যা থেকে কিছু বিচ্যুত, গৃহীত, জাত, রক্ষিত বা দূরীভূত হয়, তাকে অপাদান বলে এবং ক্রিয়ার সঙ্গে তার সম্পর্ককে অপাদানকারক বলে।
বাংলা · বাংলা ব্যাকরণ
অপাদান কারক — বিচ্যুত, গৃহীত ও জাত অর্থে
অপাদানকারকের সংজ্ঞা, ছয় অর্থে এর প্রয়োগ এবং করণকারকের সঙ্গে পার্থক্য।
সংজ্ঞা
যা থেকে কিছু বিচ্যুত, গৃহীত, জাত, রক্ষিত বা দূরীভূত হয়, তাকে অপাদান বলে এবং ক্রিয়ার সঙ্গে তার সম্পর্ককে অপাদানকারক বলে।
বিস্তারিত আলোচনা
অপাদানের মূল ভাব হলো সরে আসা বা উৎস। ক্রিয়াপদকে "কোথা থেকে" বা "কী থেকে" প্রশ্ন করলে যে উত্তর মেলে, সেটিই অপাদানকারক। "গাছ থেকে পাতা পড়ে" বাক্যে "গাছ" অপাদান, কারণ পাতাটি গাছ থেকে বিচ্যুত হচ্ছে। এখানে পঞ্চমী বিভক্তি "থেকে" বসেছে।
অপাদানের কয়েকটি স্বতন্ত্র ভাব আলাদাভাবে চিনে রাখা দরকার। বিচ্যুত অর্থে — "গাছ থেকে ফল পড়ে"। গৃহীত অর্থে — "দুধ থেকে ঘি হয়"। জাত অর্থে — "জমি থেকে ফসল পাই"। রক্ষিত অর্থে — "বিপদ থেকে বাঁচাও"। দূরীভূত অর্থে — "পাপ থেকে দূরে থাকো"। ভীত অর্থেও অপাদান হয় — "বাঘকে ভয় পাই"।
অপাদান ও করণকারক গুলিয়ে যাওয়া সাধারণ ভুল। করণে যন্ত্র বা উপায় বোঝায়, আর অপাদানে উৎস বা বিচ্যুতি। "ছুরি দিয়ে কাটল" করণ, কিন্তু "ছুরির ভয়ে পালাল" অপাদান। প্রশ্নটি ঠিকমতো করলে দুটি আলাদা করা কঠিন নয় — একটিতে "কী দিয়ে", অন্যটিতে "কী থেকে"।
মনে রাখার কথা
সরে আসা, উৎস কিংবা ভয় — এই ভাবগুলো থাকলেই কারকটি অপাদান বলে ধরে নেওয়া যায়।
উপযোগী শ্রেণি: নবম, দশম, একাদশ, দ্বাদশ শ্রেণি।
সচরাচর জিজ্ঞাসা
করণে যন্ত্র বা উপায় বোঝায়, অপাদানে উৎস বা বিচ্যুতি। "ছুরি দিয়ে কাটল" করণ, আর "ছুরির ভয়ে পালাল" অপাদান।
অপাদানকারক হয়। "বাঘকে ভয় পাই" বাক্যে ভয়ের উৎস বাঘ, তাই এখানে "বাঘকে" অপাদানকারক হিসেবে গণ্য।
আরও বাংলা ব্যাকরণ পড়ো
বাংলা ব্যাকরণ-এর পূর্ণ তালিকা ও বাংলা লেখার অন্যান্য অংশ এক জায়গায়।
আমাদের সাথে যুক্ত থাকো
পড়াশোনার আপডেট, সাজেশন ও প্রশ্নোত্তর সবার আগে পেতে আমাদের ফেসবুক পেজ ও গ্রুপে যুক্ত হও।






















