S₁, S₂ উৎস বা P বিন্দু টেনে সরাও
নিয়ন্ত্রণ
দৃশ্য
পরিমাপ
- S₁ থেকে দূরত্ব, r₁
- ২৬.৮cm
- S₂ থেকে দূরত্ব, r₂
- ২৪.০cm
- পথ পার্থক্য, Δ
- ২.৮৩cm
- পথ পার্থক্য, Δ/λ
- ০.৯৪λ
- P-তে দশা পার্থক্য, δ
- ২০°
- লব্ধি বিস্তার (A₁ = ১)
- ১.৯৭
- P বিন্দুতে ব্যতিচার
- আংশিক
- পর্দায় মাপা ডোরার প্রস্থ
- ১১.৫cm
- β = λD/d (D ≫ d ধরে)
- ১১.০cm
সিমুলেশনটি কীভাবে ব্যবহার করবে
- S₁ ও S₂ উৎস টেনে সরাও, অথবা “উৎস দুটির দূরত্ব” স্লাইডার বদলাও — d বাড়ালে ডোরা ঘন হয়ে আসে।
- দৃশ্য “গড় তীব্রতা” করে দাও: চলমান তরঙ্গের জায়গায় স্থির উজ্জ্বল ও অন্ধকার ডোরা দেখা যাবে।
- P বিন্দুটি কোনো সবুজ রেখায় রাখো — পথ পার্থক্য λ-এর পূর্ণসংখ্যা গুণিতক হবে; লাল ড্যাশ রেখায় রাখলে হবে অর্ধ-পূর্ণসংখ্যা গুণিতক।
- দশা পার্থক্য φ = ১৮০° করো: সব ডোরা জায়গা বদলায়, মাঝের রেখাটি এখন অন্ধকার।
পুকুরে দুটি ঢিল: ব্যতিচারের সাথে প্রথম দেখা
শান্ত একটা পুকুরে পাশাপাশি দুটি ঢিল একসাথে ফেলে দেখেছ কখনো? প্রতিটি ঢিল থেকে গোল গোল ঢেউ ছড়িয়ে পড়ে। একটু পরে দুই সেট ঢেউ একে অপরের ওপর দিয়ে চলে যেতে থাকে, আর তখন একটা মজার নকশা তৈরি হয় — কিছু জায়গায় পানি খুব জোরে ওঠানামা করছে, আবার কিছু জায়গায় পানি প্রায় একদম স্থির।
এই “কোথাও জোরালো, কোথাও চুপচাপ” নকশাটাই ব্যতিচার। দুটি তরঙ্গ মিলে কোথাও একে অপরকে সাহায্য করে, কোথাও একে অপরকে বাতিল করে দেয়। আর সবচেয়ে মজার ব্যাপার হলো, নকশাটা এলোমেলো নয় — কোন জায়গায় জোরালো আর কোন জায়গায় চুপ হবে, সেটা হিসাব করে আগেই বলে দেওয়া যায়।
বৃষ্টির পরে ভেজা রাস্তায় পড়ে থাকা তেলের পাতলা স্তরে রংধনুর মতো রং, কিংবা সাবানের বুদবুদের গায়ে ঝলমলে রং — এগুলোও আলোর ব্যতিচারের ফল। এখানে ঢেউ পানির নয়, আলোর; কিন্তু নিয়মটা একই।
শুরু থেকে: তরঙ্গের কয়েকটি সহজ কথা
ব্যতিচার বুঝতে হলে আগে তরঙ্গের কয়েকটা শব্দ চিনে নিই। পানির ঢেউয়ের সবচেয়ে উঁচু অংশকে বলে তরঙ্গশীর্ষ, আর সবচেয়ে নিচু অংশকে তরঙ্গপাদ। পাশাপাশি দুটি তরঙ্গশীর্ষের মাঝের দূরত্ব হলো তরঙ্গদৈর্ঘ্য, যাকে λ (ল্যাম্বডা) দিয়ে লেখা হয়।
স্থির অবস্থান থেকে কণাটি সর্বোচ্চ যতটুকু সরে যায়, সেটা বিস্তার (A)। আর দশা বলতে বোঝায়, কোনো মুহূর্তে কণাটি তার কম্পনের কোন অবস্থায় আছে — ওপরে উঠছে, নিচে নামছে, নাকি শীর্ষে আছে। দুটি কণা যদি একই সাথে ওপরে ওঠে আর একই সাথে নামে, তারা একই দশায় আছে।
উপরিপাতন নীতি: তরঙ্গরা যোগ করতে জানে
একই মাধ্যমে দুই বা ততোধিক তরঙ্গ একসাথে কোনো কণার ওপর দিয়ে গেলে কণাটির লব্ধি সরণ হয় প্রতিটি তরঙ্গের আলাদা সরণের যোগফলের সমান। একেই তরঙ্গের উপরিপাতন নীতি বলে।
সহজ উদাহরণ: দুজন বন্ধু একটা দোলনাকে ঠেলছে। দুজন যদি একই দিকে, একই সময়ে ঠেলে, দোলনা অনেক উঁচুতে ওঠে। কিন্তু একজন সামনে আর আরেকজন উল্টো দিকে একই শক্তিতে ঠেললে দোলনা নড়েই না। তরঙ্গের ক্ষেত্রেও ঠিক তাই — সরণগুলো চিহ্নসহ যোগ হয়।
y = y₁ + y₂লব্ধি সরণ = আলাদা সরণগুলোর যোগফল
কয়েকটি জরুরি শব্দ এক নজরে
পরীক্ষায় সংজ্ঞাগুলো বারবার আসে, তাই একটা ছোট তালিকা বানিয়ে রাখলাম।
| শব্দ | সহজ মানে |
|---|---|
| উপরিপাতন | একাধিক তরঙ্গ একই জায়গায় এলে সরণগুলো যোগ হওয়া |
| ব্যতিচার | উপরিপাতনের ফলে কোথাও বিস্তার বেশি, কোথাও কম হওয়ার স্থায়ী নকশা |
| সুসংগত উৎস | একই কম্পাঙ্কের দুটি উৎস, যাদের দশা পার্থক্য সময়ের সাথে বদলায় না |
| পথ পার্থক্য (Δ) | দুই উৎস থেকে কোনো বিন্দুর দূরত্বের পার্থক্য, |r₁ − r₂| |
| দশা পার্থক্য (δ) | দুই তরঙ্গ কতটা এগিয়ে-পিছিয়ে আছে, কোণে মাপা |
| ডোরা বা ঝালর | পর্দায় পরপর উজ্জ্বল ও অন্ধকার দাগ |
| ডোরার প্রস্থ (β) | পাশাপাশি দুটি উজ্জ্বল (বা দুটি অন্ধকার) ডোরার মাঝের দূরত্ব |
গঠনমূলক ও ধ্বংসাত্মক ব্যতিচারের শর্ত
কোনো বিন্দুতে দুই তরঙ্গ কী করবে, তা নির্ভর করে সেখানে তারা কোন দশায় পৌঁছায় তার ওপর। আর দশা নির্ভর করে পথ পার্থক্যের ওপর — একটি তরঙ্গকে অন্যটির চেয়ে কতটা বেশি পথ চলতে হয়েছে।
গঠনমূলক ব্যতিচার: শীর্ষে শীর্ষে মিলন
পথ পার্থক্য যদি তরঙ্গদৈর্ঘ্যের পূর্ণসংখ্যা গুণিতক হয় (০, λ, ২λ, …), তাহলে একটি তরঙ্গ ঠিক পুরো পুরো ঢেউ বেশি চলেছে। ফলে শীর্ষ এসে পড়ে শীর্ষের ওপর, পাদ পড়ে পাদের ওপর। বিস্তার দাঁড়ায় A₁ + A₂ — আলোর ক্ষেত্রে উজ্জ্বল ডোরা।
Δ = nλ, n = 0, 1, 2, …লব্ধি বিস্তার A₁ + A₂
ধ্বংসাত্মক ব্যতিচার: শীর্ষে পাদে কাটাকাটি
পথ পার্থক্য যদি অর্ধেক তরঙ্গদৈর্ঘ্যের বিজোড় গুণিতক হয় (λ/২, ৩λ/২, …), তাহলে একটির শীর্ষ এসে পড়ে অন্যটির পাদে। দুটো সরণ উল্টো দিকে, তাই একে অপরকে বাতিল করে। বিস্তার হয় |A₁ − A₂|; দুটো সমান হলে একদম শূন্য — অন্ধকার ডোরা।
Δ = (2n + 1)λ/2লব্ধি বিস্তার |A₁ − A₂|
পথ পার্থক্য থেকে দশা পার্থক্য
এক তরঙ্গদৈর্ঘ্য বেশি পথ মানে পুরো এক চক্র, অর্থাৎ 2π রেডিয়ান বা ৩৬০° দশা পার্থক্য। তাই যেকোনো পথ পার্থক্যকে দশায় বদলানো যায় সহজ একটা অনুপাতে। দশা পার্থক্য δ হলে লব্ধি বিস্তারের সাধারণ সূত্রও আছে।
δ = (2π/λ)·Δদশা পার্থক্য
A² = A₁² + A₂² + 2A₁A₂cosδযেকোনো দশায় লব্ধি বিস্তার
কেন সুসংগত উৎস লাগে
দুটি আলাদা বাল্ব জ্বালিয়ে দেয়ালে ধরলে কোনো ডোরা দেখা যায় না। কারণ প্রতিটি বাল্বের আলো প্রতি সেকেন্ডে কোটি কোটি বার এলোমেলোভাবে দশা বদলায়। ফলে কোনো বিন্দুতে এক মুহূর্তে গঠনমূলক, পরের মুহূর্তেই ধ্বংসাত্মক — চোখে শুধু গড়পড়তা আলো পৌঁছায়।
স্থির নকশা পেতে হলে দুই উৎসের কম্পাঙ্ক এক হতে হবে এবং দশা পার্থক্য সময়ের সাথে ধ্রুব থাকতে হবে। এমন উৎসকে সুসংগত উৎস বলে। তাই সাধারণত একটি উৎসের আলোকেই দুই ভাগ করা হয় — যেমন ইয়ং-এর পরীক্ষায় দুটি সরু চিড় দিয়ে।
- দুই উৎসের কম্পাঙ্ক (এবং তরঙ্গদৈর্ঘ্য) সমান হতে হবে।
- দশা পার্থক্য ধ্রুব থাকতে হবে।
- বিস্তার সমান বা কাছাকাছি হলে অন্ধকার ডোরা বেশি অন্ধকার হয়, নকশা পরিষ্কার দেখা যায়।
- উৎস দুটি খুব কাছাকাছি এবং খুব সরু হওয়া ভালো।
ইয়ং-এর দ্বি-চিড় পরীক্ষা ধাপে ধাপে
১৮০১ সালের দিকে টমাস ইয়ং আলোর তরঙ্গ ধর্ম প্রমাণ করতে একটি সহজ কিন্তু বিখ্যাত পরীক্ষা করেন। আজও HSC পদার্থবিজ্ঞানে এটি সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অংশগুলোর একটি।
পরীক্ষার সাজসজ্জা
একটি একবর্ণী আলোক উৎসের সামনে একটি সরু চিড় S রাখা হয়। তার সামনে খুব কাছাকাছি দুটি সরু চিড় S₁ ও S₂, যাদের মাঝের দূরত্ব d। অনেক দূরে, D দূরত্বে একটি পর্দা। S থেকে আসা একই তরঙ্গমুখ S₁ ও S₂-তে পৌঁছায় বলে এরা সুসংগত উৎসের মতো কাজ করে।
পর্দায় দেখা যায় সমান দূরত্বে পরপর উজ্জ্বল ও অন্ধকার ডোরা। মাঝখানে (যেখানে পথ পার্থক্য শূন্য) সবসময় উজ্জ্বল ডোরা থাকে — যদি উৎস দুটি একই দশায় থাকে।
ডোরার অবস্থান ও প্রস্থের সূত্র
পর্দার মাঝখান থেকে y দূরত্বে পথ পার্থক্য প্রায় Δ = yd/D (যখন D অনেক বড়)। উজ্জ্বল ডোরার জন্য Δ = nλ বসালে n-তম উজ্জ্বল ডোরার অবস্থান পাওয়া যায়। পাশাপাশি দুটির পার্থক্যই ডোরার প্রস্থ।
yₙ = nλD/dn-তম উজ্জ্বল ডোরার অবস্থান
β = λD/dডোরার প্রস্থ
- λ বাড়লে β বাড়ে — লাল আলোর ডোরা নীল আলোর চেয়ে চওড়া।
- পর্দা দূরে নিলে (D বাড়ালে) ডোরা চওড়া হয়।
- চিড় দুটি কাছে আনলে (d কমালে) ডোরা চওড়া হয়।
- পুরো ব্যবস্থা পানিতে ডুবালে λ কমে যায়, তাই ডোরা সরু হয়।
ব্যতিচার ও অপবর্তনের পার্থক্য
এই প্রশ্নটা খুব বেশি আসে, কারণ দুটোতেই উজ্জ্বল-অন্ধকার ডোরা দেখা যায়। মূল পার্থক্য হলো তরঙ্গগুলো কোথা থেকে আসছে।
| বিষয় | ব্যতিচার | অপবর্তন |
|---|---|---|
| উৎস | দুটি সুসংগত উৎসের তরঙ্গের মিলন | একই তরঙ্গমুখের বিভিন্ন অংশের তরঙ্গের মিলন |
| ডোরার প্রস্থ | সাধারণত সব ডোরা সমান চওড়া | মাঝের ডোরা সবচেয়ে চওড়া, বাকিগুলো সরু |
| উজ্জ্বলতা | উজ্জ্বল ডোরাগুলো প্রায় সমান উজ্জ্বল | মাঝখান থেকে দূরে গেলে উজ্জ্বলতা দ্রুত কমে |
| অন্ধকার ডোরা | পুরোপুরি অন্ধকার হতে পারে | পুরোপুরি অন্ধকার হয় না |
| উদাহরণ | ইয়ং-এর দ্বি-চিড় পরীক্ষা | একটি সরু চিড় বা ধারালো কিনারার পাশে আলো |
সিমুলেশনে নিজে পরীক্ষা করো
ওপরের রিপল ট্যাংকটা আসলে একটা ছোট্ট ল্যাব। বই পড়ে যা শিখলে, এখানে হাতে-কলমে মিলিয়ে নাও।
- তরঙ্গদৈর্ঘ্য λ বাড়াও: ঢেউগুলো লম্বা হয়, আর সবুজ-লাল রেখাগুলো দূরে দূরে সরে যায় — β = λD/d মনে পড়ছে?
- উৎস দুটির দূরত্ব d কমাও: রেখার সংখ্যা কমে, ডোরা চওড়া হয়।
- দশা পার্থক্য φ ধীরে ধীরে ০° থেকে ৩৬০° করো: পুরো নকশা পাশে সরে যায় আর ৩৬০°-এ আগের জায়গায় ফেরে।
- বিস্তারের অনুপাত কমাও: অন্ধকার ডোরা আর পুরো অন্ধকার থাকে না, ধূসর হয়ে যায়।
- P বিন্দুটি টেনে বিভিন্ন জায়গায় রাখো আর পরিমাপ প্যানেলে পথ পার্থক্য কত λ, দেখো।
সমাধান করা গাণিতিক উদাহরণ
নিচের প্রতিটি উদাহরণ ধাপে ধাপে করা হয়েছে। একক আগে SI-তে বদলে নিতে ভুলো না।
উদাহরণ ১: ডোরার প্রস্থ নির্ণয়
ইয়ং-এর পরীক্ষায় λ = ৬০০ nm, চিড় দুটির দূরত্ব d = ০.৫ mm এবং পর্দার দূরত্ব D = ১ m। ডোরার প্রস্থ কত?
β = λD/d = (৬০০ × 10⁻⁹ × ১) / (০.৫ × 10⁻³) = ১.২ mm। তাহলে মাঝখান থেকে ৩য় উজ্জ্বল ডোরা থাকবে y₃ = ৩β = ৩.৬ mm দূরে।
উদাহরণ ২: ডোরার প্রস্থ থেকে তরঙ্গদৈর্ঘ্য
একটি পরীক্ষায় মাপা ডোরার প্রস্থ ০.৭৫ mm, D = ১.৫ m এবং d = ১ mm। আলোর তরঙ্গদৈর্ঘ্য কত?
সূত্র উল্টে লিখি: λ = βd/D = (০.৭৫ × 10⁻³ × ১ × 10⁻³) / ১.৫ = ৫০০ nm — এটা সবুজ আলোর তরঙ্গদৈর্ঘ্য।
উদাহরণ ৩: চিড়ের দূরত্ব অর্ধেক করলে
উদাহরণ ১-এর ব্যবস্থায় d-কে অর্ধেক করে ০.২৫ mm করা হলো। নতুন ডোরার প্রস্থ β′ = λD/(d/২) = ২.৪ mm — অর্থাৎ ঠিক দ্বিগুণ। β ও d ব্যস্তানুপাতিক, তাই এক দিক অর্ধেক হলে অন্যটি দ্বিগুণ।
উদাহরণ ৪: পথ পার্থক্য থেকে সিদ্ধান্ত
λ = ৬০০ nm আলোয় দুটি বিন্দুতে পথ পার্থক্য যথাক্রমে ১.৫ µm ও ১.৮ µm। প্রতিটিতে কী ধরনের ব্যতিচার হবে?
প্রথম বিন্দু: Δ/λ = ২.৫, অর্থাৎ অর্ধ-পূর্ণসংখ্যা। দশা পার্থক্য δ = (2π/λ)Δ = ৫π রেডিয়ান, যা π-এর বিজোড় গুণিতক — ধ্বংসাত্মক ব্যতিচার, অন্ধকার ডোরা।
দ্বিতীয় বিন্দু: Δ/λ = ৩, পূর্ণসংখ্যা। δ = ৬π রেডিয়ান, 2π-এর গুণিতক — গঠনমূলক ব্যতিচার, উজ্জ্বল ডোরা।
উদাহরণ ৫: অসমান বিস্তার
দুটি সুসংগত তরঙ্গের বিস্তার ৩ cm ও ১ cm। সর্বোচ্চ বিস্তার = ৩ + ১ = ৪ cm, সর্বনিম্ন বিস্তার = ৩ − ১ = ২ cm। তীব্রতা বিস্তারের বর্গের সমানুপাতিক, তাই Imax : Imin = ৪² : ২² = ৪ : ১।
দশা পার্থক্য ৬০° হলে A² = ৩² + ১² + ২ × ৩ × ১ × cos৬০° = ১৩, তাই A = ৩.৬১ cm।
যে ভুলগুলো সবাই করে
কয়েকটা সাধারণ ভুল আগে থেকে জেনে রাখলে পরীক্ষায় নম্বর বাঁচবে।
- ডোরার প্রস্থের সূত্রে mm আর nm একসাথে বসিয়ে দেওয়া — আগে সব মিটারে নাও।
- ভাবা যে অন্ধকার ডোরায় শক্তি নষ্ট হয় — আসলে শক্তি শুধু পুনর্বণ্টিত হয়।
- d বাড়ালে ডোরা চওড়া হয় ভাবা — উল্টো, d বাড়লে β কমে।
- দুটি আলাদা বাল্ব দিয়ে ব্যতিচার হবে ভাবা — তারা সুসংগত নয়।
- ব্যতিচার আর অপবর্তন গুলিয়ে ফেলা — উৎস দুটি নাকি একটি তরঙ্গমুখ, সেটা দেখো।
বাস্তব জীবনে ব্যতিচার
ব্যতিচার শুধু বইয়ের জিনিস নয়, চারপাশে প্রতিদিন ঘটছে।
- সাবানের বুদবুদ ও তেলের স্তর: পাতলা স্তরের সামনের ও পেছনের তল থেকে প্রতিফলিত আলো ব্যতিচার ঘটায়। স্তরের পুরুত্ব অনুযায়ী ভিন্ন ভিন্ন রং জোরালো হয়, তাই রংধনুর মতো দেখায়।
- চশমা ও ক্যামেরার লেন্সের প্রতিফলন-রোধী প্রলেপ: খুব পাতলা একটা প্রলেপ দেওয়া হয়, যাতে দুই তল থেকে প্রতিফলিত আলো ধ্বংসাত্মক ব্যতিচারে একে অপরকে বাতিল করে। ফলে প্রতিফলন কমে, বেশি আলো লেন্স দিয়ে ঢোকে।
- নয়েজ-ক্যান্সেলিং হেডফোন: মাইক্রোফোন বাইরের শব্দ শোনে, আর হেডফোন ঠিক উল্টো দশার (১৮০°) শব্দ তৈরি করে। দুটো মিলে ধ্বংসাত্মক ব্যতিচার — একটানা ইঞ্জিন বা ফ্যানের শব্দ অনেক কমে যায়।
- রেডিও ও ওয়াই-ফাই সিগন্যাল: দেয়ালে প্রতিফলিত সিগন্যাল সরাসরি সিগন্যালের সাথে ব্যতিচার করে, তাই ঘরের কোনো কোনো কোণে সিগন্যাল দুর্বল পাওয়া যায়।
পরীক্ষার কর্নার: HSC সৃজনশীল প্রশ্ন
সৃজনশীল প্রশ্নে সাধারণত একটি উদ্দীপক থাকে: ধরো, “একটি ইয়ং-এর দ্বি-চিড় পরীক্ষায় চিড়দ্বয়ের দূরত্ব ০.৫ mm, পর্দার দূরত্ব ১ m এবং ব্যবহৃত আলোর তরঙ্গদৈর্ঘ্য ৬০০ nm।” এরপর চারটি স্তরের প্রশ্ন আসে।
- জ্ঞানমূলক: “সুসংগত উৎস কাকে বলে?” — একই কম্পাঙ্ক ও ধ্রুব দশা পার্থক্যের দুটি উৎস।
- অনুধাবনমূলক: “দুটি আলাদা বাল্বের আলোয় ব্যতিচার হয় না কেন?” — এদের দশা পার্থক্য এলোমেলোভাবে বদলায়, তাই স্থায়ী নকশা হয় না।
- প্রয়োগমূলক: “ডোরার প্রস্থ নির্ণয় করো।” — β = λD/d = ১.২ mm।
- উচ্চতর দক্ষতা: “চিড়ের দূরত্ব অর্ধেক করলে পর্দায় কী পরিবর্তন হবে — গাণিতিক যুক্তিসহ বিশ্লেষণ করো।” — β দ্বিগুণ হয়ে ২.৪ mm, ডোরা কম ও চওড়া দেখাবে।
এক নজরে পুনরাবৃত্তি
পরীক্ষার আগের রাতে শুধু এই অংশটা পড়লেও মূল কথাগুলো মনে পড়ে যাবে।
- উপরিপাতন: y = y₁ + y₂।
- ব্যতিচারের জন্য সুসংগত উৎস লাগে।
- গঠনমূলক: Δ = nλ, বিস্তার A₁ + A₂।
- ধ্বংসাত্মক: Δ = (2n + 1)λ/2, বিস্তার |A₁ − A₂|।
- দশা পার্থক্য δ = (2π/λ)Δ।
- ডোরার প্রস্থ β = λD/d।
- শক্তি নষ্ট হয় না, পুনর্বণ্টিত হয়।
সচরাচর জিজ্ঞাসা
উপরিপাতন নীতি কী?
একই মাধ্যমে একাধিক তরঙ্গ একসাথে কোনো কণার ওপর দিয়ে গেলে কণাটির লব্ধি সরণ প্রতিটি তরঙ্গের আলাদা সরণের যোগফলের সমান হয় — এটাই উপরিপাতন নীতি।
ব্যতিচার কাকে বলে?
দুটি সুসংগত উৎসের তরঙ্গ মিলিত হলে উপরিপাতনের ফলে কোনো স্থানে লব্ধি বিস্তার সর্বোচ্চ এবং কোনো স্থানে সর্বনিম্ন হওয়ার ঘটনাকে ব্যতিচার বলে।
ব্যতিচারের শর্ত কী?
উৎস দুটি সুসংগত হতে হবে (একই কম্পাঙ্ক, ধ্রুব দশা পার্থক্য), বিস্তার সমান বা কাছাকাছি হতে হবে, আর উৎস দুটি সরু ও কাছাকাছি হতে হবে। গঠনমূলকের জন্য Δ = nλ, ধ্বংসাত্মকের জন্য Δ = (2n + 1)λ/2।
ব্যতিচার ও অপবর্তনের পার্থক্য কী?
ব্যতিচারে দুটি সুসংগত উৎসের তরঙ্গ মেলে এবং ডোরাগুলো সমান চওড়া ও সমান উজ্জ্বল; অপবর্তনে একই তরঙ্গমুখের বিভিন্ন অংশ মেলে, মাঝের ডোরা সবচেয়ে চওড়া আর বাকিগুলো ক্রমশ ম্লান।
ব্যতিচার ঘটনার জন্য আলোর কোন ধর্ম দায়ী?
আলোর তরঙ্গ ধর্ম। কণা হিসেবে দুটি আলোক রশ্মি মিলে অন্ধকার তৈরি করতে পারে না; তরঙ্গ হিসেবে শীর্ষ-পাদ কাটাকাটি করলেই অন্ধকার ডোরা হয়।
ডোরার প্রস্থের সূত্র কী?
β = λD/d, যেখানে λ আলোর তরঙ্গদৈর্ঘ্য, D চিড় থেকে পর্দার দূরত্ব এবং d চিড় দুটির মাঝের দূরত্ব।
ধ্বংসাত্মক ব্যতিচারে শক্তি কোথায় যায়?
শক্তি নষ্ট হয় না। অন্ধকার ডোরা থেকে সরে যাওয়া শক্তি উজ্জ্বল ডোরায় জমা হয়, তাই মোট শক্তি সংরক্ষিত থাকে — শুধু পুনর্বণ্টন ঘটে।
এই বিষয়ের আরও পড়াশোনা
অ্যানিমেশনে ধারণা পরিষ্কার হলো, এবার পরীক্ষার প্রস্তুতি: সিলেবাস, সাজেশন, বই আর ভর্তি পরীক্ষার গাইড নিচে।
SSC
এসএসসি পদার্থবিজ্ঞান: সিলেবাস ও প্রস্তুতি
HSC
এইচএসসি পদার্থবিজ্ঞান: সিলেবাস ও প্রস্তুতি
পাঠ্যবই
নবম-দশম শ্রেণির পদার্থবিজ্ঞান বই
ভর্তি
ইঞ্জিনিয়ারিং ভর্তি পরীক্ষার প্রস্তুতি
ভর্তি
ঢাবি বিজ্ঞান ইউনিট ভর্তি ২০২৬-২৭
English
Composition: The Uses of Electricity (ইংরেজিতে)
বাংলা
প্রতিবেদন: বিজ্ঞান মেলা
English
Paragraph: Science in Everyday Life (ইংরেজিতে)
SSC
এসএসসি সাজেশন
HSC
এইচএসসি সাজেশন
ভর্তি
বিশ্ববিদ্যালয় ভর্তি পরীক্ষার গাইড
SSC
এসএসসি সিলেবাস
HSC
এইচএসসি সিলেবাস
আরও পদার্থবিজ্ঞান অ্যানিমেশন
SSC · HSC
আলোর প্রতিসরণ
আলোর প্রতিসরণ কাকে বলে, প্রতিসরণের সূত্র, সংকট কোণ ও পূর্ণ অভ্যন্তরীণ প্রতিফলন — সহজ ভাষায় ব্যাখ্যা, ইন্টারঅ্যাকটিভ অ্যানিমেশন ও গাণিতিক উদাহরণসহ।
SSC · HSC
ওহমের সূত্র
ওহমের সূত্র কাকে বলে, বিবৃতি ও ব্যাখ্যা, V-I লেখচিত্র — বিভব পার্থক্য ও রোধ বদলে তড়িৎ প্রবাহ দেখো। শ্রেণি ও সমান্তরাল সমবায়, গাণিতিক উদাহরণসহ।
HSC
প্রাসের গতি
প্রাস কাকে বলে? কোণ ও আদিবেগ বদলে প্রাসের গতিপথ দেখো — বিচরণকাল, সর্বাধিক উচ্চতা ও আনুভূমিক পাল্লার সূত্র, গাণিতিক উদাহরণসহ।
SSC · HSC
সরল দোলক
সরল দোলক কাকে বলে, দোলনকালের সূত্র T=2π√(L/g) ও দোলকের সূত্রসমূহ — দৈর্ঘ্য বদলে দেখো। অভিকর্ষজ ত্বরণ নির্ণয়ের গাণিতিক উদাহরণসহ।
SSC · HSC
তড়িৎ ক্ষেত্র
তড়িৎ ক্ষেত্র কাকে বলে, তড়িৎ তীব্রতার সূত্র ও একক, বলরেখার বৈশিষ্ট্য — আধান বসিয়ে বলরেখা দেখো। কুলম্বের সূত্রের গাণিতিক উদাহরণসহ।
SSC · HSC
পড়ন্ত বস্তু ও পড়ন্ত বস্তুর সূত্র
পড়ন্ত বস্তুর তিনটি সূত্র কী, কে আবিষ্কার করেন, অভিকর্ষজ ত্বরণ ৯.৮ বলতে কী বোঝায়: মুদ্রা আর পালক ফেলে নিজে দেখো, সূত্র ও গাণিতিক সমস্যাসহ।
SSC · HSC
লেন্সে প্রতিবিম্ব গঠন
উত্তল লেন্স ও অবতল লেন্স কাকে বলে, প্রতিবিম্ব কীভাবে গঠিত হয়, লেন্সের সূত্র 1/u + 1/v = 1/f, বিবর্ধন ও লেন্সের ক্ষমতা: বস্তু টেনে সরিয়ে রশ্মি চিত্র নিজে দেখো।
SSC · HSC
নিউটনের গতির সূত্র
নিউটনের গতির তিনটি সূত্র, জড়তা, ভরবেগ, F = ma, ঘাত বল আর ক্রিয়া-প্রতিক্রিয়া: ট্রলি ঠেলে নিজে দেখো, সহজ উদাহরণ, সূত্র ও গাণিতিক সমস্যাসহ (SSC, HSC)।
SSC · HSC
গোলীয় দর্পণে প্রতিবিম্ব গঠন
অবতল দর্পণ ও উত্তল দর্পণ কাকে বলে, মেরু, বক্রতার কেন্দ্র, প্রধান ফোকাস, দর্পণের সূত্র 1/u + 1/v = 1/f ও বিবর্ধন: বস্তু টেনে সরিয়ে প্রতিবিম্ব গঠন নিজে দেখো।
SSC · HSC
তড়িৎচুম্বকীয় আবেশ ও ফ্যারাডের সূত্র
তড়িৎচুম্বকীয় আবেশ কাকে বলে, ফ্যারাডের সূত্র ও লেঞ্জের সূত্র কী বলে: চুম্বক টেনে কুণ্ডলীর ভেতর দিয়ে নিয়ে নিজে দেখো, গ্যালভানোমিটারের কাঁটা কেন দোলে, সূত্র ও অঙ্কসহ।
SSC · HSC
ভরবেগের সংরক্ষণ ও সংঘর্ষ
ভরবেগের সংরক্ষণ সূত্র কী, স্থিতিস্থাপক ও অস্থিতিস্থাপক সংঘর্ষের পার্থক্য কী: দুটো গাড়ি সংঘর্ষ করিয়ে নিজে দেখো, পুনরুদ্ধার সহগ e বদলে ভরবেগ ও গতিশক্তির বার-লেখচিত্র মিলিয়ে দেখো, সূত্র ও অঙ্কসহ।
SSC · HSC
কাজ, ক্ষমতা ও শক্তি
কাজ কাকে বলে, গতিশক্তি ও বিভবশক্তির সূত্র কী, ক্ষমতা কীভাবে মাপা হয়: গড়িয়ে পড়া কার্টের সিমুলেশনে শক্তির রূপান্তর নিজে দেখো, সূত্র ও গাণিতিক সমস্যাসহ।
SSC · HSC
নততল
নততলে ওজন কীভাবে দুই উপাংশে ভাগ হয়, স্থিতি কোণ কী, ঘর্ষণ কীভাবে ব্লককে ধরে রাখে বা পিছলে দেয়: কোণ বদলে ব্লক নিজে ছেড়ে দিয়ে বল-চিত্র ও সূত্র দেখো।
অন্য বিষয়ের অ্যানিমেশন
রসায়ন
পরমাণুর গঠন
রসায়ন
এসিড, ক্ষারক ও pH স্কেল
রসায়ন
ইলেকট্রন বিন্যাস
রসায়ন
গ্যাসের সূত্র: বয়েল, চার্লস ও আদর্শ গ্যাস সমীকরণ
রসায়ন
আয়নিক বন্ধন কীভাবে গঠিত হয়
রসায়ন
তড়িৎ বিশ্লেষণ ও ফ্যারাডের সূত্র
রসায়ন
সমযোজী বন্ধন
রসায়ন
পর্যায়বৃত্ত ধর্ম
জীববিজ্ঞান
মাইটোসিস কোষ বিভাজন
জীববিজ্ঞান
ব্যাপন ও অভিস্রবণ
জীববিজ্ঞান
সালোকসংশ্লেষণ
জীববিজ্ঞান
মানব হৃৎপিণ্ডের গঠন ও কাজ
জীববিজ্ঞান
মেন্ডেলের বংশগতি সূত্র
জীববিজ্ঞান
ডিএনএ রেপ্লিকেশন
জীববিজ্ঞান
কোষীয় শ্বসন
জীববিজ্ঞান
এনজাইম ক্রিয়া
জীববিজ্ঞান
স্নায়ু উদ্দীপনার পরিবহন ও অ্যাকশন পটেনশিয়াল
জীববিজ্ঞান
নেফ্রন ও মূত্র তৈরির প্রক্রিয়া
জীববিজ্ঞান
মিয়োসিস কোষ বিভাজন
জীববিজ্ঞান
পরিপাকতন্ত্র
গণিত
পিথাগোরাসের উপপাদ্য
গণিত
ত্রিকোণমিতিক অনুপাত ও একক বৃত্ত
গণিত
দ্বিঘাত সমীকরণ ও দ্বিঘাত ফাংশনের লেখচিত্র
গণিত
বৃত্ত সংক্রান্ত উপপাদ্য
গণিত
দূরত্ব ও উচ্চতা: উন্নতি কোণ ও অবনতি কোণ
গণিত
সম্ভাবনা: পরীক্ষালব্ধ বনাম তাত্ত্বিক সম্ভাবনা
গণিত
সমান্তর ও গুণোত্তর ধারা
গণিত






















