অর্থবোধক ধ্বনি বা ধ্বনিসমষ্টিকে শব্দ বলে। অর্থ প্রকাশ না করলে সেটি শব্দ নয় — তাই অর্থই শব্দ হওয়ার প্রধান শর্ত।
বাংলা · বাংলা ব্যাকরণ
শব্দ কাকে বলে — শ্রেণিবিভাগ ও উদাহরণ
শব্দের সংজ্ঞা, উৎস ও গঠন অনুসারে শ্রেণিবিভাগ এবং যৌগিক, রূঢ়ি ও যোগরূঢ় শব্দের পার্থক্য।
সংজ্ঞা
অর্থবোধক ধ্বনি বা ধ্বনিসমষ্টিকে শব্দ বলে। যে ধ্বনিগুচ্ছ কোনো অর্থ প্রকাশ করে না, সেটি শব্দ নয় — অর্থই শব্দের প্রধান শর্ত।
বিস্তারিত আলোচনা
বাংলা শব্দকে দুইভাবে ভাগ করা হয় — উৎস অনুসারে এবং গঠন অনুসারে। উৎস অনুসারে শব্দ চার শ্রেণিতে পড়ে: তৎসম, অর্ধ-তৎসম, তদ্ভব এবং দেশি ও বিদেশি। এই ভাগটি জানা জরুরি, কারণ ণত্ব-ষত্ব বিধান কিংবা বানানের অনেক নিয়ম কেবল তৎসম শব্দেই খাটে, বাকিগুলোতে নয়।
গঠন অনুসারে শব্দ দুই প্রকার — মৌলিক ও সাধিত। যে শব্দকে ভাঙলে আর কোনো অর্থবোধক অংশ পাওয়া যায় না, তা মৌলিক শব্দ, যেমন হাত, নাক, গোলাপ। আর উপসর্গ, প্রত্যয় বা সমাসের সাহায্যে যে শব্দ গঠিত হয়, তা সাধিত শব্দ — যেমন হাতল, প্রশ্ন, চালক, নীলাকাশ।
আরেকটি ভাগ আছে অর্থ অনুসারে। যৌগিক শব্দে প্রকৃতি ও প্রত্যয়ের অর্থ মিলে যা দাঁড়ায়, শব্দের অর্থও তা-ই — যেমন গায়ক মানে যে গান গায়। রূঢ়ি শব্দে সেই অর্থ থাকে না, বরং অন্য অর্থ প্রচলিত হয়ে যায় — হস্তী মানে হাতযুক্ত নয়, একটি প্রাণী। আর যোগরূঢ় শব্দে সমাসনিষ্পন্ন অর্থের বাইরে বিশেষ অর্থ বসে, যেমন পঙ্কজ মানে যে-কোনো কাদাজাত বস্তু নয়, পদ্মফুল।
মনে রাখার কথা
শব্দের শ্রেণিবিভাগ মুখস্থ না করে উদাহরণ দিয়ে চিনতে শেখো — পরীক্ষায় উদাহরণ থেকেই শ্রেণি জিজ্ঞাসা করা হয়।
উপযোগী শ্রেণি: নবম, দশম, একাদশ, দ্বাদশ শ্রেণি।
সচরাচর জিজ্ঞাসা
দুই প্রকার — মৌলিক ও সাধিত। মৌলিক শব্দকে ভাঙলে অর্থবোধক অংশ পাওয়া যায় না (হাত, নাক); সাধিত শব্দ উপসর্গ, প্রত্যয় বা সমাসে গঠিত (হাতল, চালক)।
যৌগিকে প্রকৃতি-প্রত্যয়ের অর্থই শব্দের অর্থ (গায়ক)। রূঢ়িতে সেই অর্থ না থেকে অন্য অর্থ প্রচলিত (হস্তী)। যোগরূঢ়ে সমাসের অর্থ সংকুচিত হয়ে বিশেষ অর্থ বসে (পঙ্কজ = পদ্ম)।
আরও বাংলা ব্যাকরণ পড়ো
বাংলা ব্যাকরণ-এর পূর্ণ তালিকা ও বাংলা লেখার অন্যান্য অংশ এক জায়গায়।
আমাদের সাথে যুক্ত থাকো
পড়াশোনার আপডেট, সাজেশন ও প্রশ্নোত্তর সবার আগে পেতে আমাদের ফেসবুক পেজ ও গ্রুপে যুক্ত হও।






















