প্রধানত ক্রিয়াপদ, সর্বনাম ও অনুসর্গের রূপে। সাধুতে রূপ দীর্ঘ (করিয়াছিলাম, তাহারা), চলিতে সংক্ষিপ্ত (করেছিলাম, তারা)।
বাংলা · বাংলা ব্যাকরণ
সাধু ও চলিত রীতি — পার্থক্য ও গুরুচণ্ডালী দোষ
সাধু ও চলিত রীতির পার্থক্য কোথায়, কীভাবে চিনবে এবং দুই রীতি মেশালে কী ভুল হয়।
সংজ্ঞা
বাংলা লেখ্য ভাষার দুটি রীতি — সাধু ও চলিত। ক্রিয়াপদ ও সর্বনামের রূপেই দুই রীতির প্রধান পার্থক্য ধরা পড়ে।
বিস্তারিত আলোচনা
সাধু রীতি তৎসম শব্দবহুল, ক্রিয়াপদ ও সর্বনামের রূপ দীর্ঘ এবং গঠন সুনির্দিষ্ট ও গম্ভীর — করিয়াছিলাম, তাহারা, যাহাদের, উহাদিগকে। উনিশ শতকের গদ্যে এই রীতিই প্রধান ছিল। চলিত রীতিতে সেই রূপগুলো সংক্ষিপ্ত ও কথ্যভঙ্গির কাছাকাছি — করেছিলাম, তারা, যাদের, ওদের।
দুই রীতির পার্থক্য মূলত তিন জায়গায় — ক্রিয়াপদের রূপ, সর্বনামের রূপ এবং অনুসর্গ ও অব্যয়ের রূপ। বিশেষ্য ও বিশেষণ প্রায়ই অভিন্ন থাকে, তাই কোনো লেখা সাধু না চলিত তা ধরার সবচেয়ে দ্রুত উপায় ক্রিয়াপদটি দেখা। "করিতেছিল" দেখলে সাধু, "করছিল" দেখলে চলিত।
বর্তমানে বই, সংবাদপত্র ও পরীক্ষার উত্তরপত্র সবখানেই চলিত রীতিই ব্যবহৃত হয়; সাধু রীতি এখন প্রায় সাহিত্যিক ও ঐতিহাসিক প্রসঙ্গেই সীমাবদ্ধ। তবে যে রীতিই বেছে নাও, একটি রচনায় দুই রীতি মেশানো যাবে না — মেশালেই গুরুচণ্ডালী দোষ হয়, যা পরীক্ষায় নম্বর কাটার সরাসরি কারণ।
মনে রাখার কথা
একটি লেখায় একটিই রীতি — শুরুতে যেটি বেছে নেবে, শেষ পর্যন্ত সেটিই ধরে রাখতে হবে।
উপযোগী শ্রেণি: নবম, দশম, একাদশ, দ্বাদশ শ্রেণি।
সচরাচর জিজ্ঞাসা
ক্রিয়াপদটি দেখলেই বোঝা যায় — "করিতেছিল" হলে সাধু আর "করছিল" হলে চলিত। বিশেষ্য ও বিশেষণ দুই রীতিতে প্রায়ই অভিন্ন থাকে।
গুরুচণ্ডালী দোষ হয় এবং বাক্যটি অশুদ্ধ বলে গণ্য হয়। তাই একটি রচনায় শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত একটিই রীতি ধরে রাখতে হয়।
আরও বাংলা ব্যাকরণ পড়ো
বাংলা ব্যাকরণ-এর পূর্ণ তালিকা ও বাংলা লেখার অন্যান্য অংশ এক জায়গায়।
আমাদের সাথে যুক্ত থাকো
পড়াশোনার আপডেট, সাজেশন ও প্রশ্নোত্তর সবার আগে পেতে আমাদের ফেসবুক পেজ ও গ্রুপে যুক্ত হও।






















