই তা আইনত অপরাধ।
বাংলা · বাংলা রচনা
যৌতুক প্রথা
যৌতুক প্রথা রচনা — কারণ, কুফল, আইন ও প্রতিরোধের উপায় নিয়ে বিস্তারিত রচনা।
ভূমিকা
যৌতুক একটি সামাজিক ব্যাধি, যা বিবাহকে সম্পর্ক থেকে লেনদেনে নামিয়ে আনে। আইনে দণ্ডনীয় হলেও প্রথাটি নানা রূপে টিকে আছে এবং অসংখ্য নারীর জীবন বিপন্ন করছে।
মূল আলোচনা
যৌতুক বলতে বোঝায় বিয়ের শর্ত হিসেবে কনের পরিবারের কাছে অর্থ, আসবাব, স্বর্ণ বা অন্য সম্পদের দাবি। উপহার আর দাবির পার্থক্য এখানেই — দাবি করা হলে সেটি অপরাধ।
এই প্রথার শিকড় পুরোনো সামাজিক ধারণায়। মেয়েকে অর্থনৈতিকভাবে নির্ভরশীল ভাবার মানসিকতা থেকেই ধারণা জন্মেছিল, তাকে গ্রহণের বিনিময়ে কিছু পাওয়া যায়।
বাংলাদেশে যৌতুক নিরোধ আইনে দাবি করা, দেওয়া ও নেওয়া — তিনটিই শাস্তিযোগ্য। তবু বহু ক্ষেত্রে সামাজিক চাপে পরিবার আইনের আশ্রয় নিতে চায় না।
দাবি পূরণ করতে গিয়ে দরিদ্র পরিবার সর্বস্বান্ত হয়। জমি বিক্রি, উচ্চ সুদে ঋণ কিংবা সঞ্চয়ের শেষ কড়িটুকু খরচ করে অভিভাবক মেয়ের বিয়ে দেন, আর পরিবারটি দীর্ঘদিন ঋণের ভারে চাপা পড়ে।
দাবি পূরণ না হলে নেমে আসে নির্যাতন। মানসিক চাপ, শারীরিক নির্যাতন, তালাক এমনকি হত্যার ঘটনাও ঘটে — সংবাদপত্রে এমন খবর দুর্ভাগ্যজনকভাবে নিয়মিত।
যৌতুক বাল্যবিবাহকেও উসকে দেয়। কম বয়সে দাবি তুলনামূলক কম হয় — এই বিবেচনায় অভিভাবক তাড়াতাড়ি বিয়ে দিয়ে দেন, ফলে দুটি অপরাধ একসঙ্গে ঘটে।
কন্যাসন্তানের প্রতি বৈষম্যের পেছনেও এই প্রথার ছায়া আছে। মেয়েকে ভবিষ্যতের আর্থিক বোঝা ভাবার প্রবণতা তার শিক্ষা ও পুষ্টিতে অবহেলার জন্ম দেয়।
প্রতিকারের সবচেয়ে শক্তিশালী উপায় নারীর অর্থনৈতিক স্বাবলম্বিতা। উপার্জনক্ষম মেয়েকে কেউ বোঝা ভাবে না, বরং তার মতামত পরিবারে গুরুত্ব পায়।
আইনের কার্যকর প্রয়োগও অপরিহার্য। অভিযোগ দায়েরের প্রক্রিয়া সহজ করা, দ্রুত বিচার নিশ্চিত করা এবং ভুক্তভোগীকে আইনি সহায়তা দেওয়া গেলে অপরাধীরা নিরুৎসাহিত হবে।
সামাজিক প্রতিরোধ সবচেয়ে বেশি কাজে দেয়। যে সমাজে যৌতুকগ্রহীতাকে সম্মান দেওয়া হয় না এবং বিয়ে ভেঙে দিতেও দ্বিধা করা হয় না, সেখানে দাবি করার সাহস কেউ পায় না।
তরুণদের ভূমিকা এখানে নির্ণায়ক। বিবাহযোগ্য তরুণ যদি নিজে ঘোষণা করেন যে তিনি যৌতুক নেবেন না, তবে একটি পরিবারের সিদ্ধান্তই সমাজে দৃষ্টান্ত হয়ে দাঁড়ায়।
উপসংহার
যৌতুক প্রথা টিকে আছে আমাদের নীরবতার কারণেই। আইনের প্রয়োগ, নারীর স্বাবলম্বিতা ও তরুণদের স্পষ্ট অবস্থান — এই তিনটি একসঙ্গে হলে এ কলঙ্ক মুছে ফেলা সম্ভব।
উপযোগী শ্রেণি: অষ্টম, নবম-দশম শ্রেণি।
সচরাচর জিজ্ঞাসা
নারীর অর্থনৈতিক স্বাবলম্বিতা সবচেয়ে কার্যকর, কারণ তাতে মেয়েকে বোঝা ভাবার ভিত্তিটিই নষ্ট হয়ে যায়। সঙ্গে আইনের প্রয়োগ ও সামাজিক প্রতিরোধ প্রয়োজন।
আরও বাংলা রচনা পড়ো
বাংলা রচনা-এর পূর্ণ তালিকা ও বাংলা লেখার অন্যান্য অংশ এক জায়গায়।
আমাদের সাথে যুক্ত থাকো
পড়াশোনার আপডেট, সাজেশন ও প্রশ্নোত্তর সবার আগে পেতে আমাদের ফেসবুক পেজ ও গ্রুপে যুক্ত হও।






















