সামনে থেকে দেখা: হৃৎপিণ্ডের ডান দিক তোমার বাঁ দিকে
নিয়ন্ত্রণ
কোন সংবহন উজ্জ্বল করবে
পরিমাপ
- হৃৎস্পন্দনের হার
- ৭৫বার/মিনিট
- একটি হৃৎচক্রের সময় = ৬০ ÷ হার
- ০.৮০s
- এখনকার দশা
- অলিন্দের সংকোচন
- চক্রের ভেতরে সময়
- ০.০০s
- কার্ডিয়াক আউটপুট = স্ট্রোক ভলিউম × হার
- ৫.২৫L/min
- খোলা কপাটিকা
- ত্রিপত্রী কপাটিকা · দ্বিপত্রী (মাইট্রাল) কপাটিকা
সিমুলেশনটি কীভাবে ব্যবহার করবে
- চালু করো আর একটি স্পন্দন খেয়াল করো: প্রথমে অলিন্দ সংকুচিত হয় (সময়রেখার কমলা অংশ), তারপর নিলয় (মাঝের লম্বা অংশ), তারপর সব প্রকোষ্ঠ শিথিল হয়।
- মহাশিরা দিয়ে ঢোকা একটি নীল বিন্দুকে অনুসরণ করো: ডান অলিন্দ, ডান নিলয় হয়ে সে ফুসফুসে যায়, আর ফুসফুসীয় শিরা দিয়ে লাল হয়ে বাম দিকে ফেরে।
- হলুদ কপাটিকার পাল্লাগুলো দেখো: নিলয় সংকোচন শুরু হতেই ত্রিপত্রী আর দ্বিপত্রী কপাটিকা বন্ধ হয় আর প্যানেলে “লাব” ভেসে ওঠে; নিলয় শিথিল হলে অর্ধচন্দ্রাকার কপাটিকা বন্ধ হয়, দেখা যায় “ডাব”।
- হৃৎস্পন্দনের হার ৭৫ থেকে ১৫০ করো: হৃৎচক্রের সময়, দশার দাগ আর ইসিজি সব দ্রুত হয়, “একটি হৃৎচক্রের সময়” অর্ধেক হয়ে যায়।
- স্ট্রোক ভলিউম বদলে কার্ডিয়াক আউটপুট মিলিয়ে দেখো, তারপর উজ্জ্বল করার বোতাম দিয়ে পালমোনারি আর সিস্টেমিক সংবহন আলাদা করে দেখো।
যে পাম্প কখনো ছুটি নেয় না
কবজির ভেতরের দিকে, বুড়ো আঙুলের নিচে দুটো আঙুল হালকা করে চেপে ধরো। টুক টুক করে যে ধাক্কা টের পাচ্ছ, সেটাই তোমার হৃৎপিণ্ডের কাজ। তুমি জন্মানোর কয়েক মাস আগেই এটা চলা শুরু করেছে, আর তারপর একবারও থামেনি: ঘুমের মধ্যে না, পরীক্ষার হলে না, এই লাইনটা পড়ার সময়ও না।
বিশ্রামের সময় মিনিটে প্রায় ৭২ বার স্পন্দন ধরলে এক দিনে হৃৎপিণ্ড ১,০৩,৬৮০ বার স্পন্দিত হয়। ৭০ বছরে সংখ্যাটা দাঁড়ায় প্রায় ২৬৫ কোটি বার, আর একবারও তোমাকে মনে করিয়ে দিতে হয় না। মানুষের বানানো কোনো যন্ত্র সার্ভিসিং ছাড়া এত দিন চলে না।
ঢাকার কোনো বাড়ির ছাদের পানির পাম্পের কথা ভাবো। নিচের ট্যাংক থেকে পানি টেনে সব কলে পৌঁছে দেয়। হৃৎপিণ্ড রক্ত নিয়ে ঠিক এই কাজটাই করে: শিরা থেকে রক্ত টেনে নেয় আর ধমনি দিয়ে ঠেলে পাঠায়, যাতে প্রতিটি কোষ অক্সিজেন আর খাদ্য পায়, আর বর্জ্য সরিয়ে নেওয়া যায়। কীভাবে করে, তা এই পাতার চলমান চিত্রে নিজে নিয়ন্ত্রণ করে দেখতে পারবে।
হৃৎপিণ্ডের অবস্থান ও সুরক্ষা: পেরিকার্ডিয়াম
হৃৎপিণ্ড বক্ষগহ্বরের মাঝখানে, দুই ফুসফুসের মাঝে, বুকের হাড়ের (স্টার্নাম) পেছনে থাকে। এটি একটু বাঁকা হয়ে বসানো, তাই এর প্রায় দুই-তৃতীয়াংশ মধ্যরেখার বাঁ দিকে। এ কারণেই বাঁ দিকে স্পন্দন বেশি টের পাওয়া যায়, যদিও পুরো হৃৎপিণ্ড বাঁ দিকে নয়।
প্রাপ্তবয়স্ক মানুষের হৃৎপিণ্ড প্রায় একটি মুষ্টির সমান, লম্বায় প্রায় ১২ সেমি, ওজন মোটামুটি ২৫০ থেকে ৩৫০ গ্রাম। আকারটা অনেকটা উল্টো শঙ্কুর মতো: চওড়া অংশ (ভিত্তি) ওপরে, যেখানে বড় রক্তনালিগুলো যুক্ত; আর সরু মাথাটা (অ্যাপেক্স) নিচে ও বাঁ দিকে।
হৃৎপিণ্ড দুই স্তরের একটি পাতলা থলিতে মোড়া, এর নাম পেরিকার্ডিয়াম (হৃদ-আবরণী)। দুই স্তরের মাঝে থাকে পেরিকার্ডিয়াল তরল। যন্ত্রে তেল দিলে যেমন ঘষা কমে, এই তরলও তেমনি ঘণ্টায় হাজার হাজার বার স্পন্দনের সময় ঘর্ষণ কমায় আর ছোটখাটো ধাক্কা থেকে হৃৎপিণ্ডকে রক্ষা করে। বাইরে পাঁজরের হাড় আর স্টার্নাম শক্ত ঢাল হিসেবে কাজ করে।
হৃৎপিণ্ডের প্রাচীর ও বাহ্যিক গঠন
হৃৎপিণ্ডের প্রাচীরে তিনটি স্তর। বাইরের পাতলা স্তর এপিকার্ডিয়াম, মাঝের পুরু স্তর মায়োকার্ডিয়াম আর ভেতরের মসৃণ আস্তরণ এন্ডোকার্ডিয়াম। মায়োকার্ডিয়াম তৈরি হৃৎপেশি দিয়ে, যা ছন্দে ছন্দে সংকুচিত হয় আর হাতের পেশির মতো ক্লান্ত হয়ে পড়ে না। এন্ডোকার্ডিয়াম কপাটিকাগুলোকেও ঢেকে রাখে।
বাইরে থেকে দেখলে একটি খাঁজ চোখে পড়ে যা ওপরের প্রকোষ্ঠ (অলিন্দ) আর নিচের প্রকোষ্ঠকে (নিলয়) আলাদা করে; সামনে আর পেছনেও খাঁজ থাকে, যেখানে দুই নিলয় মিলেছে। এই খাঁজগুলোতে থাকে করোনারি ধমনি। এগুলোই হৃৎপিণ্ডের নিজের খাবারের লাইন: প্রকোষ্ঠের ভেতর দিয়ে যে রক্ত যায়, হৃৎপেশি তা থেকে অক্সিজেন নেয় না, করোনারি ধমনির রক্ত থেকে নেয়।
ওপরের দিকে বড় রক্তনালিগুলো দেখা যায়: বাঁকা হয়ে ওপরে ওঠা মহাধমনি, তার সামনে ফুসফুসীয় ধমনির কাণ্ড, ডান দিকে ঊর্ধ্ব মহাশিরা আর পেছনে ফুসফুসীয় শিরা।
চারটি প্রকোষ্ঠ: অলিন্দ ও নিলয়, আর বাম নিলয় কেন সবচেয়ে পুরু
ভেতরে হৃৎপিণ্ড একটি পেশিময় প্রাচীর বা সেপটাম দিয়ে ডান আর বাম দুই ভাগে বিভক্ত। সুস্থ হৃৎপিণ্ডে দুই পাশের রক্ত কখনো মেশে না। প্রতিটি ভাগে দুটি প্রকোষ্ঠ: ওপরে পাতলা প্রাচীরের অলিন্দ (অ্যাট্রিয়াম), যা রক্ত গ্রহণ করে; আর নিচে পুরু প্রাচীরের নিলয় (ভেন্ট্রিকল), যা রক্ত পাম্প করে বের করে দেয়।
বইয়ের চিত্রে আর এই সিমুলেশনে দিকটা খেয়াল করো: এটা তোমার দিকে মুখ করে থাকা একজন মানুষের সামনে থেকে দেখা ছবি, তাই হৃৎপিণ্ডের ডান দিক তোমার বাঁ দিকে পড়ে। ডান অলিন্দ আর ডান নিলয় ছবির বাঁ পাশে আঁকা।
প্রাচীরের পুরুত্ব এত আলাদা কেন? যে প্রকোষ্ঠের কাজ যত কঠিন, তার প্রাচীর তত পুরু। অলিন্দ রক্তকে মাত্র কয়েক সেন্টিমিটার নিচে নিলয়ে পাঠায়, তাই এর প্রাচীর পাতলা। ডান নিলয় রক্ত পাঠায় পাশের ফুসফুসে, যেখানে বাধা কম, তাই এর প্রাচীর মাঝারি পুরু। বাম নিলয়কে রক্ত পাঠাতে হয় মাথা থেকে পায়ের আঙুল পর্যন্ত সারা দেহে, অনেক বেশি চাপে, তাই এর প্রাচীর সবচেয়ে পুরু, ডান নিলয়ের প্রায় তিন গুণ। সিমুলেশনে বাম নিলয়ের দেয়াল তাই সবচেয়ে মোটা করে আঁকা।
| প্রকোষ্ঠ | রক্ত আসে | রক্ত যায় | রক্তের ধরন | প্রাচীর |
|---|---|---|---|---|
| ডান অলিন্দ | ঊর্ধ্ব ও নিম্ন মহাশিরা | ডান নিলয় | অক্সিজেনহীন | পাতলা |
| ডান নিলয় | ডান অলিন্দ | ফুসফুস (ফুসফুসীয় ধমনি) | অক্সিজেনহীন | বেশি পুরু |
| বাম অলিন্দ | ফুসফুস (ফুসফুসীয় শিরা) | বাম নিলয় | অক্সিজেনযুক্ত | পাতলা |
| বাম নিলয় | বাম অলিন্দ | সারা দেহ (মহাধমনি) | অক্সিজেনযুক্ত | সবচেয়ে পুরু |
কপাটিকা আর লাব-ডাব শব্দ
কপাটিকা হলো একমুখী দরজা। সঠিক দিক থেকে রক্ত ঠেললে খোলে, আর রক্ত উল্টো দিকে যেতে চাইলে ধপ করে বন্ধ হয়ে যায়। হৃৎপিণ্ডে এমন চারটি কপাটিকা আছে।
ডান অলিন্দ আর ডান নিলয়ের মাঝে থাকে তিনটি পাল্লার ত্রিপত্রী কপাটিকা (ট্রাইকাসপিড)। বাম অলিন্দ আর বাম নিলয়ের মাঝে থাকে দুটি পাল্লার দ্বিপত্রী কপাটিকা (বাইকাসপিড), যার আরেক নাম মাইট্রাল কপাটিকা। এই দুটিকে একসাথে অ্যাট্রিওভেন্ট্রিকুলার বা AV কপাটিকা বলে। কর্ডি টেনডিনি নামের সরু সুতার মতো তন্তু প্যাপিলারি পেশির সাথে পাল্লাগুলোকে বেঁধে রাখে, তাই নিলয় সংকোচনের সময় পাল্লা উল্টে অলিন্দে চলে যায় না।
নিলয় থেকে বের হওয়ার মুখে থাকে দুটি অর্ধচন্দ্রাকার কপাটিকা, প্রতিটিতে তিনটি আধখানা চাঁদের মতো পকেট: ফুসফুসীয় ধমনির গোড়ায় পালমোনারি কপাটিকা আর মহাধমনির গোড়ায় অ্যাওর্টিক কপাটিকা। নিলয় শিথিল হলে রক্ত যেন আবার নিলয়ে ফিরে না আসে, সেটা এরা ঠেকায়।
ডাক্তার স্টেথোস্কোপে যে শব্দ শোনেন, তা আসলে কপাটিকা বন্ধ হওয়ার শব্দ। প্রথম শব্দ “লাব” লম্বা ও ভারী: নিলয় সংকোচনের শুরুতে AV কপাটিকা বন্ধ হওয়ার শব্দ। দ্বিতীয় শব্দ “ডাব” ছোট ও তীক্ষ্ণ: নিলয় শিথিল হওয়ার শুরুতে অর্ধচন্দ্রাকার কপাটিকা বন্ধ হওয়ার শব্দ। সিমুলেশনের প্যানেলে দেখো, ত্রিপত্রী ও দ্বিপত্রী পাল্লা বন্ধ হওয়ার মুহূর্তেই “লাব” আর অর্ধচন্দ্রাকার পাল্লা বন্ধের মুহূর্তে “ডাব” ভেসে ওঠে।
| কপাটিকা | অবস্থান | পাল্লা | কোথায় উল্টো প্রবাহ ঠেকায় | বন্ধ হওয়ার শব্দ |
|---|---|---|---|---|
| ত্রিপত্রী | ডান অলিন্দ → ডান নিলয় | ৩টি | ডান অলিন্দে | লাব (১ম শব্দ) |
| দ্বিপত্রী (মাইট্রাল) | বাম অলিন্দ → বাম নিলয় | ২টি | বাম অলিন্দে | লাব (১ম শব্দ) |
| পালমোনারি অর্ধচন্দ্রাকার | ডান নিলয় → ফুসফুসীয় ধমনি | ৩টি পকেট | ডান নিলয়ে | ডাব (২য় শব্দ) |
| অ্যাওর্টিক অর্ধচন্দ্রাকার | বাম নিলয় → মহাধমনি | ৩টি পকেট | বাম নিলয়ে | ডাব (২য় শব্দ) |
ধমনি, শিরা ও কৈশিক জালিকা
হৃৎপিণ্ড রক্ত পাঠায় নালির এক বিশাল জালে। ধমনি রক্ত হৃৎপিণ্ড থেকে দূরে নিয়ে যায়। শিরা রক্ত হৃৎপিণ্ডের দিকে ফিরিয়ে আনে। কৈশিক জালিকা (ক্যাপিলারি) খুব সরু নালি, প্রাচীর মাত্র এক কোষ পুরু, যা ছোট ধমনিকে ছোট শিরার সাথে জোড়ে; আসল আদান-প্রদান, অর্থাৎ অক্সিজেন, গ্লুকোজ আর বর্জ্য পদার্থের বিনিময় এখানেই ঘটে।
একটা সাধারণ ফাঁদ: “ধমনি অক্সিজেনযুক্ত রক্ত বহন করে” কথাটা বেশির ভাগ ধমনির জন্য সত্য, সবার জন্য নয়। ফুসফুসীয় ধমনি অক্সিজেনহীন রক্ত হৃৎপিণ্ড থেকে ফুসফুসে নেয়, আর ফুসফুসীয় শিরা অক্সিজেনযুক্ত রক্ত ফুসফুস থেকে হৃৎপিণ্ডে আনে। সংজ্ঞাটা দিক নিয়ে (হৃৎপিণ্ড থেকে দূরে না কাছে), অক্সিজেন নিয়ে নয়।
| বৈশিষ্ট্য | ধমনি | শিরা | কৈশিক জালিকা |
|---|---|---|---|
| প্রবাহের দিক | হৃৎপিণ্ড থেকে দূরে | হৃৎপিণ্ডের দিকে | ধমনি ও শিরাকে যুক্ত করে |
| প্রাচীর | পুরু, পেশিবহুল, স্থিতিস্থাপক | পাতলা, পেশি কম | এক কোষ পুরু |
| গহ্বর (লুমেন) | সরু | চওড়া | খুব সরু, একবারে একটি রক্তকণিকা |
| কপাটিকা | নেই | আছে, উল্টো প্রবাহ ঠেকায় | নেই |
| চাপ | বেশি, প্রতি স্পন্দনে ওঠানামা করে | কম, স্থির | কম |
| সাধারণত রক্ত | অক্সিজেনযুক্ত (ফুসফুসীয় ধমনি বাদে) | অক্সিজেনহীন (ফুসফুসীয় শিরা বাদে) | বিনিময় এখানে হয় |
দ্বিচক্রী সংবহন: একটি হৃৎপিণ্ড, দুটি পথ
মানুষের দেহে রক্ত একবার পুরো দেহ ঘুরে আসতে হৃৎপিণ্ডের ভেতর দিয়ে দুবার যায়। একেই বলে দ্বিচক্রী সংবহন (ডাবল সার্কুলেশন), আর সিমুলেশনে দুটো পথই আঁকা আছে যাতে তুমি অনুসরণ করতে পারো।
পালমোনারি বা ফুসফুসীয় সংবহন ছোট পথ: ডান নিলয় → ফুসফুসীয় ধমনি → ফুসফুস → ফুসফুসীয় শিরা → বাম অলিন্দ। ফুসফুসে রক্ত কার্বন ডাই-অক্সাইড ছেড়ে দেয় আর অক্সিজেন নেয়, তাই চিত্রে রক্ত নীল থেকে লাল হয়।
সিস্টেমিক বা দেহজ সংবহন লম্বা পথ: বাম নিলয় → মহাধমনি → ধমনি → প্রতিটি অঙ্গের কৈশিক জালিকা → শিরা → ঊর্ধ্ব ও নিম্ন মহাশিরা → ডান অলিন্দ। দেহের কৈশিক জালিকায় রক্ত কোষকে অক্সিজেন দেয় আর কার্বন ডাই-অক্সাইড নেয়, তাই লাল থেকে আবার নীল হয়।
এতে লাভ কী? দুই পাশের রক্ত কখনো মেশে না বলে দেহ সবসময় পুরোপুরি অক্সিজেনযুক্ত রক্ত বেশি চাপে পায়। মাছের হৃৎপিণ্ড দুই প্রকোষ্ঠের, সংবহন এক চক্রের, তাই ফুলকা পার হতে গিয়ে রক্তের চাপ কমে যায়। ব্যাঙের তিন প্রকোষ্ঠ, কিছুটা রক্ত মেশে। পাখি আর স্তন্যপায়ী প্রাণীর দেহের তাপমাত্রা স্থির রাখতে অনেক শক্তি লাগে, তাই তাদের চার প্রকোষ্ঠ আর সম্পূর্ণ দ্বিচক্রী সংবহন।
- পালমোনারি সংবহন: হৃৎপিণ্ড → ফুসফুস → হৃৎপিণ্ড (ছোট পথ, কম চাপ)।
- সিস্টেমিক সংবহন: হৃৎপিণ্ড → দেহ → হৃৎপিণ্ড (লম্বা পথ, বেশি চাপ)।
- এক লাইনে রক্তের পথ: মহাশিরা → ডান অলিন্দ → ডান নিলয় → ফুসফুসীয় ধমনি → ফুসফুস → ফুসফুসীয় শিরা → বাম অলিন্দ → বাম নিলয় → মহাধমনি → দেহ।
হৃৎচক্র: একটি স্পন্দন ধাপে ধাপে
একটি হৃৎস্পন্দনে যা যা ঘটে, সব মিলিয়ে একটি হৃৎচক্র (কার্ডিয়াক সাইকেল)। সংকোচনকে বলে সিস্টোল, প্রসারণ বা শিথিলনকে ডায়াস্টোল। একটি চক্রের সময় = ৬০ সেকেন্ড ÷ হৃৎস্পন্দনের হার: মিনিটে ৭৫ বার হলে ৬০ ÷ ৭৫ = ০.৮ সেকেন্ড।
বইয়ে এই ০.৮ সেকেন্ডকে তিন দশায় ভাগ করা হয়। অলিন্দের সংকোচন (প্রায় ০.১ সেকেন্ড): অলিন্দ চাপ দিয়ে নিলয়কে পুরোপুরি ভরে দেয়, যদিও নিলয় আগেই বেশির ভাগ ভরে গিয়েছিল। নিলয়ের সংকোচন (প্রায় ০.৩ সেকেন্ড): নিলয় চাপ দেয়, AV কপাটিকা বন্ধ হয় (লাব), অর্ধচন্দ্রাকার কপাটিকা খোলে আর রক্ত ফুসফুসীয় ধমনি ও মহাধমনিতে ছুটে যায়। সম্মিলিত প্রসারণ (প্রায় ০.৪ সেকেন্ড): সব প্রকোষ্ঠ শিথিল হয়, অর্ধচন্দ্রাকার কপাটিকা বন্ধ হয় (ডাব), শিরা থেকে রক্ত অলিন্দে আসে আর খোলা AV কপাটিকা দিয়ে সোজা নিলয়ে নামে।
দুটি ছোট্ট মুহূর্তে চারটি কপাটিকাই বন্ধ থাকে: “লাব”-এর ঠিক পরে নিলয়ে চাপ বাড়ছে কিন্তু এখনো অর্ধচন্দ্রাকার কপাটিকা ঠেলে খুলতে পারেনি; আর “ডাব”-এর ঠিক পরে নিলয় শিথিল হচ্ছে কিন্তু চাপ এখনো এত কমেনি যে AV কপাটিকা খুলবে। সিমুলেশনের “খোলা কপাটিকা” পরিমাপে এই মুহূর্তগুলোতে “সব বন্ধ” লেখা ঝলক দেয়।
সংখ্যা নিয়ে একটি কথা: NCTB-র বইসহ অনেক বইয়ে মিনিটে ৭২ বার স্পন্দন আর ০.৮ সেকেন্ডের হৃৎচক্র লেখা থাকে। হিসাব কষলে ৬০ ÷ ৭২ = ০.৮৩ সেকেন্ড; ঠিক ০.৮ সেকেন্ড হয় মিনিটে ৭৫ বারে, তাই সিমুলেশন সেখান থেকে শুরু। আরেকটি কথা: হার বাড়ালে সিমুলেশন তিন দশাকেই সমান অনুপাতে ছোট করে। আসল হৃৎপিণ্ডে মূলত প্রসারণের সময়টাই কমে, তাই খুব দ্রুত স্পন্দনে নিলয় ভরার সময় কম পায়।
| হার (বার/মিনিট) | হৃৎচক্র | অলিন্দের সংকোচন | নিলয়ের সংকোচন | প্রসারণ | ৭০ mL-এ কার্ডিয়াক আউটপুট |
|---|---|---|---|---|---|
| ৫০ | ১.২০ s | ০.১৫ s | ০.৪৫ s | ০.৬০ s | ৩.৫০ L/min |
| ৬০ | ১.০০ s | ০.১৩ s | ০.৩৮ s | ০.৫০ s | ৪.২০ L/min |
| ৭৫ | ০.৮০ s | ০.১০ s | ০.৩০ s | ০.৪০ s | ৫.২৫ L/min |
| ১০০ | ০.৬০ s | ০.০৮ s | ০.২২ s | ০.৩০ s | ৭.০০ L/min |
| ১২০ | ০.৫০ s | ০.০৬ s | ০.১৯ s | ০.২৫ s | ৮.৪০ L/min |
| ১৫০ | ০.৪০ s | ০.০৫ s | ০.১৫ s | ০.২০ s | ১০.৫০ L/min |
পেসমেকার: হৃৎপিণ্ডকে স্পন্দিত হতে কে বলে?
হৃৎপিণ্ডে যাওয়া স্নায়ু কেটে দিলেও হৃৎপিণ্ড স্পন্দিত হতে থাকে; প্রতিস্থাপনের জন্য বের করা হৃৎপিণ্ডও কিছুক্ষণ স্পন্দিত হয়। কারণ প্রতিটি স্পন্দনের সংকেত হৃৎপিণ্ডের ভেতরেই তৈরি হয়। এমন হৃৎপিণ্ডকে মায়োজেনিক হৃৎপিণ্ড বলে।
স্বাভাবিক পেসমেকার হলো সাইনো-অ্যাট্রিয়াল নোড (SA নোড বা সাইনো-অরিকুলার নোড), ডান অলিন্দের প্রাচীরে ঊর্ধ্ব মহাশিরার প্রবেশমুখের কাছে বিশেষ পেশির ছোট্ট একটি অংশ। বিশ্রামের সময় এটি মিনিটে প্রায় ৭০ থেকে ৭৫ বার বৈদ্যুতিক উদ্দীপনা তৈরি করে। উদ্দীপনা দুই অলিন্দে ছড়িয়ে পড়ে আর অলিন্দ সংকুচিত হয়।
এরপর উদ্দীপনা পৌঁছায় অ্যাট্রিওভেন্ট্রিকুলার নোডে (AV নোড), দুই অলিন্দের মাঝের প্রাচীরের নিচের দিকে। AV নোড সংকেতটাকে প্রায় এক সেকেন্ডের দশ ভাগের এক ভাগ আটকে রাখে। এই ছোট্ট দেরিতে অলিন্দ নিলয়ে রক্ত ঢালা শেষ করার সময় পায়।
AV নোড থেকে সংকেত সেপটামের ভেতরে বান্ডল অব হিজ দিয়ে নামে, ডান ও বাম শাখায় ভাগ হয়, তারপর নিলয়ের প্রাচীরে পারকিনজি তন্তু দিয়ে ছড়িয়ে পড়ে। নিলয় তখন নিচ থেকে ওপরের দিকে সংকুচিত হয়, টুথপেস্টের টিউব নিচ থেকে চাপ দেওয়ার মতো, রক্ত ওপরে ঠেলে বের করে দেয়।
স্নায়ু আর হরমোন স্পন্দন শুরু করে না, তবে গতি বদলায়। দৌড়ালে বা ভয় পেলে সিমপ্যাথেটিক স্নায়ু আর অ্যাড্রিনালিন হরমোন SA নোডকে দ্রুত করে; বিশ্রামে ভেগাস স্নায়ু তাকে ধীর করে।
- SA নোড (পেসমেকার) → অলিন্দ সংকোচন
- AV নোড (সামান্য দেরি)
- বান্ডল অব হিজ → ডান ও বাম শাখা
- পারকিনজি তন্তু → নিলয় সংকোচন
ইসিজির প্রাথমিক ধারণা: P, QRS ও T
ইলেকট্রোকার্ডিওগ্রাম (ইসিজি বা ECG) ত্বকে লাগানো ইলেকট্রোড দিয়ে হৃৎপিণ্ডের বৈদ্যুতিক সংকেত রেকর্ড করে। এটি রক্তপ্রবাহ মাপে না, মাপে সেই বৈদ্যুতিক তরঙ্গ যা প্রতিটি সংকোচন শুরু করায়। সিমুলেশনে একটি সরল নকশার রেখা দশার সাথে তাল মিলিয়ে চলে।
P তরঙ্গ ছোট আর গোলাকার: অলিন্দ সংকোচনের ঠিক আগে অলিন্দের বৈদ্যুতিক উদ্দীপনা (ডিপোলারাইজেশন)। QRS কমপ্লেক্স উঁচু, সুচালো চূড়া: নিলয়ের উদ্দীপনা, নিলয় সংকোচনের ঠিক আগে। T তরঙ্গ একটি নরম কুঁজ: নিলয় আবার আগের অবস্থায় ফেরা (রিপোলারাইজেশন), যখন নিলয় শিথিল হচ্ছে। অলিন্দও আগের অবস্থায় ফেরে, কিন্তু সেই ছোট সংকেত QRS-এর ভেতরে ঢাকা পড়ে।
ডাক্তাররা আকারের সাথে দূরত্বও দেখেন। এক R চূড়া থেকে পরের R চূড়া পর্যন্ত একটি পূর্ণ চক্র, তাই হৃৎস্পন্দনের হার = ৬০ ÷ (R–R দূরত্ব, সেকেন্ডে)। আসল ইসিজি কেবল প্রশিক্ষিত ডাক্তারই ব্যাখ্যা করতে পারেন; এই পাতা তরঙ্গগুলোর অর্থ বোঝানোর জন্য, নিজের রিপোর্ট পড়ার জন্য নয়।
| তরঙ্গ | বৈদ্যুতিকভাবে কী ঘটে | এরপর যান্ত্রিকভাবে কী ঘটে |
|---|---|---|
| P | অলিন্দের ডিপোলারাইজেশন | অলিন্দের সংকোচন |
| QRS | নিলয়ের ডিপোলারাইজেশন (অলিন্দের রিপোলারাইজেশন ঢাকা পড়ে) | নিলয়ের সংকোচন, “লাব” |
| T | নিলয়ের রিপোলারাইজেশন | নিলয় শিথিল হয়, শেষ দিকে “ডাব” |
নাড়ি, রক্তচাপ ও কার্ডিয়াক আউটপুট
বাম নিলয় যতবার মহাধমনিতে রক্ত ঠেলে দেয়, ততবার একটি চাপের ঢেউ ধমনি বেয়ে ছুটে যায়। যেখানে ধমনি ত্বকের কাছে কোনো হাড়ের ওপর দিয়ে গেছে, সেখানে সেই ঢেউকে নাড়ি (পালস) হিসেবে টের পাওয়া যায়: কবজিতে (রেডিয়াল ধমনি) আর গলার পাশে (ক্যারোটিড ধমনি)। ১৫ সেকেন্ড গুনে ৪ দিয়ে গুণ করলে হৃৎস্পন্দনের হার পাওয়া যায়। বিশ্রামে প্রাপ্তবয়স্কের স্বাভাবিক হার মোটামুটি মিনিটে ৬০ থেকে ১০০ বার; শিশু আর নবজাতকের হার বেশি, নিয়মিত খেলোয়াড়দের প্রায়ই কম।
রক্তচাপ হলো ধমনির প্রাচীরে রক্তের চাপ, মাপা হয় পারদের মিলিমিটারে (mm Hg), স্ফিগমোম্যানোমিটার দিয়ে। এটি দুটি সংখ্যায় লেখা হয়, যেমন ১২০/৮০। ওপরের সংখ্যা (সিস্টোলিক) নিলয় সংকোচনের সময়ের সর্বোচ্চ চাপ; নিচের সংখ্যা (ডায়াস্টোলিক) হৃৎপিণ্ড শিথিল থাকার সময়ের সর্বনিম্ন চাপ। ১২০/৮০ mm Hg বইয়ে দেওয়া সুস্থ প্রাপ্তবয়স্কের সাধারণ মান। বারবার মাপার পরও চাপ বেশি থাকলে তাকে উচ্চ রক্তচাপ বলে, আর সেটা ঠিক করবেন কেবল ডাক্তার।
কার্ডিয়াক আউটপুট হলো একটি নিলয় এক মিনিটে কতটা রক্ত পাম্প করে: কার্ডিয়াক আউটপুট = স্ট্রোক ভলিউম × হৃৎস্পন্দনের হার। সিমুলেশনের শুরুর মানে ৭০ mL × ৭৫ = ৫,২৫০ mL, অর্থাৎ মিনিটে ৫.২৫ লিটার। একজন প্রাপ্তবয়স্কের দেহে রক্ত মাত্র প্রায় ৫ লিটার, তাই মোটামুটি প্রতি মিনিটে পুরো রক্ত একবার ঘুরে আসে।
হৃৎচক্রের সময় (s) = ৬০ ÷ হার (বার/মিনিট)৬০ ÷ ৭৫ = ০.৮ s
কার্ডিয়াক আউটপুট = স্ট্রোক ভলিউম × হার৭০ mL × ৭৫ = ৫,২৫০ mL/min = ৫.২৫ L/min
হার = ৬০ ÷ R–R দূরত্বইসিজি থেকে
পালস প্রেশার = সিস্টোলিক − ডায়াস্টোলিক১২০ − ৮০ = ৪০ mm Hg
সিমুলেশনে নিজে করে দেখো
প্রতিটি পরীক্ষা এক মিনিটের কম সময় নেয়, আর একটি করে ধারণা পাকা করে দেয়।
১. “লাব” ধরো
গতি ০.২৫× করো। ত্রিপত্রী আর দ্বিপত্রী পাল্লার দিকে তাকাও। সময়রেখার কমলা অংশ শেষ হয়ে নিলয় চাপ দেওয়া শুরু করার মুহূর্তেই দুটো পাল্লা বন্ধ হয় আর “লাব” দেখা যায়। খেয়াল করো, ইসিজির QRS চূড়া আসে ঠিক তার আগে: আগে বিদ্যুৎ, পরে সংকোচন।
২. “ডাব” ধরো
০.২৫× গতিতেই নিলয়ের মাথার দুটি ছোট অর্ধচন্দ্রাকার কপাটিকা দেখো। “লাব”-এর একটু পরে এগুলো খোলে, আর নিলয় শিথিল হলে “ডাব”-এর সাথে বন্ধ হয়। ইসিজির T তরঙ্গ তখন সবে শেষ হয়েছে।
৩. একটি রক্তকণিকার পিছু নাও
পালমোনারি সংবহন উজ্জ্বল করো, ডান নিলয় থেকে বের হওয়া একটি বিন্দু বেছে নাও। দেখো সেটা ফুসফুসে গিয়ে নীল থেকে লাল হয়। তারপর সিস্টেমিক বেছে বাম নিলয় থেকে মহাধমনি হয়ে দেহে যাওয়া একটি লাল বিন্দুকে অনুসরণ করো; দেহে গিয়ে সেটা আবার নীল হয়।
৪. ব্যায়াম
হার ১৫০ আর স্ট্রোক ভলিউম ১০০ mL করো। হৃৎচক্রের সময় নেমে আসে ০.৪ সেকেন্ডে, আর কার্ডিয়াক আউটপুট বেড়ে হয় মিনিটে ১৫ লিটার, বিশ্রামের প্রায় ২.৯ গুণ। ফুটবল ম্যাচে দৌড়ানোর সময় ঠিক এমনটাই ঘটে।
৫. ঘুম
হার কমিয়ে ৫০ করো। হৃৎচক্র এক সেকেন্ডের চেয়ে লম্বা হয়ে যায়, ইসিজির চূড়াগুলো দূরে দূরে সরে যায়। বিশ্রাম বা ঘুমের সময় দেহের অক্সিজেন কম লাগে, তাই হৃৎপিণ্ড ধীরে চলে।
গাণিতিক সমস্যার সমাধান
নিচের প্রতিটি উত্তর সিমুলেশনের নিজের মডেল থেকে হিসাব করা, তাই পরিমাপ প্যানেলে মিলিয়ে দেখতে পারো।
সমস্যা ১: একটি হৃৎচক্রের সময়
একটি হৃৎপিণ্ড মিনিটে ৭৫ বার স্পন্দিত হয়। একটি হৃৎচক্র কত সময়ের, আর প্রতিটি দশা কতক্ষণ?
হৃৎচক্র = ৬০ ÷ ৭৫ = ০.৮ সেকেন্ড। অলিন্দের সংকোচন = ০.১ s, নিলয়ের সংকোচন = ০.৩ s, প্রসারণ = ০.৪ s। খেয়াল করো, প্রতি চক্রের অর্ধেক সময় হৃৎপিণ্ড বিশ্রামে থাকে; তখনই সে ভরে ওঠে আর তার নিজের পেশি বেশির ভাগ রক্ত পায়।
সমস্যা ২: কার্ডিয়াক আউটপুট
স্ট্রোক ভলিউম ৭০ mL, হার মিনিটে ৭৫ বার। কার্ডিয়াক আউটপুট লিটার/মিনিটে বের করো।
কার্ডিয়াক আউটপুট = ৭০ × ৭৫ = ৫,২৫০ mL/min। ১,০০০ দিয়ে ভাগ করে: ৫.২৫ L/min।
সমস্যা ৩: ধীর হৃৎপিণ্ড, দ্রুত হৃৎপিণ্ড
মিনিটে ৬০ বার আর ১২০ বার স্পন্দনে হৃৎচক্রের সময় এবং সিমুলেশনের অনুপাতে প্রসারণের সময় বের করো।
৬০ বারে: ৬০ ÷ ৬০ = ১.০ s, প্রসারণ = ০.৫০ s। ১২০ বারে: ৬০ ÷ ১২০ = ০.৫ s, প্রসারণ = ০.২৫ s। হার দ্বিগুণ হলে ভরার সময় অর্ধেক হয়ে যায়।
সমস্যা ৪: এক দিনের হৃৎস্পন্দন
মিনিটে ৭২ বার স্পন্দন আর প্রতি স্পন্দনে ৭০ mL রক্ত হলে এক দিনে কত স্পন্দন আর কত লিটার রক্ত?
এক দিন = ১,৪৪০ মিনিট। স্পন্দন = ৭২ × ১,৪৪০ = ১,০৩,৬৮০ বার। রক্ত = ৭২ × ৭০ × ১,৪৪০ = ৭২,৫৭,৬০০ mL ≈ ৭,২৫৭.৬ লিটার, একটি বড় পানির ট্যাংক ভরার মতো, আর তা পাম্প করে তোমার মুষ্টির সমান একটি অঙ্গ।
সমস্যা ৫: নাড়ি আর ইসিজি থেকে হার
(ক) ১৫ সেকেন্ডে ১৮ বার নাড়ি গোনা গেল। (খ) ইসিজিতে R–R দূরত্ব ০.৭৫ সেকেন্ড। দুই ক্ষেত্রে হার কত?
(ক) ১৮ × (৬০ ÷ ১৫) = ১৮ × ৪ = মিনিটে ৭২ বার। (খ) ৬০ ÷ ০.৭৫ = মিনিটে ৮০ বার।
সমস্যা ৬: স্ট্রোক ভলিউম বের করা
কার্ডিয়াক আউটপুট মিনিটে ৬ লিটার, হার মিনিটে ৮০ বার। স্ট্রোক ভলিউম কত?
স্ট্রোক ভলিউম = কার্ডিয়াক আউটপুট ÷ হার = ৬,০০০ ÷ ৮০ = প্রতি স্পন্দনে ৭৫ mL।
সমস্যা ৭: পালস প্রেশার ও গড় ধমনি চাপ
রক্তচাপ ১২০/৮০ mm Hg। পালস প্রেশার আর আনুমানিক গড় ধমনি চাপ (MAP ≈ ডায়াস্টোলিক + পালস প্রেশার ÷ ৩) বের করো।
পালস প্রেশার = ১২০ − ৮০ = ৪০ mm Hg। MAP ≈ ৮০ + ৪০ ÷ ৩ = ৮০ + ১৩.৩ = ৯৩.৩ mm Hg। গড়টা ডায়াস্টোলিকের কাছে, কারণ হৃৎপিণ্ড সংকোচনের চেয়ে শিথিল থাকে বেশিক্ষণ।
সমস্যা ৮: পুরো রক্ত একবার ঘুরতে কত সময়?
দেহে প্রায় ৫ লিটার রক্ত, কার্ডিয়াক আউটপুট মিনিটে ৫.২৫ লিটার। পুরো রক্ত একবার হৃৎপিণ্ড দিয়ে যেতে মোটামুটি কত সময় লাগে?
সময় = ৫ ÷ ৫.২৫ = ০.৯৫ মিনিট, প্রায় ৫৭ সেকেন্ড, এক মিনিটের একটু কম।
সমস্যা ৯: ব্যায়ামের সময় আউটপুট
কঠোর ব্যায়ামে হার মিনিটে ১৫০ বার আর স্ট্রোক ভলিউম ১০০ mL। কার্ডিয়াক আউটপুট বের করো, বিশ্রামের সাথে তুলনা করো।
কার্ডিয়াক আউটপুট = ১০০ × ১৫০ = মিনিটে ১৫ লিটার, যা বিশ্রামের ৫.২৫ লিটারের ২.৯ গুণ।
সাধারণ ভুলগুলো
হৃৎপিণ্ডের প্রশ্নে বেশির ভাগ নম্বর কাটা যায় এই কয়েকটা ভুলে। খাতা জমা দেওয়ার আগে একবার মিলিয়ে নাও।
- ডান অলিন্দ পাতার ডান দিকে আঁকা। সামনে থেকে দেখা চিত্রে হৃৎপিণ্ডের ডান দিক তোমার বাঁ দিকে।
- সব ধমনি অক্সিজেনযুক্ত রক্ত বহন করে বলা। ফুসফুসীয় ধমনি অক্সিজেনহীন রক্ত বহন করে।
- কপাটিকা গুলিয়ে ফেলা: ত্রিপত্রী ডান দিকে, দ্বিপত্রী (মাইট্রাল) বাম দিকে।
- “লাব”-কে অর্ধচন্দ্রাকার কপাটিকার শব্দ বলা। “লাব” AV কপাটিকা বন্ধের, “ডাব” অর্ধচন্দ্রাকার কপাটিকা বন্ধের শব্দ।
- হৃৎশব্দকে পেশি সংকোচনের শব্দ ভাবা। শব্দ আসে কপাটিকা বন্ধ হওয়া থেকে।
- ডান নিলয়কে সবচেয়ে পুরু বলা। সারা দেহে রক্ত পাঠায় বলে বাম নিলয় সবচেয়ে পুরু।
- মস্তিষ্ক প্রতিটি স্পন্দন শুরু করে ভাবা। শুরু করে হৃৎপিণ্ডের ভেতরের SA নোড; স্নায়ু কেবল গতি বদলায়।
- প্রশ্নে লিটার/মিনিট চাইলে mL থেকে রূপান্তর না করা।
হৃৎপিণ্ডের যত্ন: আমাদের প্রতিদিনের অভ্যাস
বাংলাদেশে মৃত্যুর প্রধান কারণগুলোর একটি হৃদ্রোগ, কিন্তু এর অনেক কারণই আমাদের অভ্যাস, যা বদলানো যায়, আর সেই অভ্যাস তৈরি হয় স্কুলের বয়সেই।
প্রতিদিন নড়াচড়া করো। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (WHO) মতো স্বাস্থ্য সংস্থাগুলো শিশু-কিশোরদের দিনে অন্তত এক ঘণ্টা সক্রিয় থাকার পরামর্শ দেয়: মাঠে ক্রিকেট বা ফুটবল, সাইকেলে স্কুলে যাওয়া, দড়িলাফ, এমনকি বন্ধুদের সাথে জোরে হাঁটা। ব্যায়াম হৃৎপেশিকে শক্ত করে, ফলে প্রতি স্পন্দনে বেশি রক্ত পাম্প হয় আর বিশ্রামে হার কমে।
লবণ কম খাও। আমাদের খাবারে লবণ প্রায়ই বেশি: আচার, চানাচুর, চিপস, ইনস্ট্যান্ট নুডলস, ভাতের পাতে কাঁচা লবণ, ফলে লবণ-মরিচ। বছরের পর বছর বেশি লবণ খেলে রক্তচাপ বাড়ে। WHO প্রাপ্তবয়স্কদের দিনে ৫ গ্রামের কম লবণ খেতে বলে, সব মিলিয়ে প্রায় এক চা-চামচ।
কখনো ধূমপান শুরু কোরো না, জর্দা, গুল, সাদাপাতার মতো তামাকও এড়িয়ে চলো। তামাক রক্তনালি সরু আর ক্ষতিগ্রস্ত করে; অন্যের ধোঁয়াও হৃৎপিণ্ডের ক্ষতি করে। ঠিকমতো ঘুমাও, কোমল পানীয়র বদলে পানি খাও, শাকসবজি, ডাল আর দেশি ফল বেশি খাও, আর বেশির ভাগ সময় ডুবো তেলে ভাজা নাস্তার বদলে মাছ বা বাদাম বেছে নাও।
হৃৎপিণ্ডের কয়েকটি সাধারণ রোগ সংক্ষেপে
নামগুলো জানা থাকলে স্বাস্থ্যের খবর বুঝতে আর ডাক্তারের সাথে কথা বলতে সুবিধা হয়; তবে এটি কোনোভাবেই চেকআপের বিকল্প নয়।
| রোগ | সহজ কথায় কী |
|---|---|
| উচ্চ রক্তচাপ (হাইপারটেনশন) | দীর্ঘদিন ধরে রক্ত ধমনির প্রাচীরে বেশি চাপ দেয়; প্রায়ই কোনো লক্ষণ থাকে না, তাই মেপেই ধরা পড়ে। |
| করোনারি ধমনির রোগ | চর্বি জমে হৃৎপেশিকে খাবার দেওয়া করোনারি ধমনি সরু হয়ে যায়। |
| হার্ট অ্যাটাক (মায়োকার্ডিয়াল ইনফার্কশন) | করোনারি ধমনি বন্ধ হয়ে হৃৎপেশির একটি অংশ অক্সিজেন পায় না। এটি জরুরি অবস্থা। |
| হার্ট ফেইলিউর | দেহের যতটা দরকার, হৃৎপিণ্ড ততটা রক্ত পাম্প করতে পারে না; এর মানে হৃৎপিণ্ড থেমে যাওয়া নয়। |
| বাতজ্বরজনিত হৃদ্রোগ | গলার স্ট্রেপ সংক্রমণের চিকিৎসা না হলে বাতজ্বর থেকে কপাটিকার ক্ষতি; দক্ষিণ এশিয়ায় এখনো দেখা যায়, সময়মতো চিকিৎসায় প্রতিরোধযোগ্য। |
| জন্মগত হৃদ্ত্রুটি | জন্ম থেকেই কোনো পার্থক্য, যেমন সেপটামে ছিদ্র; অনেকগুলোর চিকিৎসা সম্ভব। |
পরীক্ষার কোণ: এসএসসি ও এইচএসসি
এসএসসি জীববিজ্ঞানের রক্ত সংবহনের অধ্যায় আর এইচএসসি জীববিজ্ঞান ২য় পত্রের “রক্ত ও সঞ্চালন” অধ্যায়ে হৃৎপিণ্ডের চিত্র প্রায় নিশ্চিত প্রশ্ন। চারটি প্রকোষ্ঠ, সেপটাম, চারটি কপাটিকা, মহাশিরা, ফুসফুসীয় ধমনি, ফুসফুসীয় শিরা আর মহাধমনিসহ সামনে থেকে দেখা চিহ্নিত চিত্র আঁকা অনুশীলন করো, তীর দিয়ে রক্তের দিক দেখাও।
সৃজনশীল প্রশ্নে উদ্দীপকে প্রায়ই একটি চিত্র বা কোনো রোগীর রক্তচাপ/হার দেওয়া থাকে। জ্ঞানমূলক: “হৃৎচক্র কাকে বলে?”, “পেসমেকার কী?”; অনুধাবনমূলক: “বাম নিলয়ের প্রাচীর পুরু কেন?”, “কপাটিকা না থাকলে কী হতো?”; প্রয়োগ: হার থেকে হৃৎচক্রের সময় বা কার্ডিয়াক আউটপুট হিসাব; উচ্চতর দক্ষতা: দ্বিচক্রী সংবহন কেন স্তন্যপায়ীর জন্য উপযোগী, যুক্তি দিয়ে বিশ্লেষণ।
বহুনির্বাচনিতে বারবার আসে: কোন কপাটিকা কোথায়, কোন ধমনি অক্সিজেনহীন রক্ত বহন করে, হৃৎচক্রের সময় (০.৮ সেকেন্ড), প্রথম ও দ্বিতীয় হৃৎশব্দের কারণ, SA নোডের অবস্থান, স্বাভাবিক রক্তচাপ ১২০/৮০। হিসাবের প্রশ্নে আগে সূত্র লেখো, একক বসাও, উত্তরে একক দাও।
এক নজরে পুনরালোচনা
পরীক্ষার আগের রাতে এই তালিকাটা পড়ে নাও; প্রতিটি লাইন একটি সম্ভাব্য প্রশ্ন।
- হৃৎপিণ্ড: মুষ্টির সমান, দুই ফুসফুসের মাঝে, একটু বাঁয়ে হেলানো, পেরিকার্ডিয়ামে মোড়া।
- চার প্রকোষ্ঠ: পাতলা দুটি অলিন্দ রক্ত গ্রহণ করে, পুরু দুটি নিলয় পাম্প করে; বাম নিলয় সবচেয়ে পুরু।
- সেপটাম অক্সিজেনযুক্ত আর অক্সিজেনহীন রক্তকে আলাদা রাখে।
- কপাটিকা: ত্রিপত্রী (ডান), দ্বিপত্রী/মাইট্রাল (বাম), পালমোনারি ও অ্যাওর্টিক অর্ধচন্দ্রাকার।
- শব্দ: লাব = AV কপাটিকা বন্ধ; ডাব = অর্ধচন্দ্রাকার কপাটিকা বন্ধ।
- দ্বিচক্রী সংবহন: পালমোনারি (হৃৎপিণ্ড–ফুসফুস–হৃৎপিণ্ড) + সিস্টেমিক (হৃৎপিণ্ড–দেহ–হৃৎপিণ্ড)।
- মিনিটে ৭৫ বারে হৃৎচক্র ০.৮ s = ০.১ s অলিন্দের সংকোচন + ০.৩ s নিলয়ের সংকোচন + ০.৪ s প্রসারণ।
- উদ্দীপনার পথ: SA নোড → AV নোড → বান্ডল অব হিজ → পারকিনজি তন্তু।
- ইসিজি: P = অলিন্দ, QRS = নিলয়ের উদ্দীপনা, T = নিলয়ের পুনরুদ্ধার।
- কার্ডিয়াক আউটপুট = স্ট্রোক ভলিউম × হার = ৭০ × ৭৫ = ৫.২৫ L/min; স্বাভাবিক রক্তচাপ ১২০/৮০ mm Hg।
সচরাচর জিজ্ঞাসা
মানব হৃৎপিণ্ডের প্রধান কাজ কী?
সারা দেহে অবিরাম রক্ত পাম্প করা। ডান অংশ অক্সিজেনহীন রক্ত ফুসফুসে পাঠায়, বাম অংশ অক্সিজেনযুক্ত রক্ত প্রতিটি অঙ্গে পাঠায়, যাতে কোষ অক্সিজেন ও পুষ্টি পায় আর কার্বন ডাই-অক্সাইড ও বর্জ্য সরে যায়।
মানুষের হৃৎপিণ্ডে কয়টি প্রকোষ্ঠ?
চারটি: ডান অলিন্দ, ডান নিলয়, বাম অলিন্দ আর বাম নিলয়। ওপরের অলিন্দ রক্ত গ্রহণ করে, নিচের নিলয় রক্ত পাম্প করে বের করে।
বাম নিলয়ের প্রাচীর সবচেয়ে পুরু কেন?
কারণ বাম নিলয় মহাধমনি দিয়ে সারা দেহে রক্ত পাঠায়, যার জন্য অনেক বেশি চাপ লাগে; ডান নিলয় কেবল কাছের ফুসফুসে রক্ত পাঠায়।
দ্বিচক্রী সংবহন কাকে বলে?
যে সংবহনে একবার পুরো দেহ ঘুরে আসতে রক্ত দুবার হৃৎপিণ্ডের ভেতর দিয়ে যায়: একবার পালমোনারি সংবহনে (হৃৎপিণ্ড থেকে ফুসফুস হয়ে ফেরা), একবার সিস্টেমিক সংবহনে (হৃৎপিণ্ড থেকে দেহ হয়ে ফেরা)।
লাব ও ডাব শব্দ কেন হয়?
কপাটিকা বন্ধ হওয়ার কারণে। নিলয় সংকোচনের শুরুতে ত্রিপত্রী ও দ্বিপত্রী কপাটিকা বন্ধ হয়ে “লাব”, আর নিলয় শিথিল হওয়ার শুরুতে অর্ধচন্দ্রাকার কপাটিকা বন্ধ হয়ে “ডাব” শব্দ হয়।
কোন ধমনি অক্সিজেনহীন রক্ত বহন করে?
ফুসফুসীয় ধমনি। এটি ডান নিলয় থেকে অক্সিজেনহীন রক্ত ফুসফুসে নেয়; তাই ধমনির সংজ্ঞা দিক দিয়ে, অক্সিজেন দিয়ে নয়।
হৃৎপিণ্ডের পেসমেকার কোনটি?
ডান অলিন্দের প্রাচীরে অবস্থিত সাইনো-অ্যাট্রিয়াল নোড (SA নোড)। বিশ্রামে এটি মিনিটে প্রায় ৭০ থেকে ৭৫ বার বৈদ্যুতিক উদ্দীপনা তৈরি করে প্রতিটি স্পন্দন শুরু করে।
একটি হৃৎচক্রে কত সময় লাগে?
৬০ সেকেন্ডকে হার দিয়ে ভাগ করলে পাওয়া যায়: মিনিটে ৭৫ বারে ০.৮ সেকেন্ড। বইয়ে বিশ্রামের হৃৎপিণ্ডের জন্য প্রায় ০.৮ সেকেন্ড লেখা থাকে।
রক্তচাপ ১২০/৮০ মানে কী?
প্রথম সংখ্যা (১২০ mm Hg) নিলয় সংকোচনের সময়ের সিস্টোলিক চাপ, দ্বিতীয়টি (৮০ mm Hg) হৃৎপিণ্ড শিথিল থাকার সময়ের ডায়াস্টোলিক চাপ। এটি সুস্থ প্রাপ্তবয়স্কের সাধারণ মান।
কার্ডিয়াক আউটপুট কী, কীভাবে হিসাব করে?
একটি নিলয় এক মিনিটে যতটা রক্ত পাম্প করে: স্ট্রোক ভলিউম × হার। ৭০ mL আর মিনিটে ৭৫ বারে তা ৫.২৫ L/min।
এই বিষয়ের আরও পড়াশোনা
অ্যানিমেশনে ধারণা পরিষ্কার হলো, এবার পরীক্ষার প্রস্তুতি: সিলেবাস, সাজেশন, বই আর ভর্তি পরীক্ষার গাইড নিচে।
ভর্তি
মেডিকেল ভর্তি ২০২৬-২৭
পাঠ্যবই
নবম-দশম শ্রেণির বিজ্ঞান বই
SSC
এসএসসি জীববিজ্ঞান: সিলেবাস ও প্রস্তুতি
HSC
এইচএসসি জীববিজ্ঞান: সিলেবাস ও প্রস্তুতি
পাঠ্যবই
নবম-দশম শ্রেণির জীববিজ্ঞান বই
ভর্তি
মেডিকেল ভর্তি পরীক্ষার প্রস্তুতি
ভর্তি
গুচ্ছ (GST) বিজ্ঞান ইউনিট ভর্তি ২০২৬-২৭
English
Composition: Climate Change (ইংরেজিতে)
বাংলা
রচনা: জলবায়ু পরিবর্তন
SSC
এসএসসি সাজেশন
HSC
এইচএসসি সাজেশন
ভর্তি
বিশ্ববিদ্যালয় ভর্তি পরীক্ষার গাইড
SSC
এসএসসি সিলেবাস
HSC
এইচএসসি সিলেবাস
আরও জীববিজ্ঞান অ্যানিমেশন
SSC · HSC
মাইটোসিস কোষ বিভাজন
মাইটোসিস কাকে বলে, কোষ বিভাজন কত প্রকার ও কী কী? প্রোফেজ, মেটাফেজ, অ্যানাফেজ, টেলোফেজ ও সাইটোকাইনেসিস চলমান চিত্রে দেখো, ক্রোমোজোম গোনার নিয়মসহ।
SSC · HSC
ব্যাপন ও অভিস্রবণ
ব্যাপন ও অভিস্রবণ কাকে বলে, এদের মধ্যে পার্থক্য, প্লাজমোলাইসিস, রসস্ফীতি ও ইমবাইবিশন: কণার সিমুলেশনে নিজে দেখে সহজ ভাষায় শেখো, উদাহরণ ও গাণিতিক সমস্যাসহ।
SSC · HSC
সালোকসংশ্লেষণ
সালোকসংশ্লেষণ কাকে বলে, সমীকরণ, আলোক ও অন্ধকার পর্যায়, ক্যালভিন চক্র, প্রভাবক ও সীমাবদ্ধ উপাদান: পাতা, হাইড্রিলা আর ক্লোরোপ্লাস্টের অ্যানিমেশনে নিজে দেখো।
SSC · HSC
মেন্ডেলের বংশগতি সূত্র
মেন্ডেলের সূত্র, একসংকর ও দ্বিসংকর জনন, টেস্ট ক্রস, অসম্পূর্ণ প্রকটতা, রক্তের গ্রুপ আর সন্তানের লিঙ্গ নির্ধারণ — নিজে পানেট বর্গ বানিয়ে বংশগতির অনুপাত হিসাব করে দেখো।
HSC
ডিএনএ রেপ্লিকেশন
ডিএনএ রেপ্লিকেশন বা অনুলিপন কাকে বলে, অর্ধ-রক্ষণশীল পদ্ধতি, এনজাইমগুলোর কাজ আর মেসেলসন-স্টাল পরীক্ষা—সব অ্যানিমেশনে নিজে দেখো ও হিসাব করো।
SSC · HSC
কোষীয় শ্বসন
কোষীয় শ্বসন কাকে বলে, সবাত ও অবাত শ্বসনের পার্থক্য, গ্লাইকোলাইসিস, ক্রেবস চক্র, ইলেকট্রন প্রবাহতন্ত্র আর ATP হিসাব: মাইটোকন্ড্রিয়ার অ্যানিমেশনে নিজে দেখো ও গণনা করো।
SSC · HSC
এনজাইম ক্রিয়া
এনজাইম কী, সক্রিয় স্থান, তালা-চাবি ও আবিষ্ট মিলন মডেল, তাপমাত্রা-pH-এর প্রভাব, মিকেলিস-মেন্টেন সমীকরণ ও প্রতিবন্ধক — নিজে বদলে দেখো এনজাইম ক্রিয়ার অ্যানিমেশনে।
SSC · HSC
স্নায়ু উদ্দীপনার পরিবহন ও অ্যাকশন পটেনশিয়াল
প্রান্তিক মাত্রা (−৫৫ mV) পার হলেই অ্যাকশন পটেনশিয়াল তৈরি হয়ে অ্যাক্সন বেয়ে ছোটে, তারপর সিন্যাপসে নিউরোট্রান্সমিটার নিঃসৃত হয় — সিমুলেশনে নিজে চালিয়ে দেখো, সূত্র ও গাণিতিক উদাহরণসহ।
SSC · HSC
নেফ্রন ও মূত্র তৈরির প্রক্রিয়া
বৃক্ক প্রতিদিন প্রায় ১৮০ লিটার রক্ত ছেঁকে মাত্র দেড় লিটার মূত্র তৈরি করে কীভাবে? গ্লোমেরুলাসে ছাঁকন, নালিকায় পুনঃশোষণ আর গ্লুকোজের প্রান্তিক মাত্রা — সিমুলেশনে নিজে চালিয়ে দেখো, সূত্র ও অঙ্কসহ।
SSC · HSC
মিয়োসিস কোষ বিভাজন
মিয়োসিস কাকে বলে, ক্রসিং ওভার কী, মাইটোসিস ও মিয়োসিসের পার্থক্য কী: 2n = 4 কোষে প্রোফেজ I থেকে টেলোফেজ II পর্যন্ত নিজে চালিয়ে দেখো, সমাধান করা অঙ্কসহ।
SSC
পরিপাকতন্ত্র
পরিপাকতন্ত্র কী, কোন এনজাইম কোথায় কাজ করে, ভিলাই কীভাবে শোষণ করে: মুখ থেকে বৃহদান্ত্র পর্যন্ত খাদ্যের যাত্রা নিজে চালিয়ে দেখো, সমাধান করা অঙ্কসহ।
অন্য বিষয়ের অ্যানিমেশন
পদার্থবিজ্ঞান
আলোর প্রতিসরণ
পদার্থবিজ্ঞান
ওহমের সূত্র
পদার্থবিজ্ঞান
প্রাসের গতি
পদার্থবিজ্ঞান
সরল দোলক
পদার্থবিজ্ঞান
তড়িৎ ক্ষেত্র
পদার্থবিজ্ঞান
তরঙ্গের ব্যতিচার
পদার্থবিজ্ঞান
পড়ন্ত বস্তু ও পড়ন্ত বস্তুর সূত্র
পদার্থবিজ্ঞান
লেন্সে প্রতিবিম্ব গঠন
পদার্থবিজ্ঞান
নিউটনের গতির সূত্র
পদার্থবিজ্ঞান
গোলীয় দর্পণে প্রতিবিম্ব গঠন
পদার্থবিজ্ঞান
তড়িৎচুম্বকীয় আবেশ ও ফ্যারাডের সূত্র
পদার্থবিজ্ঞান
ভরবেগের সংরক্ষণ ও সংঘর্ষ
পদার্থবিজ্ঞান
কাজ, ক্ষমতা ও শক্তি
পদার্থবিজ্ঞান
নততল
রসায়ন
পরমাণুর গঠন
রসায়ন
এসিড, ক্ষারক ও pH স্কেল
রসায়ন
ইলেকট্রন বিন্যাস
রসায়ন
গ্যাসের সূত্র: বয়েল, চার্লস ও আদর্শ গ্যাস সমীকরণ
রসায়ন
আয়নিক বন্ধন কীভাবে গঠিত হয়
রসায়ন
তড়িৎ বিশ্লেষণ ও ফ্যারাডের সূত্র
রসায়ন
সমযোজী বন্ধন
রসায়ন
পর্যায়বৃত্ত ধর্ম
গণিত
পিথাগোরাসের উপপাদ্য
গণিত
ত্রিকোণমিতিক অনুপাত ও একক বৃত্ত
গণিত
দ্বিঘাত সমীকরণ ও দ্বিঘাত ফাংশনের লেখচিত্র
গণিত
বৃত্ত সংক্রান্ত উপপাদ্য
গণিত
দূরত্ব ও উচ্চতা: উন্নতি কোণ ও অবনতি কোণ
গণিত
সম্ভাবনা: পরীক্ষালব্ধ বনাম তাত্ত্বিক সম্ভাবনা
গণিত
সমান্তর ও গুণোত্তর ধারা
গণিত






















