মূলপাতা
লগইন

Color

Indigo
Red
Green
Teal
Blue
Purple
Rose

Mode

Light
EN

বাংলা · বাংলা রচনা

পরিবেশ দূষণ

পরিবেশ দূষণ রচনা — বায়ু, পানি, মাটি ও শব্দদূষণের কারণ, প্রভাব ও প্রতিকার।

ভূমিকা

পরিবেশ দূষণ আজ বাংলাদেশের সবচেয়ে গুরুতর জনস্বাস্থ্য সমস্যা। বায়ু, পানি, মাটি ও শব্দ — চার দিক থেকেই দূষণ আমাদের আয়ু ও কর্মক্ষমতা কমিয়ে দিচ্ছে।

মূল আলোচনা

বায়ুদূষণে রাজধানী ঢাকা নিয়মিত বিশ্বের শীর্ষ দূষিত শহরের তালিকায় ওঠে। ইটভাটার ধোঁয়া, পুরোনো যানবাহনের কালো ধোঁয়া, নির্মাণকাজের ধুলা ও বর্জ্য পোড়ানো — এগুলোই প্রধান উৎস।

এর সরাসরি ফল শ্বাসতন্ত্রের রোগ। শিশু ও বয়স্কদের মধ্যে হাঁপানি, ব্রঙ্কাইটিস ও ফুসফুসের সংক্রমণ বাড়ছে; চিকিৎসকেরা বলছেন শীতকালে হাসপাতালে শ্বাসকষ্টের রোগীর সংখ্যা কয়েক গুণ বেড়ে যায়।

পানিদূষণের চিত্রও উদ্বেগজনক। শিল্পকারখানার অপরিশোধিত বর্জ্য, ট্যানারির রাসায়নিক ও গৃহস্থালির আবর্জনা সরাসরি নদীতে পড়ছে। বুড়িগঙ্গা, শীতলক্ষ্যা ও কর্ণফুলীর পানি বহু জায়গায় ব্যবহারের অযোগ্য হয়ে পড়েছে।

কৃষিতে মাত্রাতিরিক্ত রাসায়নিক সার ও কীটনাশক ব্যবহারে মাটির স্বাভাবিক উর্বরতা নষ্ট হচ্ছে। উপকারী অণুজীব মরে যাওয়ায় জমি ক্রমেই বেশি সারের ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ছে — এটি একটি দুষ্টচক্র।

প্লাস্টিক দূষণ নতুন মাত্রা যোগ করেছে। পলিথিন ব্যাগ ও একবার ব্যবহারযোগ্য প্লাস্টিক ড্রেন বন্ধ করে জলাবদ্ধতা তৈরি করে, আর মাটিতে শত শত বছর অবিকৃত থেকে যায়।

শব্দদূষণকে অনেকেই গুরুত্ব দেন না, অথচ অতিরিক্ত হর্ন ও মাইকের শব্দ শ্রবণশক্তি কমায়, ঘুমের ব্যাঘাত ঘটায় এবং শিশুদের মনোযোগ নষ্ট করে।

দূষণের মূল কারণ অপরিকল্পিত নগরায়ণ ও আইনের দুর্বল প্রয়োগ। পরিবেশ সংরক্ষণ আইন থাকলেও তদারকি কম, ফলে বর্জ্য শোধনাগার ছাড়াই কারখানা চলে।

প্রতিকারে প্রথম প্রয়োজন আইনের কঠোর প্রয়োগ ও নিয়মিত পর্যবেক্ষণ। কারখানার জন্য বর্জ্য শোধনাগার বাধ্যতামূলক করা, পুরোনো যানবাহন তুলে নেওয়া এবং ইটভাটায় পরিবেশবান্ধব প্রযুক্তি চালু করা জরুরি।

পাশাপাশি নাগরিক সচেতনতা অপরিহার্য। ব্যক্তিগত পর্যায়ে পলিথিন বর্জন, বর্জ্য আলাদা করে ফেলা, গণপরিবহন ব্যবহার ও গাছ লাগানোর মতো ছোট অভ্যাসই সম্মিলিতভাবে বড় পরিবর্তন আনে।

দূষণের অর্থনৈতিক ক্ষতিও বিশাল। চিকিৎসা ব্যয় বৃদ্ধি, কর্মদিবস নষ্ট হওয়া এবং কৃষি ও মৎস্য উৎপাদন কমে যাওয়ার হিসাব ধরলে দেখা যায়, দূষণ প্রতি বছর জাতীয় আয়ের উল্লেখযোগ্য অংশ কেড়ে নিচ্ছে।

শিক্ষার্থীরাও এ লড়াইয়ের অংশ হতে পারে। বিদ্যালয়ে পরিচ্ছন্নতা অভিযান, প্লাস্টিক সংগ্রহের উদ্যোগ কিংবা এলাকাভিত্তিক সচেতনতামূলক প্রচারণা ছোট পরিসরে হলেও অভ্যাস বদলে দিতে পারে।

উপসংহার

পরিবেশ দূষণ রোধ করা কেবল সরকারের কাজ নয়, প্রতিটি নাগরিকের দায়িত্ব। সুস্থ পরিবেশ ছাড়া উন্নয়নের কোনো অর্থ নেই — কারণ অসুস্থ জাতি কখনো সমৃদ্ধ হতে পারে না।

উপযোগী শ্রেণি: সপ্তম, অষ্টম, নবম-দশম শ্রেণি।

সচরাচর জিজ্ঞাসা

আরও বাংলা রচনা পড়ো

বাংলা রচনা-এর পূর্ণ তালিকা ও বাংলা লেখার অন্যান্য অংশ এক জায়গায়।

আমাদের সাথে যুক্ত থাকো

পড়াশোনার আপডেট, সাজেশন ও প্রশ্নোত্তর সবার আগে পেতে আমাদের ফেসবুক পেজ ও গ্রুপে যুক্ত হও।