মূলপাতা
লগইন

Color

Indigo
Red
Green
Teal
Blue
Purple
Rose

Mode

Light
EN

নেফ্রনে রক্ত ছেঁকে মূত্র তৈরি হতে দেখো

নেফ্রন বৃক্কের গাঠনিক ও কার্যিক একক, যা রক্ত ছেঁকে মূত্র তৈরি করে তিনটি ধাপে — ছাঁকন (গ্লোমেরুলাসে), পুনঃশোষণ (নালিকায়) আর ক্ষরণ। প্রতিদিন প্রায় ১৮০ লিটার তরল ছাঁকা হলেও তার প্রায় ৯৯.১৭% পুনঃশোষিত হয়ে যায়, তাই মূত্র বেরোয় মাত্র প্রায় ১.৫০ লিটার।

বড় প্রোটিন ও রক্তকণিকা কখনো গ্লোমেরুলাস পেরিয়ে নালিকায় ঢোকে না — এটাই ছাঁকনের নির্বাচনী ধর্ম।

পানিগ্লুকোজলবণ (Na⁺/Cl⁻)ইউরিয়াপ্রোটিন/রক্তকণিকা
গতি

নিয়ন্ত্রণ

০.৪০
৯০ mg/dL

পরিমাপ

গ্লোমেরুলার ফিল্ট্রেশন হার (GFR)
১২৫mL/min
দৈনিক পরিস্রুত তরল
১৮০L
দৈনিক মূত্র
১.৫০L
পুনঃশোষিত হয়েছে
৯৯.১৭%
বৃক্কীয় প্রান্তিক মাত্রা
১৮০mg/dL
মূত্রে গ্লুকোজ
নেই (পুরোপুরি পুনঃশোষিত)
ADH হরমোনের মাত্রা
স্বাভাবিক

সিমুলেশনটি কীভাবে ব্যবহার করবে

  1. প্রথমে কিছু না বদলে দেখো: নীল পানি, হলুদ গ্লুকোজ আর সবুজ লবণের কণা গ্লোমেরুলাস পেরিয়ে নালিকায় ঢুকছে, কিন্তু লাল প্রোটিন/রক্তকণিকা কখনোই ঢুকছে না।
  2. PCT-এর পাশে সবুজ তীর বরাবর গ্লুকোজ কণাগুলো তরল থেকে বেরিয়ে রক্তনালিতে ফিরে যেতে দেখো — স্বাভাবিক মাত্রায় প্রায় সবগুলোই ফিরে যায়।
  3. রক্তে গ্লুকোজের মাত্রা স্লাইডার ২০০-এর ওপরে টেনে নাও: এখন কিছু গ্লুকোজ কণা আর ফিরছে না, বরং মূত্রের দিকে এগোচ্ছে — মূত্রে গ্লুকোজ রিডিং “আছে” দেখাবে।
  4. পানি পানের পরিমাণ কমিয়ে সর্বনিম্নে আনো: সংগ্রাহী নালিকায় বেশি পানি ফিরে যাচ্ছে দেখবে, আর দৈনিক মূত্র রিডিং কমে যাবে। এবার বাড়িয়ে সর্বোচ্চে নাও, উল্টোটা দেখবে।
  5. হেনলির লুপের অবরোহী আর আরোহী শাখার পাশের সবুজ তীরগুলো তুলনা করো: অবরোহীতে পানি ফেরে, আরোহীতে লবণ — দুটো ভিন্ন স্রোতের নীতি।

অনেক পানি খেলে বারবার বাথরুম দৌড়াতে হয় কেন

গরমের দিনে অনেক পানি খেলে ঘণ্টাখানেক পরপর বাথরুম যেতে হয়, কিন্তু কম পানি খেলে বা ঘেমে গেলে মূত্র হয় গাঢ় হলুদ আর কম পরিমাণে। শরীর যেন জানে ঠিক কতটা পানি বের করে দিতে হবে আর কতটা রেখে দিতে হবে।

এই পুরো হিসাবটা করে দুই বৃক্কের ভেতরে থাকা প্রায় দশ লক্ষ ক্ষুদ্র ছাঁকনি-নল, যাদের নাম নেফ্রন। প্রতিটা নেফ্রন প্রতিদিন রক্তের একটা বিশাল অংশ ছেঁকে নেয়, তারপর শরীরের দরকারি প্রায় সবকিছু আবার ফিরিয়ে নেয়, শুধু বর্জ্যটুকু রেখে দেয়। এই পাতার সিমুলেশনে ঠিক এই ছাঁকা-ফেরানোর খেলাটাই তুমি নিজের চোখে দেখতে পারবে।

অবাক করা তথ্য: বৃক্ক প্রতিদিন যে পরিমাণ তরল ছেঁকে নেয়, তা শরীরের মোট রক্তরসের চেয়েও বহুগুণ বেশি — কারণ একই রক্ত দিনে বহুবার বৃক্কের ভেতর দিয়ে ঘুরে আসে। হৃৎপিণ্ড থেকে বেরোনো মোট রক্তের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ প্রতি মুহূর্তে দুই বৃক্কের দিকেই যায়, যদিও দুটো বৃক্ক মিলে শরীরের মোট ওজনের এক শতাংশও হয় না — অঙ্গ হিসেবে এত ছোট, কাজে এত বড়।

একদম শুরু থেকে: নেফ্রনের গঠন

প্রতিটা নেফ্রন শুরু হয় গ্লোমেরুলাস দিয়ে — অন্তর্বাহী ধমনিকা দিয়ে ঢোকা রক্তের একটা জট-পাকানো কৈশিকজালিকা, যা বোম্যানের ক্যাপসুল নামের একটা কাপ-আকৃতির থলির ভেতরে বসানো থাকে। এখানেই রক্ত থেকে প্রথম ছাঁকন হয়।

ছাঁকা তরল (ফিল্ট্রেট) এরপর একে একে পার হয় প্রক্সিমাল কুণ্ডলিত নালিকা (PCT), তারপর হেনলির লুপ (নিচের দিকে নামা অবরোহী শাখা আর ওপরে ওঠা আরোহী শাখা), তারপর ডিস্টাল কুণ্ডলিত নালিকা (DCT), আর শেষে সংগ্রাহী নালিকা — যেখান দিয়ে যা বাকি থাকে তা মূত্র হিসেবে বৃক্ক-শ্রোণিতে গিয়ে জমা হয়।

পুরো নালিকাটা ঘিরে থাকে পেরিটিউবুলার কৈশিকজালিকা — বহির্বাহী ধমনিকা দিয়ে বেরোনো রক্ত এখানে এসে নালিকার পাশ দিয়ে বয়ে যায়, আর এখানেই পুনঃশোষিত পদার্থগুলো আবার রক্তে ফিরে আসে। নালিকার ওপরের অংশ (গ্লোমেরুলাস, PCT, DCT) থাকে বৃক্ক-বল্কলে, আর লুপ ও সংগ্রাহী নালিকা নেমে যায় বৃক্ক-মজ্জায়।

সব নেফ্রনের হেনলির লুপ সমান লম্বা না। বেশিরভাগ নেফ্রনের (কর্টিক্যাল নেফ্রন) লুপ ছোট, বৃক্ক-বল্কলের কাছাকাছি থাকে। কিন্তু প্রায় এক-পঞ্চমাংশ নেফ্রনের (জাক্সটামেডুলারি নেফ্রন) লুপ অনেক লম্বা, বৃক্ক-মজ্জার গভীরে ঢুকে যায় — এই লম্বা লুপগুলোই মূলত মজ্জার ঘনত্ব-গ্রেডিয়েন্ট তৈরি করে, যা মূত্রকে সত্যিকার অর্থে ঘন করতে সাহায্য করে।

নেফ্রনের গুরুত্বপূর্ণ শব্দগুলো

সূত্রে যাওয়ার আগে পরিভাষাগুলো ঝালিয়ে নিই।

শব্দসহজ ভাষায় অর্থ
গ্লোমেরুলাসরক্তের কৈশিকজালিকার জট, প্রথম ছাঁকন এখানেই হয়
বোম্যানের ক্যাপসুলগ্লোমেরুলাসকে ঘিরে থাকা কাপ-আকৃতির থলি, ছাঁকা তরল এখানে জমা হয়
ফিল্ট্রেট (পরিস্রুত তরল)গ্লোমেরুলাস পেরিয়ে বোম্যানের ক্যাপসুলে আসা তরল
প্রক্সিমাল কুণ্ডলিত নালিকা (PCT)নালিকার প্রথম অংশ, বেশিরভাগ পুনঃশোষণ এখানেই হয়
হেনলির লুপU-আকৃতির নালিকা, মূত্র ঘন করার প্রধান কাজ করে
ডিস্টাল কুণ্ডলিত নালিকা (DCT)শেষ ধাপের পুনঃশোষণ ও ক্ষরণের জায়গা
সংগ্রাহী নালিকাADH হরমোনের নির্দেশে চূড়ান্ত পানি পুনঃশোষণ হয় এখানে
পেরিটিউবুলার কৈশিকজালিকানালিকা ঘিরে থাকা রক্তনালি, পুনঃশোষিত পদার্থ যেখানে ফেরে
GFRপ্রতি মিনিটে গ্লোমেরুলাসে যে হারে তরল ছাঁকা হয়
বৃক্কীয় প্রান্তিক মাত্রাযে রক্ত-গ্লুকোজ মাত্রার ওপরে PCT আর সব গ্লুকোজ ফিরিয়ে নিতে পারে না
ADHপিটুইটারি গ্রন্থি নিঃসৃত হরমোন, সংগ্রাহী নালিকায় পানি পুনঃশোষণ বাড়ায়

ছাঁকন: গ্লোমেরুলাসে কী কী পার হয়, কী কী হয় না

গ্লোমেরুলাসের কৈশিকের দেয়াল একটা চালুনির মতো কাজ করে। রক্তের চাপ এখানে খুব বেশি (অন্তর্বাহী ধমনিকা বহির্বাহীর চেয়ে মোটা, তাই ভেতরে চাপ জমে থাকে), সেই চাপেই পানি, গ্লুকোজ, লবণ (Na⁺/Cl⁻) আর ইউরিয়ার মতো ছোট অণু দেয়াল পেরিয়ে বোম্যানের ক্যাপসুলে চলে যায়। একে বলে আল্ট্রাফিল্ট্রেশন — সাধারণ ছাঁকনের চেয়ে অনেক দ্রুত ও চাপ-নির্ভর।

কিন্তু রক্তের প্রোটিন (যেমন অ্যালবুমিন) আর লোহিত-শ্বেত রক্তকণিকা এত বড় যে দেয়ালের ফাঁক দিয়ে কখনোই পার হয় না — এগুলো রক্তেই থেকে যায়, বহির্বাহী ধমনিকা দিয়ে বেরিয়ে যায়। এই আকার-ভিত্তিক বাছাইটাই ছাঁকনের নির্বাচনী ধর্ম, আর এজন্যই সুস্থ মানুষের মূত্রে প্রোটিন বা রক্তকণিকা থাকার কথা না — থাকলে সেটা বৃক্কের সমস্যার লক্ষণ।

গ্লোমেরুলাসে পৌঁছানো রক্তরসের পুরোটা ছাঁকা হয় না, মাত্র একটা অংশ — একে বলে ছাঁকন-অনুপাত (filtration fraction), সাধারণত প্রায় ২০%। বাকিটা বহির্বাহী ধমনিকা দিয়ে বেরিয়ে পেরিটিউবুলার কৈশিকজালিকায় চলে যায়।

ছাঁকন-অনুপাত = GFR ÷ বৃক্কীয় রক্তরস প্রবাহ = ১২৫ ÷ ৬২৫ = ২০%একটি বাস্তবসম্মত রক্তরস প্রবাহ ধরে হিসাব

পুনঃশোষণ: PCT-তে গ্লুকোজ কেন পুরোপুরি ফিরে যায়

ছাঁকা তরলে দরকারি জিনিসও থাকে, তাই নালিকার কাজ হলো সেগুলো বেছে বেছে আবার রক্তে ফিরিয়ে নেওয়া — একে বলে নির্বাচনী পুনঃশোষণ। PCT-তেই সবচেয়ে বেশি পুনঃশোষণ হয়: প্রায় সব গ্লুকোজ, বেশিরভাগ পানি আর লবণ এখানেই সক্রিয় পরিবহন ও অভিস্রবণের মাধ্যমে রক্তে ফিরে যায়।

স্বাভাবিক অবস্থায় রক্তে গ্লুকোজের মাত্রা এত কম থাকে যে PCT-এর বাহক-প্রোটিনগুলো (ট্রান্সপোর্টার) সহজেই ছাঁকা সব গ্লুকোজ ধরে ফিরিয়ে নিতে পারে — মূত্রে গ্লুকোজ থাকে না। কিন্তু রক্তে গ্লুকোজের মাত্রা যদি বৃক্কীয় প্রান্তিক মাত্রা প্রায় ১৮০ mg/dL পার হয়ে যায় (যেমন অনিয়ন্ত্রিত ডায়াবেটিসে), তাহলে বাহক-প্রোটিনগুলো পরিপূর্ণ হয়ে যায় (স্যাচুরেশন), আর বাড়তি গ্লুকোজ ফিরে যেতে না পেরে মূত্রে চলে যায় — একে বলে গ্লুকোসুরিয়া।

এই সিমুলেশনে রক্তে গ্লুকোজের মাত্রা বাড়ালে ঠিক এই স্যাচুরেশনের প্রভাবটাই দেখা যায়: প্রান্তিকের নিচে সব গ্লুকোজ কণা ফিরে যায়, ওপরে কিছু কণা ফিরতে না পেরে মূত্রের দিকে এগোতে থাকে।

হেনলির লুপ: দুই শাখার দুই আলাদা কাজ

হেনলির লুপের আসল কৌশলটা মজার: অবরোহী শাখা পানির জন্য প্রবেশ্য কিন্তু লবণের জন্য নয়, তাই পানি বেরিয়ে বৃক্ক-মজ্জার ঘন পরিবেশে চলে যায় আর তরলটা আরও ঘন হতে থাকে। আরোহী শাখা ঠিক উল্টো — এটা পানির জন্য প্রায় অভেদ্য, কিন্তু সক্রিয়ভাবে Na⁺ ও Cl⁻ বের করে দেয়, তরলটা আবার লঘু হতে থাকে।

দুই শাখার এই বিপরীতমুখী কাজ মিলিয়ে বৃক্ক-মজ্জায় একটা লবণাক্ততার গ্রেডিয়েন্ট তৈরি হয় (ওপরে কম, নিচে বেশি ঘন), যাকে বলা হয় কাউন্টার-কারেন্ট মাল্টিপ্লায়ার। এই গ্রেডিয়েন্টের কারণেই পরে সংগ্রাহী নালিকা প্রয়োজনমতো পানি টেনে নিয়ে মূত্রকে অনেক ঘন করে ফেলতে পারে — এই কৌশল ছাড়া মানুষ কখনো রক্তের চেয়ে ঘন মূত্র তৈরি করতেই পারত না।

DCT, সংগ্রাহী নালিকা আর ADH: পানির চূড়ান্ত হিসাব

DCT-তে সামান্য বাকি পুনঃশোষণ আর কিছু ক্ষরণ হয় (যেমন বাড়তি K⁺ বা H⁺ রক্ত থেকে নালিকায় ফেলে দেওয়া, রক্তের pH ঠিক রাখতে সাহায্য করে)। কিন্তু চূড়ান্ত সিদ্ধান্তটা নেয় সংগ্রাহী নালিকা, আর সেই সিদ্ধান্ত নিয়ন্ত্রণ করে ADH (অ্যান্টিডাইইউরেটিক হরমোন) নামের একটা হরমোন, যা মস্তিষ্কের হাইপোথ্যালামাসে তৈরি হয়ে পিটুইটারি গ্রন্থি থেকে রক্তে ছাড়া হয়।

শরীরে পানি কম থাকলে (কম পানি খেলে বা ঘেমে গেলে) পিটুইটারি গ্রন্থি বেশি ADH ছাড়ে; ADH সংগ্রাহী নালিকার দেয়ালকে পানির জন্য বেশি প্রবেশ্য করে দেয়, তাই বেশি পানি ফিরে যায় আর মূত্র হয় কম ও গাঢ়। বেশি পানি খেলে উল্টোটা — ADH কমে, নালিকা কম প্রবেশ্য থাকে, বেশি পানি মূত্রে বেরিয়ে যায় ও মূত্র হয় হালকা রঙের ও প্রচুর পরিমাণে।

সিমুলেশনের পানি পানের স্লাইডার ঠিক এই ADH-এর প্রভাবটাই নিয়ন্ত্রণ করে: স্লাইডার কমালে (কম পানি, বেশি ADH) সংগ্রাহী নালিকায় বেশি পানি ফিরে যেতে দেখবে, বাড়ালে উল্টোটা। রক্তচাপ খুব কমে গেলেও শরীর ADH ছেড়ে পানি ধরে রাখার চেষ্টা করে, তাই ADH শুধু পানির নয়, রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণেরও একটা হাতিয়ার।

সূত্র: GFR থেকে দৈনিক মূত্র পর্যন্ত

GFR মানে প্রতি মিনিটে গ্লোমেরুলাসে যে হারে তরল ছাঁকা হয়, একজন সুস্থ প্রাপ্তবয়স্কে যা প্রায় ১২৫ mL/min। দিনে মিনিট আছে ৬০ × ২৪ = ১৪৪০টি, তাই দৈনিক মোট পরিস্রুত তরল বিশাল একটা সংখ্যা দাঁড়ায়।

দৈনিক পরিস্রুত তরল = GFR × ৬০ × ২৪ = ১২৫ × ১৪৪০ mL = ১৮০ Lপ্রায় ১৮০ লিটার/দিন

পুনঃশোষিত হার (%) = (পরিস্রুত তরল − মূত্র) ÷ পরিস্রুত তরল × ১০০সংগ্রাহী নালিকা পর্যন্ত

সিমুলেশনে নিজে পরীক্ষা করো

প্রতিটা পরীক্ষা আগে অনুমান করো, তারপর চালিয়ে মিলিয়ে দেখো।

  • রক্তে গ্লুকোজ ধীরে ধীরে ৬০ থেকে ৪০০ পর্যন্ত বাড়াও: কোন মাত্রায় প্রথম গ্লুকোজ কণা মূত্রের দিকে এগোতে শুরু করে?
  • পানি পানের স্লাইডার সর্বনিম্নে নিয়ে দৈনিক মূত্র রিডিং দেখো, তারপর সর্বোচ্চে নিয়ে আবার দেখো — পার্থক্যটা কত গুণ?
  • লাল প্রোটিন/রক্তকণিকা কণাগুলো লক্ষ করো: এরা কখনো গ্লোমেরুলাস পেরিয়ে নালিকায় ঢোকে কি না পুরো সিমুলেশন চলাকালীন যাচাই করো।
  • সবুজ লবণ কণাগুলো কোথায় নালিকা ছেড়ে যাচ্ছে দেখো — অবরোহী শাখায় না আরোহী শাখায়?
  • দৈনিক পরিস্রুত তরল আর দৈনিক মূত্রের রিডিং দুটো পাশাপাশি রেখে পুনঃশোষিত হার (%) নিজে ভাগ করে মিলিয়ে দেখো।

গাণিতিক সমস্যা ও সমাধান

প্রতিটা সমাধানে সূত্র লিখে তারপর মান বসানো হয়েছে।

সমস্যা ১: GFR থেকে দৈনিক পরিস্রুত তরল

GFR = ১২৫ mL/min। দিনে মিনিট = ১৪৪০। দৈনিক পরিস্রুত তরল = ১২৫ × ১৪৪০ ÷ ১০০০ = ১৮০ লিটার। সিমুলেশনের রিডিং প্যানেলে এটাই দেখাবে।

সমস্যা ২: ডিফল্ট পানি পান স্লাইডারে পুনঃশোষিত হার

পানি পান স্লাইডার ০.৪-এ থাকলে দৈনিক মূত্র = ১.৫০ লিটার। পুনঃশোষিত পরিমাণ = ১৮০ − ১.৫০ = ১৭৮.৫ লিটার। পুনঃশোষিত হার = (১৭৮.৫ ÷ ১৮০) × ১০০ = ৯৯.১৭% — পাঠ্যবইয়ের “প্রায় ৯৯%” কথাটার সাথে মিলে যায়।

সমস্যা ৩: স্লাইডারের দুই প্রান্তে মূত্রের পরিমাণ

পানি পান সর্বনিম্নে (বেশি ADH, পানিশূন্যতা): মূত্র = ০.৫ লিটার, পুনঃশোষিত হার = ৯৯.৭২%। সর্বোচ্চে (কম ADH, প্রচুর পানি): মূত্র = ৩.০ লিটার, পুনঃশোষিত হার = ৯৮.৩৩%। একই ১৮০ লিটার পরিস্রুত তরল থেকে ছয় গুণ ভিন্ন মূত্রের পরিমাণ বেরোতে পারে, শুধু ADH-এর তারতম্যে।

সমস্যা ৪: স্বাভাবিক গ্লুকোজে ফিল্টার্ড লোড

রক্তে গ্লুকোজ ৯০ mg/dL = ৯০/১০০ mg/mL। ফিল্টার্ড লোড = GFR × ঘনত্ব = ১২৫ × (৯০/১০০) = ১১২.৫ mg/min। এই মাত্রা PCT-এর বাহক-প্রোটিনের ক্ষমতার তুলনায় অনেক কম, তাই পুরোটাই ফিরে যায়, মূত্রে গ্লুকোজ থাকে না।

সমস্যা ৫: প্রান্তিক মাত্রায় ফিল্টার্ড লোড

ঠিক প্রান্তিক মাত্রা ১৮০ mg/dL-এ ফিল্টার্ড লোড = ১২৫ × (১৮০/১০০) = ২২৫.০ mg/min। এই মানের কাছাকাছিই PCT-এর বাহক-প্রোটিনগুলো পরিপূর্ণ হতে শুরু করে (বাস্তবে সামান্য বিচ্যুতিসহ, কারণ সব নেফ্রনের ক্ষমতা ঠিক এক নয়)।

সমস্যা ৬: অনিয়ন্ত্রিত ডায়াবেটিসে বাড়তি গ্লুকোজ

রক্তে গ্লুকোজ ৩০০ mg/dL হলে ফিল্টার্ড লোড = ১২৫ × (৩০০/১০০) = ৩৭৫.০ mg/min। প্রান্তিক মাত্রার লোডের চেয়ে বাড়তি = ৩৭৫.০ − ২২৫.০ = ১৫০.০ mg/min — এই বাড়তি অংশটাই ফিরতে না পেরে প্রতি মিনিটে মূত্রে যোগ হয়।

সমস্যা ৭: দৈনিক ফিল্টার্ড সোডিয়াম

রক্তরসে Na⁺ প্রায় ১৪০ mEq/L ধরলে, দৈনিক ফিল্টার্ড লোড = ১৪০ × ১৮০ = ২৫,২০০ mEq/day। এত বিশাল পরিমাণ লবণের প্রায় পুরোটাই যদি পুনঃশোষিত না হতো, শরীর কয়েক ঘণ্টাতেই বিপজ্জনকভাবে লবণশূন্য হয়ে যেত — তাই পুনঃশোষণ কতটা জরুরি বোঝা যায়।

সমস্যা ৮: ঘণ্টাপ্রতি পরিস্রুত তরল

দৈনিক ১৮০ লিটারকে ২৪ ঘণ্টা দিয়ে ভাগ করলে ঘণ্টাপ্রতি পরিস্রুত তরল = ৭.৫০ লিটার — অর্থাৎ প্রতি ঘণ্টায় শরীরের প্রায় পুরো রক্তরসের সমান তরল একবার ছেঁকে নেওয়া হয়।

যে ভুলগুলো সবাই করে

এই ভুলগুলো এড়ালে পরীক্ষায় নম্বর কাটার ভয় থাকে না, বিশেষ করে অনুধাবন আর প্রয়োগভিত্তিক প্রশ্নে।

  • “মূত্র মানেই বাড়তি রক্ত ছেঁকে ফেলে দেওয়া” ভাবা। আসলে প্রতিদিন ১৮০ লিটার ছাঁকা হলেও প্রায় ৯৯% আবার শোষে নেওয়া হয়; মূত্র হলো যা শোষণ করা হয়নি তার অবশিষ্টাংশ।
  • গ্লুকোজ স্বাভাবিকভাবেই মূত্রে কিছুটা থাকে ভাবা। সুস্থ মানুষের মূত্রে গ্লুকোজ থাকার কথাই না; থাকলে সেটা রক্তে গ্লুকোজ প্রান্তিক মাত্রা পার হওয়ার লক্ষণ।
  • ছাঁকন আর পুনঃশোষণ গুলিয়ে ফেলা। ছাঁকন গ্লোমেরুলাসে হয় (বড়-ছোট আলাদা করা), পুনঃশোষণ নালিকায় হয় (দরকারিটা ফিরিয়ে নেওয়া) — দুটো সম্পূর্ণ ভিন্ন ধাপ।
  • অবরোহী আর আরোহী শাখার কাজ উল্টে ফেলা। অবরোহী শাখা পানি ছাড়ে, আরোহী শাখা লবণ ছাড়ে — উল্টোটা নয়।
  • ADH বাড়লে মূত্র বাড়ে ভাবা। ADH বাড়লে সংগ্রাহী নালিকা বেশি পানি ফিরিয়ে নেয়, তাই মূত্র বরং কমে ও ঘন হয়।
  • সব নেফ্রনের হেনলির লুপ সমান লম্বা ভাবা। বেশিরভাগ নেফ্রনের লুপ ছোট (কর্টিক্যাল); মাত্র এক-পঞ্চমাংশের (জাক্সটামেডুলারি) লুপ লম্বা, কিন্তু মূত্র ঘন করার মূল কাজটা এরাই করে।

বাস্তব জীবনে ও চিকিৎসাবিজ্ঞানে

একই ছাঁকন-পুনঃশোষণ নীতি রোগ নির্ণয়, ওষুধ আর কৃত্রিম বৃক্ক — সবকিছুর ভিত্তি। একবার এই নীতিটা বুঝে গেলে বৃক্ক-সম্পর্কিত যেকোনো রোগ বা পরীক্ষার ফলাফল ব্যাখ্যা করাটা অনেক সহজ হয়ে যায়।

  • ডায়াবেটিস মেলিটাসে রক্তে গ্লুকোজ প্রান্তিক মাত্রা পার হয়ে গেলে মূত্রে গ্লুকোজ ধরা পড়ে — এই নীতির ওপর ভিত্তি করেই তৈরি হয়েছিল প্রথম মূত্র-গ্লুকোজ পরীক্ষা।
  • বৃক্ক বিকল হয়ে গেলে ডায়ালাইসিস যন্ত্র নেফ্রনের কাজটাই বাইরে থেকে করে দেয় — রক্ত থেকে বর্জ্য ছেঁকে নিয়ে পরিষ্কার রক্ত ফিরিয়ে দেয়। যন্ত্রটাতে একটা অর্ধভেদ্য পর্দার দুই পাশ দিয়ে রক্ত আর একটা বিশেষ তরল উল্টো দিকে বইয়ে দেওয়া হয়, ঠিক যেন কৃত্রিমভাবে নেফ্রনের ছাঁকন-বিনিময় নীতিটাই নকল করা।
  • ডায়াবেটিস ইনসিপিডাস নামের বিরল রোগে ADH ঠিকমতো কাজ করে না, ফলে রোগী দিনে অনেক লিটার পাতলা মূত্র ত্যাগ করে আর সবসময় তেষ্টা পায়।
  • মূত্রবর্ধক ওষুধ (ডাইইউরেটিক) নালিকার পুনঃশোষণ কমিয়ে দিয়ে বেশি পানি-লবণ বের করে দেয় — উচ্চ রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে ব্যবহৃত হয়।
  • গর্ভাবস্থায় নিয়মিত মূত্র পরীক্ষায় গ্লুকোজ, প্রোটিন খোঁজা হয় — কোনোটা পাওয়া গেলে তা গর্ভকালীন ডায়াবেটিস বা বৃক্কের সমস্যার প্রাথমিক সংকেত হতে পারে।
  • উচ্চ রক্তচাপের রোগীদের প্রায়ই লবণ কম খেতে বলা হয়, কারণ শরীরে বাড়তি লবণ থাকলে তার সাথে পানিও ধরে রাখতে হয় (অভিস্রবণের নিয়মে), আর সেই বাড়তি তরল রক্তচাপ আরও বাড়িয়ে দেয় — নেফ্রনের লবণ-পানির ভারসাম্য রাখার কাজটাই তাই সরাসরি রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণের সাথে জড়িয়ে আছে।
  • ম্যারাথন দৌড়বিদরা বা মরুভূমিতে কাজ করা মানুষেরা অনেক ঘাম ঝরিয়ে প্রচুর পানি হারান, তখন তাদের ADH মাত্রা স্বাভাবিকের চেয়ে অনেক বেড়ে যায় আর মূত্র প্রায় থেমেই যায় — শরীরের পানি বাঁচানোর শেষ চেষ্টা।

পরীক্ষার কর্নার: SSC ও HSC

নবম-দশম শ্রেণির জীববিজ্ঞানের মানব রেচন অধ্যায়ে আর HSC জীববিজ্ঞান দ্বিতীয় পত্রের বর্জ্য ও নিষ্কাশন অধ্যায়ে নেফ্রন ও মূত্র তৈরি নিয়মিত আসে। জ্ঞানমূলক প্রশ্নে গঠন-সংজ্ঞা, অনুধাবনে “গ্লুকোজ মূত্রে কেন আসে না” বা “ADH বাড়লে কী হয়”, আর উচ্চতর দক্ষতায় GFR-ভিত্তিক অঙ্ক আসে।

একটি নমুনা সৃজনশীল প্রশ্ন

উদ্দীপক: রুবেলের নিয়মিত মূত্র পরীক্ষায় গ্লুকোজ পাওয়া গেল, যদিও তার প্রোটিন পাওয়া যায়নি।

ক) GFR কাকে বলে? খ) বৃক্কীয় প্রান্তিক মাত্রা বলতে কী বোঝায়? গ) রুবেলের মূত্রে প্রোটিন না থাকলেও গ্লুকোজ থাকার কারণ ব্যাখ্যা করো। ঘ) “রুবেলের বৃক্ক ঠিকমতো কাজ করছে না” — উক্তিটির যথার্থতা বিশ্লেষণ করো।

ঘ-এর উত্তরের মূল কথা: প্রোটিন অনুপস্থিতি বলছে ছাঁকন-ব্যবস্থা (গ্লোমেরুলাস) ঠিক আছে; গ্লুকোজ উপস্থিতি বলছে সমস্যাটা রক্তের গ্লুকোজ মাত্রায় (প্রান্তিক ১৮০ mg/dL পার হয়েছে), নালিকার ত্রুটিতে নয়। তাই উক্তিটি সরাসরি যথার্থ নয়; এটা ডায়াবেটিসের লক্ষণ হতে পারে, বৃক্কের গঠনগত সমস্যা নয়।

রিভিশন: শেষ মুহূর্তের সারসংক্ষেপ

পরীক্ষার আগের রাতে শুধু এই তালিকা আর ওপরের সূত্রগুলো দেখে নিলেই যথেষ্ট।

  • GFR ≈ ১২৫ mL/min ⇒ দৈনিক পরিস্রুত তরল ≈ ১৮০ লিটার, দৈনিক মূত্র ≈ ১–২ লিটার (প্রায় ৯৯% পুনঃশোষিত)।
  • ছাঁকন গ্লোমেরুলাসে: ছোট অণু (পানি, গ্লুকোজ, লবণ, ইউরিয়া) পার হয়; বড় অণু (প্রোটিন, রক্তকণিকা) কখনো না।
  • PCT-তে প্রায় সব গ্লুকোজ, বেশিরভাগ পানি-লবণ পুনঃশোষিত হয়; প্রান্তিক মাত্রা পার হলে গ্লুকোজ মূত্রে চলে যায় (গ্লুকোসুরিয়া)।
  • হেনলির লুপ: অবরোহী শাখা পানি ছাড়ে, আরোহী শাখা লবণ ছাড়ে — কাউন্টার-কারেন্ট মাল্টিপ্লায়ার তৈরি করে।
  • সংগ্রাহী নালিকায় ADH চূড়ান্ত পানি পুনঃশোষণ নিয়ন্ত্রণ করে — বেশি ADH মানে কম, ঘন মূত্র।
  • DCT-তে সামান্য ক্ষরণও হয় (K⁺, H⁺), যা রক্তের pH ও আয়ন ভারসাম্য ঠিক রাখতে সাহায্য করে।

সচরাচর জিজ্ঞাসা

নেফ্রন কাকে বলে?

বৃক্কের গাঠনিক ও কার্যিক একক, যা রক্ত ছেঁকে ছাঁকন, পুনঃশোষণ ও ক্ষরণের মাধ্যমে মূত্র তৈরি করে। প্রতিটা বৃক্কে প্রায় দশ লক্ষ নেফ্রন থাকে।

GFR কী আর এর স্বাভাবিক মান কত?

গ্লোমেরুলার ফিল্ট্রেশন রেট (GFR) মানে প্রতি মিনিটে গ্লোমেরুলাসে যে হারে তরল ছাঁকা হয়। একজন সুস্থ প্রাপ্তবয়স্কে এটা প্রায় ১২৫ mL/min, অর্থাৎ দৈনিক প্রায় ১৮০ লিটার।

প্রতিদিন ১৮০ লিটার ছাঁকা হলেও মূত্র মাত্র দেড় লিটার কেন?

কারণ পরিস্রুত তরলের প্রায় ৯৯% নালিকায় পুনরায় শোষিত হয়ে রক্তে ফিরে যায়। বাকি প্রায় ১–২ লিটারই মূত্র হিসেবে বেরিয়ে আসে।

বড় প্রোটিন বা রক্তকণিকা মূত্রে থাকে না কেন?

গ্লোমেরুলাসের কৈশিক-দেয়াল একটা আকার-ভিত্তিক চালুনির মতো কাজ করে — প্রোটিন আর রক্তকণিকা এত বড় যে দেয়াল পেরিয়ে বোম্যানের ক্যাপসুলে ঢুকতেই পারে না, রক্তেই থেকে যায়।

বৃক্কীয় প্রান্তিক মাত্রা কী?

যে রক্ত-গ্লুকোজ ঘনত্বের ওপরে PCT-এর বাহক-প্রোটিনগুলো ছাঁকা সব গ্লুকোজ আর ফিরিয়ে নিতে পারে না, তাকে বৃক্কীয় প্রান্তিক মাত্রা বলে — সাধারণত প্রায় ১৮০ mg/dL।

ADH কী করে?

ADH (অ্যান্টিডাইইউরেটিক হরমোন) সংগ্রাহী নালিকার দেয়ালকে পানির জন্য বেশি প্রবেশ্য করে দেয়, তাই বেশি পানি রক্তে ফিরে যায় আর মূত্র হয় কম ও ঘন। ADH কমলে উল্টোটা ঘটে।

হেনলির লুপের কাজ কী?

অবরোহী শাখা পানি ছেড়ে দেয়, আরোহী শাখা লবণ ছেড়ে দেয় — এই বিপরীতমুখী কাজে বৃক্ক-মজ্জায় একটা ঘনত্ব-গ্রেডিয়েন্ট তৈরি হয়, যা পরে সংগ্রাহী নালিকাকে মূত্র ঘন করতে সাহায্য করে।

ডায়াবেটিসে মূত্রে গ্লুকোজ আসে কেন?

রক্তে গ্লুকোজের মাত্রা বৃক্কীয় প্রান্তিক মাত্রা (প্রায় ১৮০ mg/dL) পার হয়ে গেলে PCT-এর বাহক-প্রোটিনগুলো পরিপূর্ণ হয়ে যায়, তাই বাড়তি গ্লুকোজ ফিরিয়ে নেওয়া যায় না আর মূত্রে চলে যায়।

ছাঁকন আর পুনঃশোষণের মধ্যে পার্থক্য কী?

ছাঁকন গ্লোমেরুলাসে হয়, যেখানে রক্তের চাপে ছোট অণু বোম্যানের ক্যাপসুলে চলে যায়। পুনঃশোষণ নালিকা জুড়ে হয়, যেখানে দরকারি পানি, গ্লুকোজ ও লবণ আবার রক্তে ফিরিয়ে নেওয়া হয়।

ক্ষরণ (সিক্রেশন) কী?

রক্ত থেকে সরাসরি নালিকায় (মূলত DCT-তে) বাড়তি K⁺, H⁺ বা কিছু ওষুধ ঠেলে দেওয়ার প্রক্রিয়া, যা রক্তের pH ও আয়ন ভারসাম্য বজায় রাখতে সাহায্য করে।

কর্টিক্যাল ও জাক্সটামেডুলারি নেফ্রনের পার্থক্য কী?

কর্টিক্যাল নেফ্রনের হেনলির লুপ ছোট, বৃক্ক-বল্কলের কাছে থাকে; সংখ্যায় এরাই বেশি। জাক্সটামেডুলারি নেফ্রনের লুপ অনেক লম্বা, বৃক্ক-মজ্জার গভীরে ঢোকে, আর মূত্র ঘন করার মূল কাজটা এরাই করে।

দুই বৃক্ক শরীরের মোট রক্তের কতটা পায়?

হৃৎপিণ্ড থেকে বেরোনো মোট রক্তের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ প্রতি মুহূর্তে দুই বৃক্কের দিকে যায়, যদিও বৃক্ক দুটো মিলে শরীরের মোট ওজনের এক শতাংশও হয় না — এত বিশাল রক্ত-প্রবাহ ছাড়া প্রতিদিন ১৮০ লিটার ছাঁকা সম্ভবই না।

এই বিষয়ের আরও পড়াশোনা

অ্যানিমেশনে ধারণা পরিষ্কার হলো, এবার পরীক্ষার প্রস্তুতি: সিলেবাস, সাজেশন, বই আর ভর্তি পরীক্ষার গাইড নিচে।

আরও জীববিজ্ঞান অ্যানিমেশন

SSC · HSC

মাইটোসিস কোষ বিভাজন

মাইটোসিস কাকে বলে, কোষ বিভাজন কত প্রকার ও কী কী? প্রোফেজ, মেটাফেজ, অ্যানাফেজ, টেলোফেজ ও সাইটোকাইনেসিস চলমান চিত্রে দেখো, ক্রোমোজোম গোনার নিয়মসহ।

SSC · HSC

ব্যাপন ও অভিস্রবণ

ব্যাপন ও অভিস্রবণ কাকে বলে, এদের মধ্যে পার্থক্য, প্লাজমোলাইসিস, রসস্ফীতি ও ইমবাইবিশন: কণার সিমুলেশনে নিজে দেখে সহজ ভাষায় শেখো, উদাহরণ ও গাণিতিক সমস্যাসহ।

SSC · HSC

সালোকসংশ্লেষণ

সালোকসংশ্লেষণ কাকে বলে, সমীকরণ, আলোক ও অন্ধকার পর্যায়, ক্যালভিন চক্র, প্রভাবক ও সীমাবদ্ধ উপাদান: পাতা, হাইড্রিলা আর ক্লোরোপ্লাস্টের অ্যানিমেশনে নিজে দেখো।

SSC · HSC

মানব হৃৎপিণ্ডের গঠন ও কাজ

হৃৎপিণ্ডের চারটি প্রকোষ্ঠ, কপাটিকা, লাব-ডাব শব্দ আর চলমান ইসিজি একসাথে দেখো। দ্বিচক্রী সংবহন, হৃৎচক্র ও কার্ডিয়াক আউটপুট শেখো, গাণিতিক সমস্যাসহ।

SSC · HSC

মেন্ডেলের বংশগতি সূত্র

মেন্ডেলের সূত্র, একসংকর ও দ্বিসংকর জনন, টেস্ট ক্রস, অসম্পূর্ণ প্রকটতা, রক্তের গ্রুপ আর সন্তানের লিঙ্গ নির্ধারণ — নিজে পানেট বর্গ বানিয়ে বংশগতির অনুপাত হিসাব করে দেখো।

HSC

ডিএনএ রেপ্লিকেশন

ডিএনএ রেপ্লিকেশন বা অনুলিপন কাকে বলে, অর্ধ-রক্ষণশীল পদ্ধতি, এনজাইমগুলোর কাজ আর মেসেলসন-স্টাল পরীক্ষা—সব অ্যানিমেশনে নিজে দেখো ও হিসাব করো।

SSC · HSC

কোষীয় শ্বসন

কোষীয় শ্বসন কাকে বলে, সবাত ও অবাত শ্বসনের পার্থক্য, গ্লাইকোলাইসিস, ক্রেবস চক্র, ইলেকট্রন প্রবাহতন্ত্র আর ATP হিসাব: মাইটোকন্ড্রিয়ার অ্যানিমেশনে নিজে দেখো ও গণনা করো।

SSC · HSC

এনজাইম ক্রিয়া

এনজাইম কী, সক্রিয় স্থান, তালা-চাবি ও আবিষ্ট মিলন মডেল, তাপমাত্রা-pH-এর প্রভাব, মিকেলিস-মেন্টেন সমীকরণ ও প্রতিবন্ধক — নিজে বদলে দেখো এনজাইম ক্রিয়ার অ্যানিমেশনে।

SSC · HSC

স্নায়ু উদ্দীপনার পরিবহন ও অ্যাকশন পটেনশিয়াল

প্রান্তিক মাত্রা (−৫৫ mV) পার হলেই অ্যাকশন পটেনশিয়াল তৈরি হয়ে অ্যাক্সন বেয়ে ছোটে, তারপর সিন্যাপসে নিউরোট্রান্সমিটার নিঃসৃত হয় — সিমুলেশনে নিজে চালিয়ে দেখো, সূত্র ও গাণিতিক উদাহরণসহ।

SSC · HSC

মিয়োসিস কোষ বিভাজন

মিয়োসিস কাকে বলে, ক্রসিং ওভার কী, মাইটোসিস ও মিয়োসিসের পার্থক্য কী: 2n = 4 কোষে প্রোফেজ I থেকে টেলোফেজ II পর্যন্ত নিজে চালিয়ে দেখো, সমাধান করা অঙ্কসহ।

SSC

পরিপাকতন্ত্র

পরিপাকতন্ত্র কী, কোন এনজাইম কোথায় কাজ করে, ভিলাই কীভাবে শোষণ করে: মুখ থেকে বৃহদান্ত্র পর্যন্ত খাদ্যের যাত্রা নিজে চালিয়ে দেখো, সমাধান করা অঙ্কসহ।

অন্য বিষয়ের অ্যানিমেশন

পদার্থবিজ্ঞান

আলোর প্রতিসরণ

পদার্থবিজ্ঞান

ওহমের সূত্র

পদার্থবিজ্ঞান

প্রাসের গতি

পদার্থবিজ্ঞান

সরল দোলক

পদার্থবিজ্ঞান

তড়িৎ ক্ষেত্র

পদার্থবিজ্ঞান

তরঙ্গের ব্যতিচার

পদার্থবিজ্ঞান

পড়ন্ত বস্তু ও পড়ন্ত বস্তুর সূত্র

পদার্থবিজ্ঞান

লেন্সে প্রতিবিম্ব গঠন

পদার্থবিজ্ঞান

নিউটনের গতির সূত্র

পদার্থবিজ্ঞান

গোলীয় দর্পণে প্রতিবিম্ব গঠন

পদার্থবিজ্ঞান

তড়িৎচুম্বকীয় আবেশ ও ফ্যারাডের সূত্র

পদার্থবিজ্ঞান

ভরবেগের সংরক্ষণ ও সংঘর্ষ

পদার্থবিজ্ঞান

কাজ, ক্ষমতা ও শক্তি

পদার্থবিজ্ঞান

নততল

রসায়ন

পরমাণুর গঠন

রসায়ন

এসিড, ক্ষারক ও pH স্কেল

রসায়ন

ইলেকট্রন বিন্যাস

রসায়ন

গ্যাসের সূত্র: বয়েল, চার্লস ও আদর্শ গ্যাস সমীকরণ

রসায়ন

আয়নিক বন্ধন কীভাবে গঠিত হয়

রসায়ন

তড়িৎ বিশ্লেষণ ও ফ্যারাডের সূত্র

রসায়ন

সমযোজী বন্ধন

রসায়ন

পর্যায়বৃত্ত ধর্ম

গণিত

পিথাগোরাসের উপপাদ্য

গণিত

ত্রিকোণমিতিক অনুপাত ও একক বৃত্ত

গণিত

দ্বিঘাত সমীকরণ ও দ্বিঘাত ফাংশনের লেখচিত্র

গণিত

বৃত্ত সংক্রান্ত উপপাদ্য

গণিত

দূরত্ব ও উচ্চতা: উন্নতি কোণ ও অবনতি কোণ

গণিত

সম্ভাবনা: পরীক্ষালব্ধ বনাম তাত্ত্বিক সম্ভাবনা

গণিত

সমান্তর ও গুণোত্তর ধারা

গণিত

গড়, মধ্যক ও প্রচুরক