মূলপাতা
লগইন

Color

Indigo
Red
Green
Teal
Blue
Purple
Rose

Mode

Light
EN

বাংলা · বাংলা রচনা

মহান মুক্তিযুদ্ধ

মহান মুক্তিযুদ্ধ রচনা — পটভূমি, নয় মাসের সংগ্রাম ও বিজয় নিয়ে পূর্ণাঙ্গ রচনা।

ভূমিকা

মহান মুক্তিযুদ্ধ বাঙালি জাতির ইতিহাসের সবচেয়ে গৌরবময় অধ্যায়। ১৯৭১ সালের নয় মাসের সশস্ত্র সংগ্রামের মধ্য দিয়েই পৃথিবীর মানচিত্রে স্বাধীন বাংলাদেশের জন্ম হয়।

মূল আলোচনা

মুক্তিযুদ্ধের পটভূমি একদিনে তৈরি হয়নি। ভাষা আন্দোলন, ছয় দফা, ঊনসত্তরের গণঅভ্যুত্থান ও সত্তরের নির্বাচন — ধাপে ধাপে বাঙালির অধিকারের দাবি জোরালো হয়েছিল। নির্বাচনে নিরঙ্কুশ জয়ের পরও ক্ষমতা হস্তান্তর না করায় সংকট চূড়ান্ত রূপ নেয়।

১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ রাতে পাকিস্তানি সেনাবাহিনী নিরস্ত্র মানুষের ওপর নির্বিচার হত্যাযজ্ঞ চালায়। সেই রাতেই স্বাধীনতার ঘোষণা ছড়িয়ে পড়ে এবং ২৬ মার্চ থেকে শুরু হয় সর্বাত্মক প্রতিরোধ।

যুদ্ধ পরিচালনার জন্য দেশকে এগারোটি সেক্টরে ভাগ করা হয়। প্রশিক্ষিত সৈনিকের পাশাপাশি ছাত্র, কৃষক, শ্রমিক ও সাধারণ মানুষ অস্ত্র হাতে তুলে নেন। গেরিলা কৌশলে পরিচালিত এই যুদ্ধে নারীরাও নানা ভূমিকায় অংশ নিয়েছিলেন।

যুদ্ধের মূল্য ছিল ভয়াবহ। ত্রিশ লক্ষ মানুষ শহীদ হন, অগণিত নারী সম্ভ্রম হারান, এক কোটির বেশি মানুষ প্রতিবেশী দেশে আশ্রয় নিতে বাধ্য হন। বুদ্ধিজীবী হত্যাকাণ্ডের মাধ্যমে জাতিকে মেধাশূন্য করার চেষ্টাও হয়েছিল।

প্রবাসী সরকার গঠন, বেতার কেন্দ্রের প্রচার ও আন্তর্জাতিক জনমত গঠনের মধ্য দিয়ে যুদ্ধ কেবল রণাঙ্গনে সীমাবদ্ধ থাকেনি। অবশেষে ১৬ ডিসেম্বর পাকিস্তানি বাহিনীর আত্মসমর্পণের মধ্য দিয়ে চূড়ান্ত বিজয় আসে।

মুক্তিযুদ্ধ কেবল একটি ভূখণ্ড এনে দেয়নি, দিয়েছে একটি আদর্শ — গণতন্ত্র, সাম্য ও মানবিক মর্যাদার অঙ্গীকার। সেই আদর্শ বাস্তবায়ন করাই পরবর্তী প্রজন্মের দায়িত্ব।

মুক্তিযুদ্ধে গণমাধ্যমের ভূমিকাও ছিল অসামান্য। স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্রের অনুষ্ঠান, দেশাত্মবোধক গান ও চরমপত্রের ব্যঙ্গাত্মক ভাষ্য মুক্তিযোদ্ধা ও সাধারণ মানুষের মনোবল ধরে রেখেছিল। অস্ত্রের পাশাপাশি এই সাংস্কৃতিক প্রতিরোধও যুদ্ধেরই অংশ ছিল।

নারীদের অবদান দীর্ঘদিন আলোচনার বাইরে থেকে গেছে। কেউ অস্ত্র হাতে লড়েছেন, কেউ আহতদের সেবা দিয়েছেন, কেউ আশ্রয় ও খবর আদান-প্রদানের ঝুঁকি নিয়েছেন। বীরাঙ্গনাদের আত্মত্যাগ এ যুদ্ধের সবচেয়ে বেদনাদায়ক অধ্যায়।

আন্তর্জাতিক সমর্থন আদায়ও ছিল গুরুত্বপূর্ণ। শরণার্থী সংকট ও গণহত্যার খবর বিশ্ব গণমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ায় নানা দেশের জনমত বাংলাদেশের পক্ষে আসে, যা কূটনৈতিক জয়ের পথ তৈরি করে।

উপসংহার

মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস আমাদের আত্মবিশ্বাসের উৎস। শহীদদের স্বপ্নের বাংলাদেশ গড়তে হলে দুর্নীতি ও বৈষম্যের বিরুদ্ধে সেই একই সংকল্প নিয়ে দাঁড়াতে হবে।

উপযোগী শ্রেণি: অষ্টম, নবম-দশম, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি।

সচরাচর জিজ্ঞাসা

আরও বাংলা রচনা পড়ো

বাংলা রচনা-এর পূর্ণ তালিকা ও বাংলা লেখার অন্যান্য অংশ এক জায়গায়।

আমাদের সাথে যুক্ত থাকো

পড়াশোনার আপডেট, সাজেশন ও প্রশ্নোত্তর সবার আগে পেতে আমাদের ফেসবুক পেজ ও গ্রুপে যুক্ত হও।