মূলপাতা
লগইন

Color

Indigo
Red
Green
Teal
Blue
Purple
Rose

Mode

Light
EN

কোষীয় শ্বসন: খাবার থেকে কীভাবে ATP তৈরি হয়

যে জৈব-রাসায়নিক প্রক্রিয়ায় কোষ গ্লুকোজের মতো খাদ্যকে ভেঙে রাসায়নিক শক্তি ATP-তে রূপান্তরিত করে, তাকে কোষীয় শ্বসন বলে। অক্সিজেন থাকলে সবাত শ্বসনে মাইটোকন্ড্রিয়ায় প্রতি গ্লুকোজে ৩৮টি ATP তৈরি হয়; অক্সিজেন না থাকলে অবাত শ্বসনে (গাঁজন) সাইটোপ্লাজমে শুধু ২টি ATP তৈরি হয়।

উপরের ধাপগুলোতে চাপ দিয়ে সরাসরি সেই ধাপে চলে যাও

গতি

নিয়ন্ত্রণ

কী দেখবে

ধাপ বেছে নাও

পরিমাপ

এখনকার ধাপ
গ্লাইকোলাইসিস
শ্বসনের পথ
সবাত শ্বসন
তৈরি ATP
০
তৈরি NADH
০
তৈরি FADH₂
০
নির্গত CO₂
০
ব্যবহৃত O₂
০
শক্তির দক্ষতা
৪০.৪%
শেষ উৎপাদ
—
সম্পন্ন গ্লুকোজ
০
কোষের ঘড়ি
০.০min

সিমুলেশনটি কীভাবে ব্যবহার করবে

  1. শুরুতে “পুরো কোষ” দৃশ্য আর অক্সিজেন চালু রেখে দেখো: একটা গ্লুকোজ ঢুকছে, গ্লাইকোলাইসিসের বৃত্তে ভেঙে দুটো পাইরুভেট হচ্ছে, তারপর মাইটোকন্ড্রিয়ার দিকে যাচ্ছে আর ডানের ATP ভান্ডার ভরছে।
  2. “ধাপ বেছে নাও” বোতামগুলোতে একবার একবার চাপো: গ্লাইকোলাইসিস, সংযোগ বিক্রিয়া, ক্রেবস চক্র, ইলেকট্রন প্রবাহতন্ত্র। প্রতিবার ঘড়ি ঠিক সেই ধাপের শুরুতে চলে যাবে, তুমি ধাপে ধাপে দেখতে পারবে।
  3. “মাইটোকন্ড্রিয়ার ভেতরে” দৃশ্যে যাও: বাঁয়ে সংযোগ বিক্রিয়া আর ঘোরা ক্রেবস চক্র, ডানে ক্রিস্টির সারিতে ইলেকট্রন প্রবাহতন্ত্র আর ঘুরন্ত ATP সিন্থেজ দেখবে। H⁺ কণাগুলো নিচ থেকে ওপরে উঠতে দেখো।
  4. এবার অক্সিজেনের সুইচ বন্ধ করো। মাইটোকন্ড্রিয়া ফ্যাকাশে হয়ে নিষ্ক্রিয় হয়ে যাবে, আর “পুরো কোষ” দৃশ্যে গ্লাইকোলাইসিসের পর পাইরুভেট এবার সাইটোপ্লাজমেই গাঁজনের দিকে যাবে।
  5. গাঁজনের ধরন বদলে দেখো: “ল্যাকটিক এসিড” বাছলে পেশির আইকনে ল্যাকটিক এসিড জমতে দেখবে, “অ্যালকোহল” বাছলে ইস্টের পাত্রে বুদবুদ (CO₂) উঠতে দেখবে।
  6. ডানের পরিমাপ প্যানেলে ATP, NADH, FADH₂, CO₂, O₂ আর শক্তির দক্ষতা মিলিয়ে দেখো: অক্সিজেন থাকা আর না-থাকায় সংখ্যাগুলো কতটা আলাদা।

দৌড়ের পর হাঁপানো থেকে শুরু

একশো মিটার দৌড়ের পর তুমি হাঁপাতে থাকো, বুক ধুকপুক করে, আর পায়ের পেশিতে টান লাগে। কেন? কারণ তোমার পেশি কোষগুলো তখন দ্রুত শক্তি চাইছে, কিন্তু ফুসফুস দিয়ে অক্সিজেন যতটা লাগবে তার চেয়ে কম আসছে। শরীর তখন বিকল্প রাস্তা খুলে দেয়, যেখানে অক্সিজেন ছাড়াই কিছুটা শক্তি বানানো যায়। ঠিক এই পুরো ঘটনাটাই কোষীয় শ্বসনের গল্প।

শ্বসন বলতে আমরা সাধারণত নাক-মুখ দিয়ে শ্বাস নেওয়া বুঝি, বিজ্ঞানের ভাষায় এটাকে বলে শ্বাসক্রিয়া বা ব্রিদিং। কিন্তু কোষের ভেতরে যে আসল রান্নাটা হয়, খাবার ভেঙে শক্তি বের করার যে রাসায়নিক প্রক্রিয়া, তার নাম কোষীয় শ্বসন। শ্বাসক্রিয়া শুধু অক্সিজেন ভেতরে আনে আর কার্বন ডাইঅক্সাইড বের করে দেয়; কোষীয় শ্বসন সেই অক্সিজেন দিয়ে আসলে কাজটা করে।

এই পাতায় আমরা দেখব একটা গ্লুকোজ অণু কীভাবে ধাপে ধাপে ভেঙে ATP নামের শক্তির মুদ্রায় রূপ নেয়, অক্সিজেন থাকলে আর না থাকলে গল্পটা কীভাবে আলাদা হয়ে যায়, আর রুটি-দই-মদের মতো রোজকার জিনিসে এই একই প্রক্রিয়া কীভাবে কাজ করে।

শ্বসন কাকে বলে: একদম শুরু থেকে

সংজ্ঞা হিসেবে খাতায় লেখো: যে জৈব-রাসায়নিক প্রক্রিয়ায় জীবকোষ খাদ্য পদার্থ (মূলত গ্লুকোজ) জারিত করে রাসায়নিক শক্তি এটিপি (ATP) রূপে সঞ্চয় করে এবং কার্বন ডাইঅক্সাইড ও পানি উপজাত হিসেবে ত্যাগ করে, তাকে শ্বসন বলে। খেয়াল করো, এটি ঘটে প্রতিটি জীবিত কোষে, শুধু উদ্ভিদে না, প্রাণী-উদ্ভিদ-ছত্রাক-ব্যাকটেরিয়া সবখানে।

সালোকসংশ্লেষণ যেমন আলো থেকে খাবার বানায়, শ্বসন তার উল্টো কাজ করে: খাবার ভেঙে শক্তি বের করে। তাই শ্বসনকে অপচিতি বা ভাঙনমূলক বিপাক বলা হয়। শ্বসনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সমীকরণটি হলো: C₆H₁₂O₆ + 6O₂ → 6CO₂ + 6H₂O + শক্তি। এই শক্তির প্রায় পুরোটাই আটকে রাখা হয় ATP অণুর ভেতরে, যাতে কোষ যখন প্রয়োজন তখন একটু একটু করে খরচ করতে পারে।

শ্বসন দুই রকম হতে পারে, অক্সিজেন লাগে কি না তার ওপর ভিত্তি করে। অক্সিজেন লাগলে তাকে সবাত শ্বসন বলে, আর অক্সিজেন ছাড়া হলে তাকে অবাত শ্বসন বা গাঁজন (fermentation) বলে। দুটোই গ্লাইকোলাইসিস নামের একই প্রথম ধাপ থেকে শুরু হয়, তারপর রাস্তা আলাদা হয়ে যায়। আমাদের সিমুলেশনের অক্সিজেন সুইচ ঠিক এই দুই রাস্তার মধ্যে বদল করে।

শ্বসনের গুরুত্বপূর্ণ শব্দগুলো

নিচের শব্দগুলো এই অধ্যায়ের প্রতিটি প্রশ্নে ঘুরেফিরে আসে। একবারে ভালো করে বুঝে নিলে বাকি সব সহজ হয়ে যাবে।

শব্দসহজ ভাষায় অর্থ
শ্বসনখাদ্য ভেঙে রাসায়নিক শক্তি ATP-তে রূপান্তরের প্রক্রিয়া
সবাত শ্বসনঅক্সিজেনের উপস্থিতিতে ঘটা শ্বসন; মাইটোকন্ড্রিয়ায় সম্পন্ন হয়, বেশি ATP দেয়
অবাত শ্বসন (গাঁজন)অক্সিজেন ছাড়া ঘটা শ্বসন; সাইটোপ্লাজমে শেষ হয়, অল্প ATP দেয়
গ্লাইকোলাইসিসসাইটোপ্লাজমে গ্লুকোজ ভেঙে দুটো পাইরুভেট, ATP ও NADH তৈরির ধাপ
সংযোগ বিক্রিয়াপাইরুভেট থেকে অ্যাসিটাইল-CoA, CO₂ ও NADH তৈরির ধাপ, মাইটোকন্ড্রিয়ায়
ক্রেবস চক্রমাইটোকন্ড্রিয়ার ম্যাট্রিক্সে ঘটা চক্রাকার বিক্রিয়া; ATP, NADH, FADH₂ ও CO₂ তৈরি করে
ইলেকট্রন প্রবাহতন্ত্র (ETC)ভেতরের পর্দায় (ক্রিস্টি) NADH ও FADH₂-এর ইলেকট্রন O₂-এ পাঠিয়ে ATP তৈরির শৃঙ্খল
ATP সিন্থেজভেতরের পর্দার প্রোটিন এনজাইম যা H⁺-এর প্রবাহে ঘুরে ADP থেকে ATP বানায়
NADH ও FADH₂ইলেকট্রন বহনকারী অণু, যারা ইলেকট্রন প্রবাহতন্ত্রে জমা দিয়ে ATP বানাতে সাহায্য করে
মাইটোকন্ড্রিয়াকোষের শক্তিঘর; দুই স্তরের পর্দা, ভেতরে ম্যাট্রিক্স ও ভাঁজ করা ক্রিস্টি থাকে
গাঁজনঅক্সিজেন ছাড়া পাইরুভেটকে ল্যাকটিক এসিড বা ইথানল+CO₂-তে বদলে NAD⁺ ফিরিয়ে আনার প্রক্রিয়া
এটিপি (ATP)কোষের শক্তির মুদ্রা; অ্যাডিনোসিন ট্রাইফসফেট, ভাঙলে শক্তি ছাড়ে
শ্বসনিক হার (RQ)শ্বসনে নির্গত CO₂ ও ব্যবহৃত O₂-এর আয়তনের অনুপাত

শ্বসনের সমীকরণ ও ভরের হিসাব

পূর্ণ সমীকরণটি লেখা হয়: C₆H₁₂O₆ + 6O₂ → 6CO₂ + 6H₂O + শক্তি (প্রায় ২৮৭০ kJ প্রতি মোল গ্লুকোজ)। খেয়াল করো, ডান পাশের CO₂ আসে গ্লুকোজের কার্বন থেকে, আর সালোকসংশ্লেষণে যেমন O₂ আসত পানি থেকে, এখানে H₂O তৈরি হয় শ্বসনে ব্যবহৃত O₂ আর গ্লুকোজের হাইড্রোজেন মিলে।

ভর মিলিয়ে দেখা যাক। বাঁয়ে ১ অণু গ্লুকোজ ১৮০ g আর ৬ অণু O₂ = ৬ × ৩২ = ১৯২ g, মোট ৩৭২ g। ডানে ৬ অণু CO₂ = ৬ × ৪৪ = ২৬৪ g আর ৬ অণু H₂O = ১০৮ g, মোটও ৩৭২ g। দুই পাশ সমান, তাই ভর সংরক্ষিত থাকে, শুধু আকার বদলায়।

এই সমীকরণটাই সিমুলেশনের ভিত্তি। সবাত পথে (অক্সিজেন চালু থাকলে) পুরো গ্লুকোজ এই সমীকরণ মেনে সম্পূর্ণ জারিত হয়। অবাত পথে (অক্সিজেন বন্ধ থাকলে) গ্লুকোজ শুধু গ্লাইকোলাইসিস পর্যন্তই ভাঙে, তারপর CO₂ আর H₂O না হয়ে ল্যাকটিক এসিড বা ইথানল হয়ে থেমে যায়।

C₆H₁₂O₆ + 6O₂ → 6CO₂ + 6H₂O + শক্তিসবাত শ্বসনের পূর্ণ সমীকরণ

C₆H₁₂O₆ → 2C₃H₆O₃ (ল্যাকটিক এসিড) + শক্তিপেশির অবাত শ্বসন (ল্যাকটিক এসিড গাঁজন)

C₆H₁₂O₆ → 2C₂H₅OH (ইথানল) + 2CO₂ + শক্তিইস্টের অ্যালকোহল গাঁজন

কোথায় কোন ধাপ ঘটে

শ্বসনের চারটি ধাপ কোষের দুটি ভিন্ন জায়গায় ঘটে, আর এটাই পরীক্ষায় সবচেয়ে বেশি জিজ্ঞেস করা প্রশ্নগুলোর একটা। সাইটোপ্লাজমে শুরু হয়ে মাইটোকন্ড্রিয়ায় শেষ হয়, তবে অবাত পথে পুরোটাই সাইটোপ্লাজমে আটকে থাকে।

ধাপকোথায় ঘটেঅক্সিজেন লাগে কি?
গ্লাইকোলাইসিসসাইটোপ্লাজমনা
সংযোগ বিক্রিয়ামাইটোকন্ড্রিয়ার ম্যাট্রিক্স (প্রবেশপথে)পরোক্ষভাবে হ্যাঁ (সবাত পথেই ঘটে)
ক্রেবস চক্রমাইটোকন্ড্রিয়ার ম্যাট্রিক্সপরোক্ষভাবে হ্যাঁ
ইলেকট্রন প্রবাহতন্ত্রমাইটোকন্ড্রিয়ার ভেতরের পর্দা (ক্রিস্টি)সরাসরি হ্যাঁ, O₂ শেষ গ্রাহক
গাঁজন (অবাত)সাইটোপ্লাজমনা, একদমই লাগে না

শ্বসনের চারটি ধাপ, বিস্তারিত

এবার একটা একটা করে ধাপ দেখি। প্রতিটি ধাপে কী ঢোকে আর কী বেরোয়, তা মনে রাখলে পুরো ছবিটা পরিষ্কার হয়ে যায়।

গ্লাইকোলাইসিস: গ্লুকোজ ভাঙার প্রথম ধাপ

সাইটোপ্লাজমে একটা ৬-কার্বনের গ্লুকোজ অণু ধাপে ধাপে ভেঙে দুটো ৩-কার্বনের পাইরুভেট অণু হয়। এই ভাঙার সময় প্রথমে ২টি ATP খরচ হয় (গ্লুকোজকে সক্রিয় করতে), পরে ৪টি ATP তৈরি হয়। খরচ বাদ দিলে নিট লাভ ২টি ATP আর ২টি NADH।

গ্লাইকোলাইসিসের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কথা হলো, এর জন্য অক্সিজেন লাগে না। তাই সবাত আর অবাত, দুই পথেই কোষ প্রথমে এই একই ধাপ পার হয়। অক্সিজেন আছে কি নেই, তার প্রভাব পড়ে এর ঠিক পরেই, পাইরুভেটের ভাগ্য নির্ধারণে।

  • কাঁচামাল: ১টি গ্লুকোজ (C₆H₁₂O₆)
  • উৎপাদ: ২টি পাইরুভেট, নিট ২টি ATP, ২টি NADH
  • স্থান: সাইটোপ্লাজম, এনজাইম নির্ভর ১০টি ধাপে

সংযোগ বিক্রিয়া: মাইটোকন্ড্রিয়ায় প্রবেশ

অক্সিজেন থাকলে দুটো পাইরুভেট মাইটোকন্ড্রিয়ার ভেতরে ঢোকে। প্রতিটি পাইরুভেট একটি CO₂ ছেড়ে আর একটি NADH বানিয়ে ২-কার্বনের অ্যাসিটাইল-CoA-তে বদলে যায়। দুটো পাইরুভেটে মিলে ২টি CO₂ আর ২টি NADH তৈরি হয়। এই ধাপে কোনো ATP তৈরি হয় না।

এই ধাপকেই সিমুলেশনের মাইটোকন্ড্রিয়া দৃশ্যে বাঁ পাশে দেখানো হয়েছে, যেখানে পাইরুভেট বাইরে থেকে ঢুকছে আর CO₂ পালিয়ে যাচ্ছে।

  • কাঁচামাল: ২টি পাইরুভেট
  • উৎপাদ: ২টি অ্যাসিটাইল-CoA, ২টি CO₂, ২টি NADH

ক্রেবস চক্র: শক্তির বাহক জমা করা

প্রতিটি অ্যাসিটাইল-CoA ক্রেবস চক্রে একবার ঢোকে, তাই একটা গ্লুকোজের জন্য চক্রটা ২ বার ঘোরে। প্রতিবার ঘোরায় ১টি ATP, ৩টি NADH, ১টি FADH₂ আর ২টি CO₂ তৈরি হয়। দুই বারে মোট ২টি ATP, ৬টি NADH, ২টি FADH₂ আর ৪টি CO₂।

চক্রটা যে ঘুরতেই থাকে, এই ঘোরাটাই এর নাম দিয়েছে। প্রতি ঘোরায় একটা করে অ্যাসিটাইল-CoA যোগ হয় আর শেষে সেই একই মধ্যবর্তী যৌগ (অক্সালোঅ্যাসেটেট) ফিরে আসে, যাতে চক্র আবার শুরু করা যায়।

  • কাঁচামাল: ২টি অ্যাসিটাইল-CoA (গ্লুকোজপ্রতি ২ ঘোরা)
  • উৎপাদ: ২টি ATP, ৬টি NADH, ২টি FADH₂, ৪টি CO₂
  • স্থান: মাইটোকন্ড্রিয়ার ম্যাট্রিক্স

ইলেকট্রন প্রবাহতন্ত্র: আসল ATP কারখানা

এতক্ষণে জমা হওয়া মোট ১০টি NADH আর ২টি FADH₂ এখন কাজে লাগে। ভেতরের পর্দায় বসানো প্রোটিন কমপ্লেক্সের সারিতে তারা তাদের ইলেকট্রন জমা দেয়, ইলেকট্রন একটা থেকে আরেকটা কমপ্লেক্সে যাওয়ার সময় H⁺ আয়নকে ম্যাট্রিক্স থেকে বাইরে ঠেলে দেয়। এতে দুই পাশে H⁺-এর ঘনত্বের পার্থক্য তৈরি হয়।

সেই পার্থক্য কমাতে H⁺ আয়নগুলো ATP সিন্থেজ নামের একটা টারবাইনের মতো এনজাইমের মধ্য দিয়ে ভেতরে ফিরে আসে, আর সেই স্রোতেই এনজাইমটা ঘুরে ADP আর ফসফেট জুড়ে ATP বানায়। শেষে ইলেকট্রন আর H⁺ মিলে O₂-কে পানিতে পরিণত করে, ঠিক যেভাবে সমীকরণে লেখা আছে।

ক্লাসিক হিসাবে প্রতিটি NADH ৩টি আর প্রতিটি FADH₂ ২টি ATP দেয়, তাই এই ধাপ থেকে ৩৪টি ATP তৈরি হয়।

  • কাঁচামাল: ১০টি NADH, ২টি FADH₂, ৬টি O₂
  • উৎপাদ: ৩৪টি ATP, ৬টি H₂O
  • স্থান: মাইটোকন্ড্রিয়ার ভেতরের পর্দা (ক্রিস্টি)

এটিপি হিসাব: ধাপে ধাপে ৩৮ পর্যন্ত

প্রতিটি ধাপের অবদান আলাদা করে টেবিলে দেখি। মনে রাখো, ইলেকট্রন প্রবাহতন্ত্র নিজে কোনো CO₂ তৈরি করে না, বরং আগের ধাপে জমা হওয়া NADH আর FADH₂ খরচ করে ATP বানায়।

ধাপATPNADHFADH₂CO₂
গ্লাইকোলাইসিস২২০০
সংযোগ বিক্রিয়া০২০২
ক্রেবস চক্র২৬২৪
ইলেকট্রন প্রবাহতন্ত্র৩৪———
সর্বমোট৩৮১০২৬

ক্লাসিক ৩৮ বনাম আধুনিক প্রায় ৩২: সংখ্যাটা কেন বদলায়

পুরোনো বইয়ে (আর এই সিমুলেশনেও) ধরা হয় প্রতিটি NADH ৩টি আর প্রতিটি FADH₂ ২টি ATP দেয়, যাতে মোট হয় ৩৮টি। কিন্তু আধুনিক গবেষণা দেখায়, সাইটোপ্লাজমের NADH-কে মাইটোকন্ড্রিয়ার ভেতরে পাঠাতে আর তৈরি ATP-কে বাইরে বের করতে কিছুটা শক্তি খরচ হয়ে যায়। তাই বাস্তব হিসাবে প্রতিটি NADH প্রায় ২.৫টি আর FADH₂ প্রায় ১.৫টি ATP দেয়।

এই আধুনিক অনুপাতে হিসাব করলে মোট ATP হয় প্রায় ৩২.০টি, ক্লাসিক ৩৮-এর চেয়ে ৬.০টি কম, অর্থাৎ প্রায় ১৫.৮% কম। NCTB আর NCERT-এর পরীক্ষায় এখনও ৩৮-এর হিসাবই চাওয়া হয়, তাই খাতায় ৩৮ লেখো, তবে জেনে রাখো বাস্তব সংখ্যাটা কিছুটা কম।

বাহকক্লাসিক ATP/অণুআধুনিক ATP/অণু
NADH৩২.৫
FADH₂২১.৫
সর্বমোট (প্রতি গ্লুকোজ)৩৮৩২.০

সবাত ও অবাত শ্বসনের পার্থক্য

অক্সিজেন থাকা বা না থাকা পুরো গল্পটা বদলে দেয়। নিচের টেবিলে দুটো পথের মূল পার্থক্য একসাথে দেখো।

বিষয়সবাত শ্বসনঅবাত শ্বসন (গাঁজন)
অক্সিজেন লাগে কিহ্যাঁনা
স্থানসাইটোপ্লাজম + মাইটোকন্ড্রিয়াশুধু সাইটোপ্লাজম
গ্লুকোজ ভাঙে কতটাসম্পূর্ণ (CO₂ ও H₂O পর্যন্ত)আংশিক (ল্যাকটিক এসিড বা ইথানলে থামে)
প্রতি গ্লুকোজে ATP৩৮২
শক্তির দক্ষতা৪০.৪%২.১৩%
উৎপাদCO₂, H₂Oল্যাকটিক এসিড বা ইথানল + CO₂
উদাহরণ জীবমানুষ, প্রাণী, বেশির ভাগ উদ্ভিদপেশি (অক্সিজেনের অভাবে), ইস্ট, কিছু ব্যাকটেরিয়া

গাঁজন: রোজকার জীবনে অবাত শ্বসন

অবাত শ্বসন শুনতে অস্বাভাবিক লাগলেও, এটা তোমার চারপাশে প্রতিদিন ঘটছে। দুই রকম গাঁজন সবচেয়ে বেশি চেনা।

ল্যাকটিক এসিড গাঁজন: দৌড়ের পর পেশিতে টান

দ্রুত দৌড়ানোর সময় পেশি কোষের অক্সিজেনের চাহিদা রক্ত সরবরাহের চেয়ে বেড়ে যায়। তখন পাইরুভেট মাইটোকন্ড্রিয়ায় না গিয়ে সাইটোপ্লাজমেই ল্যাকটিক এসিডে বদলে যায়। এতে NADH ফিরে NAD⁺ হয়, যাতে গ্লাইকোলাইসিস থামে না। জমে থাকা ল্যাকটিক এসিডই পেশিতে সেই জ্বালাপোড়া বা টানের অনুভূতি তৈরি করে।

দই বা য়োগার্ট বানানোতেও একই বিক্রিয়া কাজ করে, তবে সেখানে ব্যাকটেরিয়া (ল্যাক্টোব্যাসিলাস) দুধের শর্করা (ল্যাকটোজ) থেকে ল্যাকটিক এসিড বানায়, যা দুধকে জমিয়ে দই করে তোলে।

অ্যালকোহল গাঁজন: রুটি ও পানীয়ের রসায়ন

ইস্ট (এক রকম ছত্রাক) অক্সিজেন না পেলে পাইরুভেটকে প্রথমে CO₂ ছেড়ে অ্যাসিটালডিহাইডে, তারপর ইথানলে বদলে দেয়। রুটির খামিরে ঠিক এই CO₂ গ্যাসই বুদবুদ তৈরি করে রুটিকে ফুলিয়ে তোলে, আর তন্দুরে বেক করার সময় অ্যালকোহলটা উবে যায়।

একই বিক্রিয়া ওয়াইন বা তাল-খেজুরের রসে চললে ইথানল জমে যায়, তাই এটাকে অ্যালকোহলযুক্ত পানীয় তৈরির ভিত্তি বলা হয়। সিমুলেশনের ইস্টের পাত্রে ঠিক এই বুদবুদ ওঠাটাই দেখানো হয়েছে।

শ্বসনিক হার (Respiratory Quotient, RQ)

শ্বসনিক হার বা RQ বলে দেয় কোষ কোন খাদ্য পুড়িয়ে শক্তি বানাচ্ছে। এর সংজ্ঞা: নির্দিষ্ট সময়ে নির্গত CO₂-এর আয়তন ভাগ করে ব্যবহৃত O₂-এর আয়তন দিয়ে।

গ্লুকোজের জন্য সমীকরণেই দেখা যায়, ৬ অণু O₂ লেগে ৬ অণু CO₂ বের হয়, তাই RQ = ৬ ÷ ৬ = ১.০। চর্বির অণুতে অক্সিজেনের অনুপাত কম বলে তাকে জারিত করতে বেশি O₂ লাগে; একটা সাধারণ চর্বি অণুর সমীকরণ থেকে RQ = ১৬ ÷ ২৩ = ০.৭০। প্রোটিনের RQ মাপা হয়েছে প্রায় ০.৮, কারণ প্রোটিনের কিছু নাইট্রোজেন CO₂ না হয়ে ইউরিয়া হয়ে বের হয়ে যায়।

খাদ্যCO₂ : O₂RQ
শর্করা (গ্লুকোজ)৬ : ৬১.০
চর্বি১৬ : ২৩০.৭০
আমিষ (প্রোটিন)—০.৮

সালোকসংশ্লেষণ ও শ্বসনের পার্থক্য

সালোকসংশ্লেষণ আর শ্বসন একে অপরের ঠিক বিপরীত, যেন একই মুদ্রার দুই পিঠ। সালোকসংশ্লেষণে আলো থেকে খাবার বানানো হয়, শ্বসনে সেই খাবার ভেঙে শক্তি বের করা হয়। আমাদের সাইট আলাদাভাবে সালোকসংশ্লেষণের একটা অ্যানিমেশনও দিয়েছে, সেখানে ক্লোরোপ্লাস্টের ভেতরে ঠিক এর উল্টো ছবিটা দেখতে পাবে।

বিষয়সালোকসংশ্লেষণশ্বসন
কোথায় ঘটেশুধু সবুজ কোষের ক্লোরোপ্লাস্টেসব জীবিত কোষে (সাইটোপ্লাজম ও মাইটোকন্ড্রিয়ায়)
কখনশুধু আলোতেদিনরাত সবসময়
কাঁচামালCO₂ ও পানিগ্লুকোজ ও O₂ (সবাত পথে)
উৎপাদগ্লুকোজ ও O₂CO₂, পানি ও ATP
শক্তির দিকআলোক শক্তি খাদ্যে জমা হয়খাদ্যের জমা শক্তি ATP-তে মুক্ত হয়
বিপাকের ধরনউপচিতি (গঠনমূলক)অপচিতি (ভাঙনমূলক)

সিমুলেশনে নিজে পরীক্ষা করো

প্রতিটি পরীক্ষার আগে “আবার শুরু” চাপো, তাহলে ATP আর গ্লুকোজ গোনা শূন্য থেকে শুরু হবে।

পরীক্ষা ১: একটা গ্লুকোজের যাত্রা দেখো

অক্সিজেন চালু রেখে “পুরো কোষ” দৃশ্যে থামা অবস্থা থেকে চালু করো। “ধাপ বেছে নাও” থেকে একে একে গ্লাইকোলাইসিস, সংযোগ বিক্রিয়া, ক্রেবস চক্র আর ইলেকট্রন প্রবাহতন্ত্রে চাপ দিয়ে দেখো প্রতিটি ধাপে গল্পটা কীভাবে এগোয়। একটা পুরো ঘোরা লাগে ১২ সেকেন্ড (১× গতিতে)।

পরীক্ষা ২: অক্সিজেন বন্ধ করে দেখো

চলতে চলতেই অক্সিজেনের সুইচ বন্ধ করো। মাইটোকন্ড্রিয়া দৃশ্যে গেলে দেখবে পুরোটা ফ্যাকাশে আর নিষ্ক্রিয়, ক্রেবস চক্র ঘোরা থামিয়ে দিয়েছে। “পুরো কোষ” দৃশ্যে ফিরলে দেখবে পাইরুভেট এখন সরাসরি গাঁজনের জায়গায় যাচ্ছে।

পরীক্ষা ৩: দুই রকম গাঁজন তুলনা করো

অক্সিজেন বন্ধ রেখে গাঁজনের ধরন বদলাও। “ল্যাকটিক এসিড” বাছলে পেশির আইকনে চুপচাপ এসিড জমতে দেখবে, বুদবুদ উঠবে না। “অ্যালকোহল” বাছলে বুদবুদ উঠবে, সেগুলোই গ্যাসীয় CO₂।

পরীক্ষা ৪: ATP-র সংখ্যা মিলিয়ে নাও

এক মিনিট (১× গতিতে) চালিয়ে রেখে দেখো, ডানের ATP পরিমাপ কত বেড়েছে। এক মিনিটে প্রায় ৫.০ বার গ্লুকোজ সম্পন্ন হয়, তাই ATP বাড়ার কথা প্রায় ১৯০.০। অক্সিজেন বন্ধ থাকলে সেই একই সময়ে ATP বাড়বে মাত্র প্রায় ১০.০।

পরীক্ষা ৫: গতি বাড়িয়ে-কমিয়ে দেখো

নিচের গতির বোতাম দিয়ে ০.২৫× থেকে ২× পর্যন্ত বদলে দেখো। ঘড়ি আর ATP গণনা দুটোই সমানুপাতিক হারে বদলায়, কারণ প্রতিটি গ্লুকোজের জন্য ATP-র সংখ্যা সবসময় একই থাকে, শুধু কত দ্রুত সেই ঘটনাগুলো ঘটছে তা বদলায়।

গাণিতিক সমস্যা ও সমাধান

সব হিসাব সিমুলেশনের মডেল থেকেই কম্পিউটার-গণনায় করা, কোনো সংখ্যা মুখস্থ করে লেখা হয়নি।

সমস্যা ১: সমীকরণের ভর মেলাও

বাঁয়ে ১ অণু গ্লুকোজ (১৮০ g) আর ৬ অণু O₂ (১৯২ g) মিলে ৩৭২ g। ডানে ৬ অণু CO₂ (২৬৪ g) আর ৬ অণু H₂O (১০৮ g) মিলেও ৩৭২ g। দুই পাশ সমান, তাই ভর সংরক্ষণের সূত্র মেনে চলে।

সমস্যা ২: ৩৮টি ATP-র উৎস আলাদা করো

মোট ৩৮টি ATP-র মধ্যে গ্লাইকোলাইসিস দেয় ২টি (৫.৩%), ক্রেবস চক্র দেয় ২টি (৫.৩%), আর ইলেকট্রন প্রবাহতন্ত্র দেয় ৩৪টি (৮৯.৫%)। যোগফল ২ + ২ + ৩৪ = ৩৮, হিসাব মিলে যায়।

সমস্যা ৩: NADH ও FADH₂ থেকে ETC-র ATP

১০টি NADH আর ২টি FADH₂ জমা হয়েছে। ক্লাসিক হিসাবে ATP = (১০ × ৩) + (২ × ২) = ৩৪। আধুনিক হিসাবে ATP = (১০ × ২.৫) + (২ × ১.৫) = ২৮.০।

সমস্যা ৪: ক্লাসিক ও আধুনিক হিসাবের পার্থক্য

ক্লাসিক মোট ৩৮টি, আধুনিক মোট প্রায় ৩২.০টি। পার্থক্য ৩৮ − ৩২.০ = ৬.০টি, যা ৩৮-এর ১৫.৮%।

সমস্যা ৫: শক্তির দক্ষতা হিসাব করো

১ মোল গ্লুকোজে জমা শক্তি ২,৮৭০ kJ। প্রতিটি ATP-তে জমা হয় প্রায় ৩০.৫ kJ। সবাত শ্বসনে দক্ষতা = (৩৮ × ৩০.৫) ÷ ২,৮৭০ × ১০০ = ৪০.৪%। অবাত শ্বসনে দক্ষতা = (২ × ৩০.৫) ÷ ২,৮৭০ × ১০০ = ২.১৩%।

সমস্যা ৬: দুই পথের ATP অনুপাত

সবাত ATP ÷ অবাত ATP = ৩৮ ÷ ২ = ১৯.০। অর্থাৎ একই গ্লুকোজ থেকে সবাত শ্বসন অবাত শ্বসনের প্রায় ১৯.০ গুণ বেশি শক্তি বের করে আনে।

সমস্যা ৭: শ্বসনিক হার থেকে খাদ্য চেনা

কারও শরীরে মাপা RQ যদি হয় ০.৮৫ (শর্করার RQ ১.০ আর চর্বির RQ ০.৭০-এর মাঝামাঝি), তবে বোঝা যায় সে সেই মুহূর্তে শর্করা আর চর্বি দুটোই মিশিয়ে পুড়িয়ে শক্তি বানাচ্ছে, একদম বিশুদ্ধ শর্করা বা বিশুদ্ধ চর্বি নয়।

যে ভুলগুলো সবাই করে

খাতায় লেখার আগে এই তালিকায় একবার চোখ বুলিয়ে নাও।

  • “শ্বসন” আর “শ্বাসক্রিয়া” একই জিনিস ভাবা ভুল। শ্বাসক্রিয়া অক্সিজেন আনা-নেওয়ার শারীরবৃত্তীয় কাজ; শ্বসন কোষের ভেতরের রাসায়নিক প্রক্রিয়া।
  • অবাত শ্বসনে কোনো ATP তৈরি হয় না ভাবা ভুল। গ্লাইকোলাইসিস থেকেই ২টি নিট ATP তৈরি হয়, শুধু তার পরের বড় ধাপগুলো (ক্রেবস চক্র, ETC) বন্ধ থাকে।
  • গাঁজনে NADH “হারিয়ে যায়” ভাবা ভুল। আসলে NADH তার ইলেকট্রন পাইরুভেটকে (বা তার থেকে তৈরি যৌগকে) দিয়ে ফিরে NAD⁺ হয়, যাতে গ্লাইকোলাইসিস আবার চলতে পারে।
  • ক্রেবস চক্র সরাসরি অনেক ATP বানায় ভাবা ভুল। এক ঘোরায় মাত্র ১টি ATP তৈরি হয়; আসল বড় অবদান হলো NADH আর FADH₂ জমা করা, যা পরে ETC-তে কাজে লাগে।
  • ইলেকট্রন প্রবাহতন্ত্র নিজে CO₂ তৈরি করে ভাবা ভুল। সব CO₂ তৈরি হয় সংযোগ বিক্রিয়া আর ক্রেবস চক্রে; ETC শুধু O₂ খরচ করে পানি বানায় আর ATP তৈরি করে।
  • ৩৮টি ATP-কে একমাত্র সঠিক উত্তর ভাবা। এটা ক্লাসিক পাঠ্যবই-হিসাব; বাস্তব কোষে শক্তি-খরচের কারণে সংখ্যাটা কিছুটা কম, প্রায় ৩০-৩২।

বাস্তব জীবনে শ্বসন

রুটি ফোলানো থেকে দই বানানো, ব্যায়ামের পরের পেশির টান থেকে ওষুধ-শিল্প, শ্বসনের এই একই রাসায়নিক নিয়ম বারবার কাজে আসে।

  • রুটি ও কেক: ইস্টের অ্যালকোহল গাঁজনে তৈরি CO₂ গ্যাসই খামিরকে ফুলিয়ে তোলে; বেক করার সময় অ্যালকোহল উবে যায়।
  • দই বা য়োগার্ট: ব্যাকটেরিয়ার ল্যাকটিক এসিড গাঁজনে দুধের চিনি (ল্যাকটোজ) থেকে ল্যাকটিক এসিড তৈরি হয়ে দুধ জমে যায়।
  • ব্যায়াম বিজ্ঞান: প্রশিক্ষিত খেলোয়াড়দের পেশিতে বেশি রক্তনালি ও মাইটোকন্ড্রিয়া থাকে, তাই তারা সাধারণ মানুষের চেয়ে বেশিক্ষণ সবাত শ্বসনে থাকতে পারে, ল্যাকটিক এসিড কম জমে।
  • উচ্চতায় ওঠা: পাহাড়ের ওপরে অক্সিজেন কম থাকায় শরীর অবাত শ্বসনের ওপর বেশি নির্ভর করে, তাই মাথা ঘোরা আর দুর্বলতা বেশি হয়।
  • ওষুধ ও শিল্প: গাঁজনের এই বিক্রিয়া দিয়েই শিল্পে ইথানল, ভিনেগার আর অনেক অ্যান্টিবায়োটিক তৈরি হয়।
  • ক্যান্সার কোষ: গবেষণায় দেখা গেছে অনেক ক্যান্সার কোষ অক্সিজেন থাকলেও অস্বাভাবিকভাবে অবাত শ্বসনের মতো পথে দ্রুত গ্লুকোজ ভাঙে (ওয়ারবুর্গ প্রভাব), যা চিকিৎসা গবেষণার একটা বড় বিষয়।

পরীক্ষার কর্নার: SSC ও HSC

নবম-দশম শ্রেণির জীববিজ্ঞানে “জীবনীশক্তি” অধ্যায়ে শ্বসনের প্রাথমিক ধারণা আসে, আর HSC জীববিজ্ঞান প্রথম পত্রে (কোষ ও এর গঠন এবং জীবনীশক্তি) গ্লাইকোলাইসিস, ক্রেবস চক্র, ইলেকট্রন প্রবাহতন্ত্র আর ATP হিসাব বিস্তারিত আসে।

একটি নমুনা সৃজনশীল প্রশ্ন

উদ্দীপক: রনি ১০০ মিটার দৌড়ানোর পর পায়ে টান অনুভব করল, আর তার শ্বাস-প্রশ্বাসের হার অনেক বেড়ে গেল। তার শিক্ষক বললেন, এটা কোষীয় শ্বসনের একটা রূপের কারণে হয়েছে।

  • ক. গাঁজন কাকে বলে?
  • খ. অবাত শ্বসনে অক্সিজেন না লাগার কারণ ব্যাখ্যা করো।
  • গ. রনির পেশিতে যে বিক্রিয়া ঘটেছে, তার সমীকরণ ও ধাপ ব্যাখ্যা করো।
  • ঘ. রনির শরীরে সবাত শ্বসন চলতে পারলে ফলাফল কীভাবে ভিন্ন হতো, বিশ্লেষণ করো।

বহুনির্বাচনির জন্য ঝটপট তথ্য

এগুলো মুখস্থ রাখলে কয়েকটা নম্বর নিশ্চিত।

  • গ্লাইকোলাইসিসের স্থান: সাইটোপ্লাজম
  • ক্রেবস চক্রের স্থান: মাইটোকন্ড্রিয়ার ম্যাট্রিক্স
  • ইলেকট্রন প্রবাহতন্ত্রের স্থান: ভেতরের পর্দা (ক্রিস্টি)
  • সবাত শ্বসনে ক্লাসিক মোট ATP: ৩৮টি
  • অবাত শ্বসনে মোট ATP: ২টি (শুধু গ্লাইকোলাইসিস থেকে)
  • শেষ ইলেকট্রন গ্রাহক: অক্সিজেন (O₂)
  • ইস্টের গাঁজনের উৎপাদ: ইথানল ও CO₂

রিভিশন: শেষ মুহূর্তের সারসংক্ষেপ

পরীক্ষার আগের রাতে এই কয়েকটা লাইন পড়ে নাও।

  • সংজ্ঞা: খাদ্য জারিত করে ATP-তে শক্তি সঞ্চয়, উপজাত CO₂ ও H₂O।
  • সমীকরণ: C₆H₁₂O₆ + 6O₂ → 6CO₂ + 6H₂O + শক্তি।
  • গ্লাইকোলাইসিস (সাইটোপ্লাজম): গ্লুকোজ → ২ পাইরুভেট, নিট ২ ATP, ২ NADH।
  • সংযোগ বিক্রিয়া + ক্রেবস চক্র (ম্যাট্রিক্স): ২ ATP, মোট ১০টি NADH ও ২টি FADH₂ জমা, CO₂ নির্গত।
  • ইলেকট্রন প্রবাহতন্ত্র (ক্রিস্টি): NADH ও FADH₂ থেকে ৩৪ ATP, O₂ + H⁺ + e⁻ → H₂O।
  • মোট (ক্লাসিক): ৩৮ ATP; অবাত পথে মোট: ২ ATP।
  • অবাত শ্বসন: ল্যাকটিক এসিড (পেশি, দই) বা ইথানল+CO₂ (ইস্ট, রুটি, পানীয়)।
  • RQ = নির্গত CO₂ ÷ ব্যবহৃত O₂; শর্করার RQ = ১, চর্বির RQ ≈ ০.৭।

সচরাচর জিজ্ঞাসা

কোষীয় শ্বসন কাকে বলে?

যে জৈব-রাসায়নিক প্রক্রিয়ায় কোষ খাদ্য (মূলত গ্লুকোজ) জারিত করে রাসায়নিক শক্তি ATP-তে রূপান্তরিত করে এবং CO₂ ও H₂O উপজাত হিসেবে ত্যাগ করে, তাকে কোষীয় শ্বসন বলে।

শ্বসন আর শ্বাসক্রিয়ার পার্থক্য কী?

শ্বাসক্রিয়া (breathing) ফুসফুস দিয়ে অক্সিজেন ভেতরে আনা আর CO₂ বের করে দেওয়ার শারীরবৃত্তীয় কাজ। শ্বসন (respiration) কোষের ভেতরের রাসায়নিক প্রক্রিয়া, যেখানে সেই অক্সিজেন দিয়ে খাদ্য ভেঙে শক্তি বের করা হয়।

সবাত ও অবাত শ্বসনের মূল পার্থক্য কী?

সবাত শ্বসনে অক্সিজেন লাগে, তা মাইটোকন্ড্রিয়ায় সম্পন্ন হয় ও প্রতি গ্লুকোজে ৩৮টি ATP দেয়। অবাত শ্বসনে অক্সিজেন লাগে না, তা সাইটোপ্লাজমে সীমিত থাকে ও মাত্র ২টি ATP দেয়।

গ্লাইকোলাইসিস কোথায় ঘটে এবং কী উৎপন্ন করে?

গ্লাইকোলাইসিস সাইটোপ্লাজমে ঘটে। এতে ১টি গ্লুকোজ ভেঙে ২টি পাইরুভেট, নিট ২টি ATP আর ২টি NADH তৈরি হয়। এর জন্য অক্সিজেন লাগে না।

ক্রেবস চক্র কী এবং কোথায় ঘটে?

ক্রেবস চক্র মাইটোকন্ড্রিয়ার ম্যাট্রিক্সে ঘটা চক্রাকার বিক্রিয়া, যেখানে অ্যাসিটাইল-CoA ভেঙে ATP, NADH, FADH₂ ও CO₂ তৈরি হয়। প্রতি গ্লুকোজে এটি ২ বার ঘোরে এবং ২টি ATP, ৬টি NADH ও ২টি FADH₂ দেয়।

ইলেকট্রন প্রবাহতন্ত্রে সবচেয়ে বেশি ATP তৈরি হয় কেন?

কারণ এখানে জমা হওয়া ১০টি NADH আর ২টি FADH₂-এর ইলেকট্রন থেকে ধাপে ধাপে শক্তি নিয়ে ATP সিন্থেজ ঘুরিয়ে ATP বানানো হয়, যা মোট ৩৪টি ATP দেয়, ৩৮টির প্রায় ৮৯.৫%।

সবাত শ্বসনে সত্যিই ৩৮টি ATP তৈরি হয়?

এটি ক্লাসিক পাঠ্যবই-হিসাব, যা NCTB ও NCERT অনুসরণ করে। বাস্তবে মাইটোকন্ড্রিয়ার শক্তি-খরচের কারণে আধুনিক হিসাবে সংখ্যাটা প্রায় ৩২.০টি, তবে পরীক্ষায় ৩৮-এর হিসাবই লিখতে হয়।

গাঁজন (fermentation) কাকে বলে?

অক্সিজেনের অনুপস্থিতিতে পাইরুভেটকে ল্যাকটিক এসিড বা ইথানল+CO₂-তে রূপান্তর করে NADH-কে NAD⁺-এ ফিরিয়ে আনার প্রক্রিয়াকে গাঁজন বলে, যাতে গ্লাইকোলাইসিস থামে না।

দৌড়ানোর পর পেশিতে টান লাগে কেন?

দ্রুত দৌড়ানোর সময় পেশিতে অক্সিজেনের চাহিদা সরবরাহের চেয়ে বেড়ে যায়, তখন পেশি কোষ ল্যাকটিক এসিড গাঁজনে চলে যায়। জমে থাকা ল্যাকটিক এসিডই সেই টান বা জ্বালাপোড়ার অনুভূতি তৈরি করে।

শ্বসনিক হার (RQ) কী বোঝায়?

RQ = নির্গত CO₂ ÷ ব্যবহৃত O₂। শর্করার RQ = ১.০, চর্বির RQ ≈ ০.৭০, প্রোটিনের RQ ≈ ০.৮। এটি বলে দেয় কোষ কোন খাদ্য পুড়িয়ে শক্তি বানাচ্ছে।

সালোকসংশ্লেষণ ও শ্বসনের মধ্যে সম্পর্ক কী?

দুটো একে অপরের বিপরীত: সালোকসংশ্লেষণ আলো থেকে গ্লুকোজ বানায় ও O₂ ছাড়ে, শ্বসন সেই গ্লুকোজ ভেঙে ATP বানায় ও CO₂ ছাড়ে। একটির উৎপাদ অন্যটির কাঁচামাল।

এই বিষয়ের আরও পড়াশোনা

অ্যানিমেশনে ধারণা পরিষ্কার হলো, এবার পরীক্ষার প্রস্তুতি: সিলেবাস, সাজেশন, বই আর ভর্তি পরীক্ষার গাইড নিচে।

আরও জীববিজ্ঞান অ্যানিমেশন

SSC · HSC

মাইটোসিস কোষ বিভাজন

মাইটোসিস কাকে বলে, কোষ বিভাজন কত প্রকার ও কী কী? প্রোফেজ, মেটাফেজ, অ্যানাফেজ, টেলোফেজ ও সাইটোকাইনেসিস চলমান চিত্রে দেখো, ক্রোমোজোম গোনার নিয়মসহ।

SSC · HSC

ব্যাপন ও অভিস্রবণ

ব্যাপন ও অভিস্রবণ কাকে বলে, এদের মধ্যে পার্থক্য, প্লাজমোলাইসিস, রসস্ফীতি ও ইমবাইবিশন: কণার সিমুলেশনে নিজে দেখে সহজ ভাষায় শেখো, উদাহরণ ও গাণিতিক সমস্যাসহ।

SSC · HSC

সালোকসংশ্লেষণ

সালোকসংশ্লেষণ কাকে বলে, সমীকরণ, আলোক ও অন্ধকার পর্যায়, ক্যালভিন চক্র, প্রভাবক ও সীমাবদ্ধ উপাদান: পাতা, হাইড্রিলা আর ক্লোরোপ্লাস্টের অ্যানিমেশনে নিজে দেখো।

SSC · HSC

মানব হৃৎপিণ্ডের গঠন ও কাজ

হৃৎপিণ্ডের চারটি প্রকোষ্ঠ, কপাটিকা, লাব-ডাব শব্দ আর চলমান ইসিজি একসাথে দেখো। দ্বিচক্রী সংবহন, হৃৎচক্র ও কার্ডিয়াক আউটপুট শেখো, গাণিতিক সমস্যাসহ।

SSC · HSC

মেন্ডেলের বংশগতি সূত্র

মেন্ডেলের সূত্র, একসংকর ও দ্বিসংকর জনন, টেস্ট ক্রস, অসম্পূর্ণ প্রকটতা, রক্তের গ্রুপ আর সন্তানের লিঙ্গ নির্ধারণ — নিজে পানেট বর্গ বানিয়ে বংশগতির অনুপাত হিসাব করে দেখো।

HSC

ডিএনএ রেপ্লিকেশন

ডিএনএ রেপ্লিকেশন বা অনুলিপন কাকে বলে, অর্ধ-রক্ষণশীল পদ্ধতি, এনজাইমগুলোর কাজ আর মেসেলসন-স্টাল পরীক্ষা—সব অ্যানিমেশনে নিজে দেখো ও হিসাব করো।

SSC · HSC

এনজাইম ক্রিয়া

এনজাইম কী, সক্রিয় স্থান, তালা-চাবি ও আবিষ্ট মিলন মডেল, তাপমাত্রা-pH-এর প্রভাব, মিকেলিস-মেন্টেন সমীকরণ ও প্রতিবন্ধক — নিজে বদলে দেখো এনজাইম ক্রিয়ার অ্যানিমেশনে।

SSC · HSC

স্নায়ু উদ্দীপনার পরিবহন ও অ্যাকশন পটেনশিয়াল

প্রান্তিক মাত্রা (−৫৫ mV) পার হলেই অ্যাকশন পটেনশিয়াল তৈরি হয়ে অ্যাক্সন বেয়ে ছোটে, তারপর সিন্যাপসে নিউরোট্রান্সমিটার নিঃসৃত হয় — সিমুলেশনে নিজে চালিয়ে দেখো, সূত্র ও গাণিতিক উদাহরণসহ।

SSC · HSC

নেফ্রন ও মূত্র তৈরির প্রক্রিয়া

বৃক্ক প্রতিদিন প্রায় ১৮০ লিটার রক্ত ছেঁকে মাত্র দেড় লিটার মূত্র তৈরি করে কীভাবে? গ্লোমেরুলাসে ছাঁকন, নালিকায় পুনঃশোষণ আর গ্লুকোজের প্রান্তিক মাত্রা — সিমুলেশনে নিজে চালিয়ে দেখো, সূত্র ও অঙ্কসহ।

SSC · HSC

মিয়োসিস কোষ বিভাজন

মিয়োসিস কাকে বলে, ক্রসিং ওভার কী, মাইটোসিস ও মিয়োসিসের পার্থক্য কী: 2n = 4 কোষে প্রোফেজ I থেকে টেলোফেজ II পর্যন্ত নিজে চালিয়ে দেখো, সমাধান করা অঙ্কসহ।

SSC

পরিপাকতন্ত্র

পরিপাকতন্ত্র কী, কোন এনজাইম কোথায় কাজ করে, ভিলাই কীভাবে শোষণ করে: মুখ থেকে বৃহদান্ত্র পর্যন্ত খাদ্যের যাত্রা নিজে চালিয়ে দেখো, সমাধান করা অঙ্কসহ।

অন্য বিষয়ের অ্যানিমেশন

পদার্থবিজ্ঞান

আলোর প্রতিসরণ

পদার্থবিজ্ঞান

ওহমের সূত্র

পদার্থবিজ্ঞান

প্রাসের গতি

পদার্থবিজ্ঞান

সরল দোলক

পদার্থবিজ্ঞান

তড়িৎ ক্ষেত্র

পদার্থবিজ্ঞান

তরঙ্গের ব্যতিচার

পদার্থবিজ্ঞান

পড়ন্ত বস্তু ও পড়ন্ত বস্তুর সূত্র

পদার্থবিজ্ঞান

লেন্সে প্রতিবিম্ব গঠন

পদার্থবিজ্ঞান

নিউটনের গতির সূত্র

পদার্থবিজ্ঞান

গোলীয় দর্পণে প্রতিবিম্ব গঠন

পদার্থবিজ্ঞান

তড়িৎচুম্বকীয় আবেশ ও ফ্যারাডের সূত্র

পদার্থবিজ্ঞান

ভরবেগের সংরক্ষণ ও সংঘর্ষ

পদার্থবিজ্ঞান

কাজ, ক্ষমতা ও শক্তি

পদার্থবিজ্ঞান

নততল

রসায়ন

পরমাণুর গঠন

রসায়ন

এসিড, ক্ষারক ও pH স্কেল

রসায়ন

ইলেকট্রন বিন্যাস

রসায়ন

গ্যাসের সূত্র: বয়েল, চার্লস ও আদর্শ গ্যাস সমীকরণ

রসায়ন

আয়নিক বন্ধন কীভাবে গঠিত হয়

রসায়ন

তড়িৎ বিশ্লেষণ ও ফ্যারাডের সূত্র

রসায়ন

সমযোজী বন্ধন

রসায়ন

পর্যায়বৃত্ত ধর্ম

গণিত

পিথাগোরাসের উপপাদ্য

গণিত

ত্রিকোণমিতিক অনুপাত ও একক বৃত্ত

গণিত

দ্বিঘাত সমীকরণ ও দ্বিঘাত ফাংশনের লেখচিত্র

গণিত

বৃত্ত সংক্রান্ত উপপাদ্য

গণিত

দূরত্ব ও উচ্চতা: উন্নতি কোণ ও অবনতি কোণ

গণিত

সম্ভাবনা: পরীক্ষালব্ধ বনাম তাত্ত্বিক সম্ভাবনা

গণিত

সমান্তর ও গুণোত্তর ধারা

গণিত

গড়, মধ্যক ও প্রচুরক