কারণ এর কোনো বিনিময়মূল্য নির্ধারণ করা যায় না এবং একে কেউ কেড়ে নিতে পারে না। ব্যয় করলে অন্য সম্পদ কমে, কিন্তু বিদ্যা বিলালে বাড়ে।
বাংলা · ভাবসম্প্রসারণ
বিদ্যা অমূল্য ধন
বিদ্যা অমূল্য ধন — ভাবসম্প্রসারণ মূলভাব, সম্প্রসারিত ভাব ও মন্তব্যসহ।
মূলভাব
বিদ্যা এমন এক সম্পদ যা ব্যয় করলে ফুরায় না, বরং বাড়ে। চুরি, ডাকাতি বা দুর্যোগ কোনো কিছুই একে কেড়ে নিতে পারে না — তাই বিদ্যাই মানুষের শ্রেষ্ঠ ধন।
সম্প্রসারিত ভাব
অর্থ-সম্পদ ক্ষণস্থায়ী। আগুনে পুড়তে পারে, চোরে নিতে পারে, ব্যবসায় লোকসানে নিঃশেষ হতে পারে। কিন্তু অর্জিত বিদ্যা আজীবন সঙ্গে থাকে। বরং যত বেশি বিলানো যায়, তত বেশি স্পষ্ট ও পরিণত হয় — শিক্ষক যত পড়ান, তাঁর নিজের জ্ঞান তত পাকা হয়।
বিদ্যা কেবল জীবিকার উপায় নয়, বিবেক গঠনেরও উপায়। শিক্ষিত মানুষ ভালো-মন্দ বিচার করতে পারে, কুসংস্কারকে প্রশ্ন করতে পারে, অন্যের কথায় সহজে বিভ্রান্ত হয় না। এই বিচারবোধই একজন মানুষকে প্রকৃত অর্থে স্বাধীন করে।
একটি সমাজের উন্নতির মাপকাঠিও তার শিক্ষা। যে দেশে শিক্ষার হার বেশি, সে দেশে স্বাস্থ্য ভালো, অপরাধ কম এবং উৎপাদনশীলতা বেশি। তাই শিক্ষায় ব্যয়কে খরচ নয়, বিনিয়োগ বলা হয়।
তবে তথ্য আর বিদ্যা এক নয়। ইন্টারনেটে তথ্য এখন হাতের মুঠোয়, কিন্তু কোন তথ্য নির্ভরযোগ্য, কোনটি বিকৃত — সেই বিচার করার ক্ষমতাই প্রকৃত বিদ্যা। যে পড়া কেবল মুখস্থ করায়, তা তথ্য জমায়; যে পড়া প্রশ্ন করতে শেখায়, তা বিদ্যা তৈরি করে। এই পার্থক্যটুকু বুঝলেই বোঝা যায় বিদ্যাকে কেন অমূল্য বলা হয়েছে।
মন্তব্য
সুতরাং সম্পদের পেছনে ছোটার আগে বিদ্যা অর্জনে মনোযোগী হওয়া উচিত। বিদ্যার ভান্ডার যত ব্যয় করা যায়, তত বাড়ে — এমন সম্পদ আর নেই।
উপযোগী শ্রেণি: ষষ্ঠ, সপ্তম, অষ্টম শ্রেণি।
সচরাচর জিজ্ঞাসা
সম্পদের ক্ষণস্থায়িত্ব ও বিদ্যার স্থায়িত্ব পাশাপাশি রেখে লেখো — চুরি, দুর্যোগ বা লোকসানে সম্পদ যায়, বিদ্যা যায় না। তুলনাটিই এই ভাবসম্প্রসারণের মূল কাঠামো।
আরও ভাবসম্প্রসারণ পড়ো
ভাবসম্প্রসারণ-এর পূর্ণ তালিকা ও বাংলা লেখার অন্যান্য অংশ এক জায়গায়।
আমাদের সাথে যুক্ত থাকো
পড়াশোনার আপডেট, সাজেশন ও প্রশ্নোত্তর সবার আগে পেতে আমাদের ফেসবুক পেজ ও গ্রুপে যুক্ত হও।






















