তৎসম শব্দে কোন অবস্থায় দন্ত্য-স না হয়ে মূর্ধন্য-ষ হবে, তার নিয়মকে ষত্ব বিধান বলে। যেমন বৃষ্টি, কৃষক, বর্ষা।
বাংলা · বাংলা ব্যাকরণ
ষত্ব বিধান — নিয়ম ও উদাহরণসহ ব্যাখ্যা
তৎসম শব্দে কখন ষ হয় — ষত্ব বিধানের নিয়ম, উপসর্গ-নিয়ম ও ব্যতিক্রম।
সংজ্ঞা
তৎসম শব্দে কখন দন্ত্য-স না হয়ে মূর্ধন্য-ষ হবে, সেই নিয়মকে ষত্ব বিধান বলে। ণত্ব বিধানের মতো এটিও কেবল তৎসম শব্দে প্রযোজ্য।
বিস্তারিত আলোচনা
ষত্ব বিধানের মূল শর্ত হলো অ ও আ ছাড়া অন্য স্বরধ্বনির পরে, কিংবা ক ও র-এর পরে স থাকলে সেই স মূর্ধন্য-ষ হয়ে যায়। যেমন ভবিষ্যৎ, মুষ্টি, বৃষ্টি, কৃষক, উষ্ণ। ই, উ, ঋ-কারের পর জিহ্বা স্বাভাবিকভাবেই মূর্ধার দিকে সরে আসে, তাই দন্ত্য-স উচ্চারণ কঠিন হয়ে পড়ে — এটিই নিয়মের পেছনের কারণ।
ঋ-কারের পরে এবং র্-এর পরে স থাকলে তা ষ হয়, যেমন বর্ষা, বর্ষণ, ঘর্ষণ। আবার কয়েকটি নির্দিষ্ট উপসর্গের পরেও স ষ হয় — অভি, অনু, পরি, প্রতি, বি, নি ইত্যাদির পরে যেমন অভিষেক, অনুষ্ঠান, পরিষদ, প্রতিষ্ঠান, বিষয়, নিষেধ।
কিছু শব্দে ষ ব্যবহৃত হয় কেবল প্রচলনের কারণে, কোনো সূত্র ছাড়াই — যেমন আষাঢ়, ঔষধ, কষ্ট, বিষ, ভাষা, পোষাক নয় বরং পোশাক। আর খাঁটি বাংলা ও বিদেশি শব্দে ষ ব্যবহৃত হয় না; সেখানে দন্ত্য-স বা তালব্য-শ বসে, যেমন জিনিস, পোস্ট, স্টেশন।
মনে রাখার কথা
ণত্ব বিধানের চাবি ঋ-র-ষ, আর ষত্ব বিধানের চাবি অ-আ ছাড়া অন্য স্বর, ক ও র — দুটি আলাদা রাখো।
উপযোগী শ্রেণি: নবম, দশম, একাদশ, দ্বাদশ শ্রেণি।
সচরাচর জিজ্ঞাসা
অভি, অনু, পরি, প্রতি, বি, নি প্রভৃতি উপসর্গের পরে — যেমন অভিষেক, অনুষ্ঠান, পরিষদ, প্রতিষ্ঠান, বিষয়, নিষেধ।
না। ষত্ব বিধান কেবল তৎসম শব্দে প্রযোজ্য। খাঁটি বাংলা ও বিদেশি শব্দে দন্ত্য-স বা তালব্য-শ বসে, যেমন জিনিস, স্টেশন।
আরও বাংলা ব্যাকরণ পড়ো
বাংলা ব্যাকরণ-এর পূর্ণ তালিকা ও বাংলা লেখার অন্যান্য অংশ এক জায়গায়।
আমাদের সাথে যুক্ত থাকো
পড়াশোনার আপডেট, সাজেশন ও প্রশ্নোত্তর সবার আগে পেতে আমাদের ফেসবুক পেজ ও গ্রুপে যুক্ত হও।






















