মূলভাবে সংক্ষেপে লেখো যে সৌভাগ্য কোনো দৈব ব্যাপার নয়, পরিশ্রমই তার জন্মদাত্রী। দুই থেকে তিন বাক্যেই যথেষ্ট — বিস্তারিত যুক্তি সম্প্রসারিত ভাবের জন্য রেখে দাও।
বাংলা · ভাবসম্প্রসারণ
পরিশ্রম সৌভাগ্যের প্রসূতি
পরিশ্রম সৌভাগ্যের প্রসূতি — ভাবসম্প্রসারণ মূলভাব, সম্প্রসারিত ভাব ও মন্তব্যসহ।
মূলভাব
পরিশ্রমই মানুষের ভাগ্য গড়ে তোলে। ভাগ্য কোনো অদৃশ্য শক্তির দান নয়, বরং নিরবচ্ছিন্ন শ্রমের ফল। যে জাতি বা ব্যক্তি শ্রমে বিশ্বাসী, সৌভাগ্য তারই সঙ্গী হয়।
সম্প্রসারিত ভাব
মানুষ জন্মগতভাবে ভাগ্যবান হয়ে জন্মায় না। জন্মের সময় সবাই প্রায় একই সম্ভাবনা নিয়ে আসে; পার্থক্য তৈরি হয় পরে, যখন কেউ শ্রম দেয় আর কেউ অপেক্ষা করে। যে শিক্ষার্থী প্রতিদিন নিয়ম করে পড়ে, পরীক্ষার ফল তার পক্ষে যায়; যে কৃষক সময়মতো জমি প্রস্তুত করেন, ফসল তাঁর গোলাতেই ওঠে। এখানে ভাগ্যের কোনো রহস্য নেই, আছে ধারাবাহিক পরিশ্রমের হিসাব।
পৃথিবীর ইতিহাস এ কথারই সাক্ষী। বিজ্ঞানীরা বছরের পর বছর ব্যর্থ পরীক্ষা চালিয়ে তবেই আবিষ্কারে পৌঁছেছেন, শিল্পীরা হাজার বার অনুশীলন করে তবেই দক্ষতা অর্জন করেছেন। তাঁদের সাফল্যকে আমরা দূর থেকে সৌভাগ্য বলে ডাকি, কিন্তু কাছ থেকে দেখলে দেখা যায় সেটি আসলে জমে ওঠা শ্রমের স্তূপ। অলস মানুষ ভাগ্যকে দোষ দেয়, কারণ নিজের নিষ্ক্রিয়তাকে স্বীকার করা কঠিন।
একটি জাতির ক্ষেত্রেও কথাটি সমানভাবে খাটে। যে দেশের মানুষ শ্রমকে সম্মান করে, সে দেশ দারিদ্র্য থেকে উঠে আসে। আমাদের দেশের কৃষক, শ্রমিক ও প্রবাসী শ্রমজীবী মানুষের ঘামেই অর্থনীতির ভিত দাঁড়িয়ে আছে — এ কথা মনে রাখলে শ্রমকে ছোট করে দেখার সুযোগ থাকে না।
মন্তব্য
তাই ভাগ্যের ওপর নির্ভর না করে কর্মে আত্মনিয়োগ করাই বুদ্ধিমানের কাজ। পরিশ্রম যাকে আপন করে নেয়, সৌভাগ্য তার দরজায় নিজেই এসে দাঁড়ায়।
উপযোগী শ্রেণি: ষষ্ঠ, সপ্তম, অষ্টম, নবম-দশম শ্রেণি।
সচরাচর জিজ্ঞাসা
সাধারণত ১৫০ থেকে ২৫০ শব্দ যথেষ্ট। মূলভাব সংক্ষিপ্ত, সম্প্রসারিত ভাব দুই-তিন অনুচ্ছেদ এবং মন্তব্য এক-দুই বাক্য — এই অনুপাতেই পূর্ণ নম্বর পাওয়া যায়।
আরও ভাবসম্প্রসারণ পড়ো
ভাবসম্প্রসারণ-এর পূর্ণ তালিকা ও বাংলা লেখার অন্যান্য অংশ এক জায়গায়।
আমাদের সাথে যুক্ত থাকো
পড়াশোনার আপডেট, সাজেশন ও প্রশ্নোত্তর সবার আগে পেতে আমাদের ফেসবুক পেজ ও গ্রুপে যুক্ত হও।






















