একই বাক্যে সাধু ও চলিত রীতি মিশিয়ে লিখলে যে দোষ হয়, তাকে গুরুচণ্ডালী দোষ বলে — যেমন "মড়াটি শ্মশানে গমন করিল"।
বাংলা · বাংলা ব্যাকরণ
শুদ্ধ ও অশুদ্ধ বাক্য — বাক্য শুদ্ধিকরণের নিয়ম
বাক্যের সাধারণ অশুদ্ধিগুলো — বচন, বাহুল্য, গুরুচণ্ডালী ও কর্তা-ক্রিয়ার অসামঞ্জস্য — ও তার সংশোধন।
সংজ্ঞা
ব্যাকরণের নিয়ম মেনে লেখা বাক্য শুদ্ধ, আর নিয়মভঙ্গকারী বাক্য অশুদ্ধ। অশুদ্ধ বাক্যকে নিয়ম অনুযায়ী ঠিক করাকে শুদ্ধিকরণ বলে।
বিস্তারিত আলোচনা
বাংলা বাক্যে অশুদ্ধি প্রধানত কয়েকটি নির্দিষ্ট জায়গায় ঘটে। বচনের অতিরিক্ত ব্যবহার একটি — "সব ছাত্ররা এসেছে" অশুদ্ধ, শুদ্ধ রূপ "সব ছাত্র এসেছে", কারণ "সব" থাকলে আর বহুবচন চিহ্ন লাগে না। একইভাবে "অনেক শিক্ষকগণ" অশুদ্ধ, শুদ্ধ "অনেক শিক্ষক"।
দ্বিতীয় সাধারণ ভুল সমার্থক শব্দের পুনরাবৃত্তি — "একমাত্র অদ্বিতীয় পুত্র" অশুদ্ধ, কারণ একমাত্র ও অদ্বিতীয় একই কথা বলছে। তৃতীয়ত সাধু ও চলিত রীতির মিশ্রণ, যাকে বলে গুরুচণ্ডালী দোষ — "মড়াটি শ্মশানে গমন করিল" এমন বাক্যে চলিত ও সাধু পাশাপাশি বসে বাক্যটিকে অশুদ্ধ করেছে।
চতুর্থত কর্তা ও ক্রিয়ার অসামঞ্জস্য — "আমি যায়" অশুদ্ধ, শুদ্ধ "আমি যাই"। পঞ্চমত অপ্রয়োজনীয় বিভক্তি বা ভুল বিভক্তি — "তাহাকে বলো যে সে যেন আসে" জাতীয় বাক্যে জটিলতা বাড়ে। শুদ্ধিকরণের সময় আগে ভুলের ধরনটি চিহ্নিত করা, তারপর নিয়ম অনুযায়ী সংশোধন করা — এই ক্রমেই কাজ করলে ভুল কম হয়।
মনে রাখার কথা
আগে ভুলের ধরনটি চিহ্নিত করো, তারপর নিয়ম প্রয়োগ করো — অনুমানে শুদ্ধ করতে গেলে নতুন ভুল ঢোকে।
উপযোগী শ্রেণি: নবম, দশম, একাদশ, দ্বাদশ শ্রেণি।
সচরাচর জিজ্ঞাসা
কারণ "সব" শব্দেই বহুত্ব বোঝাচ্ছে, তাই আবার "রা" বহুবচন চিহ্ন বসানো বাহুল্য। শুদ্ধ রূপ হলো "সব ছাত্র এসেছে"।
প্রথমে ভুলের ধরন চিহ্নিত করতে হয় — বচন, বাহুল্য, গুরুচণ্ডালী, কর্তা-ক্রিয়ার অসামঞ্জস্য না বিভক্তি — তারপর নিয়ম অনুযায়ী সংশোধন করতে হয়।
আরও বাংলা ব্যাকরণ পড়ো
বাংলা ব্যাকরণ-এর পূর্ণ তালিকা ও বাংলা লেখার অন্যান্য অংশ এক জায়গায়।
আমাদের সাথে যুক্ত থাকো
পড়াশোনার আপডেট, সাজেশন ও প্রশ্নোত্তর সবার আগে পেতে আমাদের ফেসবুক পেজ ও গ্রুপে যুক্ত হও।






















